
ভ্যানচালক ইয়ানুস আলী ভেবেছিলেন, ছেলে আনামুল হক সৌদি আরবে গিয়ে সংসারের দুর্দশা ঘুচিয়ে আনবেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস বাড়ি ফিরলেন ঠিকই, তবে কাফনের কাপড়ে । এখন ঋণের বোঝা আর ছেলের রেখে যাওয়া স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে দিশেহারা বাবা ইয়ানুস আলী।
রোববার (৯ নভেম্বর) দুপুরে আনামুলের লাশ নিজ গ্রাম রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মাড়িয়া ইউনিয়নের গোয়ালপাড়ায় পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজন ও গ্রামবাসী।
পরিবারের সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ সেপ্টেম্বর স্থানীয় আদম ব্যবসায়ী আতিক হোসেনের মাধ্যমে সৌদি আরবে যান আনামুল হক। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকসহ বিভিন্ন বেসরকারি উৎস থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তিনি বিদেশ পাড়ি জমান। সেখানে ‘আলী আবদুল্লাহ আল-মাকরামি কম’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে কাজে যোগ দেন।
বিদেশ যাওয়ার মাত্র ১৪ দিন পর, ১ অক্টোবর সৌদি আরবের আফিফ এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মারা যান আনামুল। ওই ঘটনায় মিশর, সুদান ও পাকিস্তানের আটজন নাগরিক প্রাণ হারান। তাদের মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশি ছিলেন বাগমারার আনামুল।
স্বজনেরা জানান, মৃত্যুর পর টানা ১৪ দিন তার লাশ আফিফ শহরের একটি হাসপাতালে মর্গে ছিল। পরে সৌদি দূতাবাসের সহযোগিতায় লাশ দেশে ফেরত আনা হয়।
নিহতের বাবা ইয়ানুস আলী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ঋণ কইরা বেটারে বিদেশ পাঠাইলাম, ভাবছিলাম অনেক টাকা লইয়া আসবে। এখন সব শেষ। বেটার বউ-ছাওয়াল নিয়া কীভাবে থাকমু!
স্ত্রী বিলকিস বানু বলেন, ১৪ দিন স্বামীর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ ছিল না। পরে দূতাবাসে ফোন করে জানতে পারি, সে আর বেঁচে নেই।
পরিবারের অভিযোগ, মৃত্যুর পরও স্থানীয় আদম ব্যবসায়ী আতিক হোসেন তাদের কাছে টাকা দাবি করেন। বর্তমানে তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরটিভি/এস




