
কারাগারে মাদক নিয়ন্ত্রণে একের পর এক পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। মেটাল ডিটেক্টর বসানো হচ্ছে। কিন্তু এর ফাঁকফোঁকর দিয়েও মাদক ঢুকছে। তারপরেও আমরা চেষ্টা করছি যাতে কোনোভাবেই মাদক কারাগারে প্রবেশ করতে না পারে ও বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।
বুধবার নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে নির্মিত ‘রিজিলিয়ান্স’ নামের গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রি ও জামদানি পণ্য উৎপাদন কেন্দ্র ও ছয় তলাবিশিষ্ট সেল ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন মন্ত্রী।
এরপর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভায়ও মাদকের বিস্তার নিয়ে কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি জানান, মাদকের ব্যাপারে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচির সঙ্গেও কথা বলেছেন তিনি। এ বিষয়ে সুচিও অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন। জানিয়েছেন, তার দেশেও যুব সমাজ ইয়াবায় আসক্ত হয়ে যাচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, আমি তাকে (সুচি) জানিয়েছি সীমান্তের আশেপাশের এসব কারখানা (ইয়াবা তৈরির) বন্ধ করে দিতে। তিনি আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন। আজ না হয় কাল কিন্তু একসময়ে তা বন্ধ হবেই।
তিনি বলেন, প্রতিটি কারাগার হলো বন্দিদের সংশোধনাগার। কারাগারে কারাবন্দিদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।’
কামাল জানান, অনেক কারাবন্দি তাদের পরিবার পরিজনের সঙ্গে কথা বলতে চায়। কারাগারে নিয়ম মেনে নতুন করে টেলিফোনে কথা বলার সুযোগ দেয়া হবে। এই কথোপকথনের রেকর্ড সংরক্ষিত রাখা হবে বলেও জানান তিনি।
পরে মন্ত্রী নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সম্মেলন কক্ষের উদ্বোধন করেন। আর সেখানে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনীতিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।
মন্ত্রীর সামনে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানার গাড়ি সংকট, মাদক, মহাসড়কে যানজটের বিষয়গুলো তুলে ধরে এর সমাধান চান স্থানীয় সংসদ সদস্য ও রাজনীতিকরা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় অনেক পুলিশ স্টেশনেই গাড়ি সমস্যা আছে। এছাড়া গত সাড়ে ৯ বছরে পুলিশে ৮০ হাজার লোকবল বৃদ্ধি করা হয়েছে। পুলিশ এখন আগের চেয়েও দক্ষ।
যানজট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, নারায়ণগঞ্জের এসপি ও ডিসিকে বলব প্রাথমিক একটি প্রতিবেদন দেবেন কেন যানজট সৃষ্টি হয়। আমরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেব।
জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে মতবিনিময়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব ফরিদউদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী, কারা মহাপরিদর্শক সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন, নারায়ণগঞ্জের পাঁচ সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান, শামীম ওসমান, গাজী গোলাম দস্তগীর, নজরুল ইসলাম বাবু, পুলিশ সুপার মঈনুল হক, র্যাব-১১ এর ক্যাম্প কমান্ডার কামরুল হাসান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার সুভাষ কুমার ঘোষ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সবশেষে মন্ত্রী নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার বিসিক শিল্প নগরীতে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন উদ্বোধন করেন। সেখানে তিনি দেশের প্রতিটি অঞ্চলে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণের ঘোষণা দেন।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক আলী আহমেদ খান এসময় উপস্থিত ছিলেন।
জেবি/ এমকে




