
মাগুরায় স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষের সময় অস্ত্র হাতে এক যুবকের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ ওই যুবককে খুঁজছে। তবে ঘটনার একদিন পরেও তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি বারিউর ইসলাম রিয়াদ বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে বিএনপির একটি মিছিল জেলা জজ আদালতের দিক থেকে আসছিল। মিছিলের একটি অংশ চৌরঙ্গী মোড় পার করে সৈয়দ আতল আলী সড়কে প্রবেশ করে। এ সময় ছাত্রলীগের একটি দল লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে ওই মিছিলে হামলা চালায়। এতে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরে বিএনপির কর্মীরাও লাঠিসোঁটা নিয়ে ছাত্রলীগ কর্মীদের কলেজ রোডের দিকে ধাওয়া দেয়।
তখন কলেজ রোডের দিক থেকে একটি গুলির শব্দ পাওয়া যায়। পরে গুলির খোসাও দেখেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রাতে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে একটি ভিডিও।
এদিকে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, মুখে মাস্ক ও মাথায় ক্যাপ পরা এক যুবক অস্ত্র নিয়ে সংষর্ঘস্থলের দিকে যাচ্ছেন। ভিডিওটি কলেজ রোডের একটি বিপণিবিতান থেকে ধারণ করা হয়। তাতে দেখা যায়, মাগুরা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে এক যুবক অস্ত্র নিয়ে নাড়াচাড়া করছেন।
মুখোশ পরিহিত অস্ত্রধারী যুকককে অনেকেই ছাত্রলীগের কর্মী দাবি করলেও জেলা ছাত্রলীগের নেতারা তা অস্বীকার করেছেন।
এদিকে স্বেচ্ছাসেবক দলের মিছিল থেকে একাধিকবার গুলিবর্ষণ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হামিদুল ইসলাম। স্থানীয়রা বলছেন, সংঘর্ষের সময় দুই দলের মধ্যেই গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে কেউ গুলিবিদ্ধ হয়নি।
মাগুরা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাহিদ খাঁন বলেন, ফেসবুকে অস্ত্রধারী যুবকের যে ছবি ও ভিডিও দেওয়া হয়েছে, সেই যুবক আমাদের পরিচিত কেউ নন।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক গোলাম জাহিদ বলেন, অস্ত্র হাতে ভাইরাল হওয়া যুবক ছাত্রলীগের কর্মী। এরপরও আমাদের নেতাকর্মীদেরই প্রশাসন দিয়ে হয়তো হয়রানি করা হবে।
মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সেকেন্দার আলী গণমাধ্যমকে বলেন, অস্ত্র হাতে যুবকের ছবিটি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা তার পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। পরিচয় জানতে পারলেই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। তবে ওই অস্ত্র থেকে গুলি করার কোনো তথ্য আমাদের জানা নেই এবং কেউ গুলিবিদ্ধও হয়নি।




