
ষড় ঋতুর দেশ বাংলাদেশ। আর শেষ কার্ত্তিকেই চলনবিল অধ্যুষিত সিরাজগঞ্জের তাড়াশে কড়া নাড়ছে শীত। গ্রাম এলাকায় শেষ রাতে সহনীয় শীত শীত আমেজে মানুষের ঘুম হচ্ছে গভীর। আবার সকালের দূর্বা ঘাসে শিশির পড়ে রোদের আলোয় ঝিকমিক করছে। তাই শীতের আগমনে এ এলাকায় তৈজসপত্রের দোকানেও বেড়েছে শীতের অনুষঙ্গ লেপ-তোষক তৈরির কাজ। ব্যস্ত হয়ে পরেছেন এ কাজে নিয়োজিত প্রায় দুই শতাধিক কারিগর।
কিন্তু স্বল্প আয়ের মানুষ লেপ-তোষক তৈরি করতে গিয়ে পরেছেন বিপাকে। কেন না গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রকার ভেদে সব ধরনের তুলা ও লেপ-তোষক তৈরির আনুষঙ্গিক জিনিসের দাম বেড়েছে প্রায় ১৫ থেকে ২০ ভাগ।
জানা গেছে, চলনবিল অধ্যুষিত সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার তাড়াশ পৌর বাজারে রানীরহাট, গুল্টাবাজার, বিনসাড়া, বারুহাস, নিমগাছী, কৃষ্ণাদিঘী হাট, বিভিন্ন হাট-বাজারে রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি লেপ-তোষক তৈরি ও বিক্রির দোকান। আর এ সব দোকানে সারা বছর যা না বেচা কেনা হয় তার অর্ধেকই হয় শীত মৌসুমে।
তাড়াশ পৌর বাজারে ভাই ভাই বেডিং এর মালিক মো. গোলাম মোস্তফা। তিনি আরও যোগ করে জানান, গত বছরের তুলনায় পাইকারি ও খুচরা বাজারে প্রকার ভেদে সব ধরনের তুলাসহ লেপ-তোষক তৈরির আনুষঙ্গিক জিনিসের দাম বেড়েছে।
ফলে নিম্ন আয়ের অনেক ক্রেতাই তুলাসহ দাম শুনে লেপ-তোষক না বানিয়ে পিছু হটছেন। তারা অল্প দামের তুলায় লেপ-তোষক তৈরির বায়না করছেন। বা বাজারে খুঁজছেন কম দামের তৈরি করা রেডিমেড কোরিয়ান, গামের্ন্ট কম্বল বলে জানান, নওগাঁ হাটের ক্রেতা গুল্টা গ্রামের আব্দুল জলিল (৬৫)।
সরেজমিনে উপজেলার হাট-বাজারের তৈজস পত্রের দোকানে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতি কেজি কাপাস তুলা ২৪০ টাকা। যা গত বছর এ সময়ে ছিল ২২০ টাকা। শিমুল তুলা ৩৪৫ টাকা। যা গত বছর ছিল ৩৩০ টাকা। ফম তুলা ১৩০ টাকা। যা গত বছর ছিল ১১০ টাকা। সাদা সুপার তুলা ৫০ টাকা। যা গত বছর ছিল ৫০ টাকা। উল তুলা ৭০ টাকা। যা গত বছর ছিল ৫০ টাকা। গার্মেন্টস তুলা যেমন, লাল, কালো, খয়েরি প্রকার বেদে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা । যা গত বছর ছিল ৩০ থেকে ৩৫ টাকা।

আবার লেপ-তোষক তৈরির কাপড়ের দামও বেড়েছে। বর্তমানে শালুক কাপড় প্রতি গজ ৬০ টাকা। যা গত বছর ছিল ৫৫ টাকা। মার্কিন কাপড় প্রতি গজ ৫০ টাকা। যা গত বছর ছিল ৫০ টাকা। শালুক কাপড় অপেক্ষাকৃত নিন্ম মানের প্রতি গজ ৫০ টাকা। যা গত বছর ছিল ৪০ টাকা। লেপ-তোষক তৈরির সুতা প্রতি কেজি এখন ৩৫০ টাকা। গত বছর যা ছিল ২৫০ টাকা।
লেপ-তোষক তৈরির কারিগরের পারিশ্রমিকও এ বছর বেড়েছে। গত বছর একটি রেপ তৈরি করতে একজন কারিগর নিতেন ১২০ টাকা। চলতি বছর একই কাজে নিচ্ছেন ১৫০ টাকা। ফলে পাঁচ কেজি তুলা দিয়ে একটি ৪ ও ৫ হাত দৈর্ঘ্য-প্রস্থের লেপ তৈরিতে সর্ব সাকুল্যে এ বছর খরচ হচ্ছে এক হাজার ৬০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকা। যা গত বছর ছিল এক হাজার ২৫০ থেকে এক হাজার ৪০০ টাকা।
পাশাপাশি পরিবহনেও বেড়েছে পণ্য আনা-নেওয়ার খরচ বলে জানান, তাড়াশ বাজারের তুলা ব্যবসায়ী আবুল বাশার। তিনি জানান, গত বছর সিরাজগঞ্জ থেকে তাড়াশে এক গাড়ি তুলা আনতে ভাড়া দিতেন ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। আর এখন এক গাড়ি তুলা আনতে ভাড়া দিচ্ছেন ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা।
এ দিকে তাড়াশ পৌর বাজারে লেপ-তোষক তৈরি করতে আসা সুমনাপারভীন বলেন, কেনা কম্বলের চেয়ে গ্রামের মানুষ তৈরি করা লেপ-তোষক ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। কিন্তু বাজারে বর্তমানে সব ধরনের তুলা ও লেপ-তোষক তৈরির আনুষঙ্গিক জিনিসের দামও আগুন বরাবর। তারপরও বেশি না হলেও কম দামের জিনিসে তা বানাতেই হবে।
আরটিভি/এএএ




