
নওগাঁয় ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে মামুনুর রশিদ (৩২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (২০ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সদর উপজেলার বক্তারপুর-চাকলা রাস্তায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহত মামুনুর রশিদ সদর উপজেলার দুবলহাটি ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের আবুল কালামের ছেলে।
তিনি প্রাণ আরএফএল গ্রুপের সেলসম্যান হিসেবে চাকরি করতেন।
জানা যায়, সকালে মামুনুর রশিদ ব্যাটারিচালিত অটো নিয়ে বিভিন্ন পণ্য ডেলভারী দিতে বদলগাছী উপজেলার উদ্দেশে বের হয়ে যান। বিকেলে পণ্য ডেলিভারী শেষে নওগাঁ শহরে ফিরছিলেন। এ সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছালে কয়েকজন মোটরসাইকেল নিয়ে পথরোধ করে তার কাছে থাকা টাকা চাইলে তিনি দিতে রাজি না হলে এক পর্যায়ে ছিনতাইকারীরা তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করে টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করলে সন্ধ্যা ৭টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

প্রাণ আরএফএল গ্রুপের নওগাঁর ডিলার আব্দুল জলিল বলেন, মামুন সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতো। প্রতিদিনের ন্যায় আজ সকালে পণ্যবাহী গাড়ি নিয়ে বদলগাছীর উপজেলায় পণ্য নিয়ে বের হয়ে যায়। পণ্য ডেলিভারি শেষে বিকেলে বক্তারপুর এলাকায় রাস্তায় তার পথরোধ করে বেশ কয়েক যুবক তাকে ছুরি মেরে তার কাছে থাকা ২৫-৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে সে মারা যায়। রাস্তা হয়তো ফাঁকা ছিল। যার কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে।
নওগাঁ সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. রাকিব হোসেন বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় মামুনুর রশীদ মামুনকে বিকেল ৫টার দিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এ সময় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ৬টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। বুকের আঘাত বেশি গুরুতর হওয়ায় এবং ফুসফুসে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যায়।
নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়সাল বিন আহসান বলেন, ঘটনাটি জানার পর আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। কারা এ ঘটনার সাথে জড়িত সে বিষয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। আশা করি দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।




