
বাংলাদেশের উপকূলে প্রতিদিনই চলছে অবৈধ বেহুন্দি জালের ভয়ঙ্কর ব্যবহার, যা নিধন করছে কোটি কোটি মাছের পোনা এবং সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য। শিকারের স্বপ্ন নিয়ে সমুদ্রে নামা জেলেদের এই জালই হুমকিতে ফেলছে দেশের সম্ভাবনাময় সুনীল অর্থনীতি।
ভোরের আলো ফুটতেই ছোট ছোট ডিঙ্গি ট্রলার কুয়াকাটা সৈকতের পশ্চিম দিকে সমুদ্রে ছুটে যায়। প্রতিটি ট্রলারে দেখা যায় নিষিদ্ধ বেহুন্দি জাল। জেলেরা জানিয়েছেন, এই জালে মাছ ধরার সময় মাছের পোনা, ডিমবিহীন মা মাছ, শুঁটকি মাছ, কাঁকড়া, কচ্ছপ, সামুদ্রিক সাপ ও পোকামাকড়ও মারা যাচ্ছে।

জেলেদের একজন, আমজেদ হোসেন বলেন, এই জালে যা পাই সবই ধরি। সব ধরণের মাছ ধরা পরে, কিন্তু জীবিত থাকে না।
বাংলাদেশ মৎস্য সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ‘বেহুন্দি জাল’ নিষিদ্ধ হলেও বাস্তবে এর ব্যবহার কমছে না। কুয়াকাটা, মহিপুর, আলীপুর, গঙ্গামতি, কাউয়ারচর, আশাখালী, আন্ধারমানিক মোহনা, রামনাবাদ মোহনা, সোনাতলা ও খাপড়াভাঙ্গা নদীসহ উপকূল জুড়ে এই জালের ব্যবহার চোখে পড়ছে।
স্থানীয় একটি মাঝি বলেন, ‘নইলে পেট চলবে কেমনে ভাই? বেহুন্দি জাল ছাড়া চিংড়ি ধরা যায় না। পেট তো চালাইতে হয়।’

বাংলাদেশ কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট মো. আবুল কাশেম বলেন, কোস্টগার্ড নিয়মিত অভিযান চালিয়ে ব্যবহার নিষিদ্ধ সব ধরনের জাল বন্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। চলতি বছরে প্রায় ২,৭০০ পিস বেহুন্দি জাল ধ্বংস করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
অভিজ্ঞ জেলে ইউনুচ মিয়া বলেন, সরকার যদি সব প্রকার বেহুন্দি জাল বন্ধ করে এবং অবরোধ সঠিকভাবে পালন করে, সাগরে মাছ এবং পানি সমান থাকবে।

ওয়ার্ল্ডফিস গবেষণা সহকারি বখতিয়ার রহমান বলেন, নিষিদ্ধ বেহুন্দি জাল সমুদ্রের বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা, ডিম ও খাবার নষ্ট করছে। ৪০ মিলিমিটারের নিচের সকল জাল অভিযান চালিয়ে ধ্বংস করতে হবে। সরকার ভর্তুকি দিয়ে হলেও এটি করা জরুরি।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, জনবল সংকট থাকায় নিয়মিত অভিযান সম্ভব হচ্ছে না। তবে জেলেরা সচেতন হচ্ছে এবং জালের ব্যবহার কমছে। তবুও আমরা সতর্ক।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধুমাত্র অভিযান ও জাল জব্দ করলেই সমস্যা সমাধান হবে না। জেলেদের সচেতন করা, বিকল্প বৈধ জাল ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া এবং ক্ষতিপূরণ বাস্তবায়ন করাই সমুদ্রকে বাঁচানোর একমাত্র পথ।
আরটিভি/এমকে




