
কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে নাফ নদীতে আবারও নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। সকালে শিশু ও নারীসহ আট রোহিঙ্গার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আরো দুই রোহিঙ্গার মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। এ নিয়ে ১০ রোহিঙ্গা মুসলিমের মরদেহ উদ্ধার করা হলো।
মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আসার পথে সোমবার ভোরে শাহপরীর দ্বীপের ডাঙ্গাপাড়া পয়েন্টে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে গেলো ২৫ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত ২৬টি নৌকা ও ট্রলারডুবির ঘটনায় অন্তত ২০০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলো। নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু ও নারী।
স্থানীয় সাবরাং ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নুরুল আমিন জানান, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা অন্তত ৬৫ জন রোহিঙ্গাবাহী একটি নৌকা ভোরে সাগরে ডুবে যায়।
টেকনাফ থানার ওসি (তদন্ত) শেখ আশরাফুজ্জামান জানিয়েছেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে তাদের সহায়তায় কোস্টগার্ড ও পুলিশ হতাহতদের উদ্ধারে নেমেছে। এখন পর্যন্ত ১০ রোহিঙ্গার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহগুলো উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে দাফনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
ডুবে যাওয়া নৌকা থেকে স্থানীয়রা ২১ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছেন। এসব রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন, তাদের আরো অন্তত ৩৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নৌকার আরোহীদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই ছিল শিশু।
প্রসঙ্গত, ২৫ আগস্ট রাখাইনে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও স্থানীয় উগ্রপন্থি বৌদ্ধরা মুসলিম রোহিঙ্গাদের ওপর দমন অভিযান শুরু করে। এরপর থেকে জাতিসংঘের হিসাবে পাঁচ লাখ ৩৬ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
সেনাবাহিনীর এই অভিযানে অন্তত পাঁচ হাজার রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। জাতিসংঘ একে ‘গণহত্যা’ ও ‘জাতিগত নিধন’ আখ্যায়িত করেছে।
জেবি




