
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা) আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু। তিনি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক। মনোনয়ন পাওয়ার ইতোমধ্যেই নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু সাংবাদিকদের বলেন, আলহামদুলিল্লাহ। আমি বেঁচে ফিরব, সেটাই তো কখনও ভাবিনি। আন্দোলন ব্যর্থ হলে হয়তো আমি ফিরতে পারতাম না।
তিনি বলেন, আমাকে চোখ বেঁধে বাসা থেকে আয়নাঘরে নিয়ে মাত্র ৩০ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে আমাকে গুলি করে হত্যা করে আন্দোলনকারীদের গুলিতে আমার মৃত্যু হয়েছে বলে চালিয়ে দেওয়ার আলাপ করা হচ্ছিল। এর ভেতরে বলতে হবে আন্দোলনের জন্য কাদেরকে টাকা দিয়েছি। সে সময় উত্তরা থানা পুড়িয়ে দেওয়ার খবরে কিছুটা পিছপা হয়। এরপর আমাকে প্রচণ্ড নির্যাতন চালায়। নির্যাতন শেষে আমাকে একটি স্টেটমেন্টে স্বাক্ষর করায়, সেখানে বলা হয় আমার নেতৃত্বে উত্তরা পূর্ব থানা পোড়ানো হয়েছে। সাংবাদিকরা আসলে যেন আমি বলি আমি ফান্ডিং করেছে, এবং আরও কয়েকজনের নাম বলে দেয় তাদের নাম বলতে বলা হয়। আয়নাঘর থেকে বেঁচে ফেরত আসতে পারবো তা সে সময়ে কল্পনা করতে পারিনি।
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬ বছরের শাসনামলে অসংখ্য মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন তিনি। সর্বশেষ গত ৩০ জুলাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীর বাহিনীর একটি দল লুৎফুল্লাহেল মাজেদকে তার গুলশানের বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। তাকে আটকে রেখে চোখে বেঁধে উল্টো করে ঝুলিয়ে পেটানো, পানি চাইলে প্রস্রাব খেতে দেওয়ার মতো নির্যাতনও চালানো হয়। গুরুতর অসুস্থ হলেও তার চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়নি। পরবর্তীতে শেখ হাসিনার পতনের পর গুম সংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারিতে দুই পাতার একটি অভিযোগ দিয়েছেন মাজেদ। তাতে উঠে আসে গুমের পর নির্মম নির্যাতনের চিত্র।
ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম ভূঁইয়া মনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মতো আদর্শ জীবন যাপনের কারণে আমার নেতা মাজেদ বাবু সাধারণ মানুষ থেকে দলের স্থানীয় নেতাকর্মী ও তৃণমূলের নেতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। বিএনপির দুর্দিনের কান্ডারি মাজেদ বাবু সততা, সাহসিকতা, আদর্শ রাজনীতি অঙ্গনে এক অনন্য মানুষ। সততা, ত্যাগ ও পরিশ্রমের মূল্যায়ন হিসেবে বাবু ভাই সংসদে যাবেন গণমানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে। এই প্রত্যাশা ঈশ্বরগঞ্জের আপামর জনগণের।
প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু বলেন, শহীদ জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে আমার যাত্রা শুরু হয়। মামলা, হামলা এবং আয়নাঘরে নির্যাতিত হয়েও সেই আদর্শ থেকে কখনো বিচ্যুত হইনি। রাজনীতি করে আমার নেওয়ার কিছু নেই। ঈশ্বরগঞ্জকে আধুনিক ও সমৃদ্ধশালী উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলা আমার লক্ষ্য। আমার নেতা তারেক রহমান যে আত্মবিশ্বাসে আমাকে ময়মনসিংহ-৮ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মনোনীত করেছেন, আমি বিশ্বাস করি ঈশ্বরগঞ্জের মানুষ আগামী নির্বাচনে তার প্রতিফলন ঘটাবে।
আরটিভি/এসকে




