
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সুরমা চা বাগানে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি ব্রিজ এখন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি ও নিম্নমানের কাজের কারণে নির্মাণের অল্প কিছুদিন পরই ব্রিজটির দুই পাশের সংযোগ মাটি ভেঙে যাওয়ায় প্রায় দশ হাজার বাসিন্দা ও চা শ্রমিক দুই বছর ধরে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন।
প্রতিদিন শত শত চা শ্রমিক ও স্কুল শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছড়া নদী পারাপার করে কর্মস্থল ও বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছেন। বাগানের ২০ নম্বর সেকশন এলাকার শ্রমিকরা জানান, ব্রিজটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে বর্ষার সময় নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে চলাচল করা প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে।
চা শ্রমিক নির্মলা দেবী বলেন, দুই বছর ধরে এই ভাঙা ব্রিজের কারণে আমরা প্রচণ্ড কষ্টে আছি। বৃষ্টি নামলে ছড়া পার হতে ভয় লাগে।
বাগানটির সহকারী ব্যবস্থাপক কমল সরকার বলেন, ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে আমরা উপজেলা প্রশাসন ও এলজিইডি দপ্তরে একাধিকবার লিখিতভাবে জানিয়েছি। কিন্তু এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শ্রমিকরা প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।
স্থানীয় শিক্ষক নয়ন চৌধুরী বলেন, স্কুলের শিশুরা এই ব্রিজ পার হয়ে আসে। একটু অসতর্ক হলেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
মাধবপুর উপজেলা প্রকৌশলী রেজাউল নবী বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সেতুটির বেহাল অবস্থা লক্ষ্য করেছি। এটি সংস্কারের জন্য নতুন বাজেট প্রয়োজন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোটি টাকার এই প্রকল্পটি নির্মাণের পরপরই ধসে পড়লেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে এটি অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকায় বাগানের শ্রমিক ও বাসিন্দাদের পণ্য পরিবহন, স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও রোগী পরিবহনে মারাত্মক সমস্যা তৈরি হয়েছে।
আরটিভি/এআর




