
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের কেজুরীছড়া চা বাগানের গভীর নীরবতার মাঝে দাঁড়িয়ে আছে শত বছরেরও বেশি প্রাচীন শ্রী শ্রী মহাবীর হনুমান মন্দির। আধ্যাত্মিকতার শান্ত আবেশে মোড়া এই মন্দিরকে ঘিরে রয়েছে নানা বিশ্বাস ও লোককথা।
ভক্তদের মতে, এখানে ১০৮টি ফুলের মালা দিয়ে কোনো কিছু করার জন্য মনস্থির করলে পূরণ হয় মনের বাসনা। এই বিশ্বাস ঘিরে প্রতিদিনই দেশের নানা প্রান্ত থেকে ভক্তরা ছুটে আসেন পূজা ও প্রার্থনায় অংশ নিতে। মন্দিরে প্রবেশ করলেই চোখে পরে ফুলের মালা হাতে নিয়ে নানা বয়সী ভক্তদের সারি। কারও মুখে গভীর প্রার্থনা, কারও চোখে ভরসার আলো। অনেকেই বলেন, এখানে এসে মন শান্ত হয়, আর ভক্তির শক্তিতেই পূরণ হয় জীবনের কামনা-বাসনা।

কাতার প্রবাসী ভক্ত সুব্রত চক্রবর্তী বলেন, এই মন্দিরে আসলে যেন মনটা অন্যরকম হয়ে যায়। কোনো কিছু করার জন্য চাইলে মনের কামনা পূরণ হয়। এটা আমি নিজের জীবনে অনুভব করেছি।
মন্দিরে আগত রূপক চক্রবর্তী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শুনে আসছি ১০৮টি ফুলের মালা দিয়ে এখানে প্রার্থনা করলে ইচ্ছা পূরণ হয়। তাই যখনই দেশে আসি এখানে একবার না এলে মন ভরে না।
মন্দিরের দেখভালে নিয়োজিত শ্রী শ্রী হনুমান জীউ সেবক সংঘের সভাপতি রঞ্জিত দাস জানান, যারা এখানে এসে প্রার্থনা করেছেন তাদের অধিকাংশই বলেছেন তাদের মনের কামনা পূর্ণ হয়েছে। সেই বিশ্বাসই মানুষকে বারবার এই মন্দিরে টেনে আনে।
মন্দিরটির ইতিহাসও বেশ সমৃদ্ধ। প্রায় ১৫০ বছর আগে সুরেন্দ্র দাস মন্দিরটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেন। পরবর্তীতে তার ছেলে সুকময় দাস সেই দায়িত্ব পালন করেন। এখন সেই ঐতিহ্যের ধারক রঞ্জিত দাসসহ স্থানীয় এলাকাবাসী নিষ্ঠার সঙ্গে মন্দির পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিবছর এই মন্দিরে পাঁচ দিনব্যাপী আয়োজন করা হয় শ্রী শ্রী হনুমান জীউর বিশেষ পূজা এবং অষ্টপ্রহরব্যাপী শ্রী শ্রী হরিনাম সংকীর্তন। এসব আয়োজনকে কেন্দ্র করে ভক্তদের মিলনমেলায় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে পুরো কেজুরীছড়া চা বাগানজুড়ে।

সাধারণ সম্পাদক নিশিকান্ত পাল বলেন, প্রতি শনি ও মঙ্গলবার এখানে বিশেষ পূজা হয়। দেশজুড়ে ভক্তরা এসব দিনে বিশেষভাবে অংশ নিতে আসেন।
ভক্তদের ভাষায়, এটি শুধু পূজা-অর্চনার স্থান নয়; বরং আধ্যাত্মিক শান্তির এক পরম কেন্দ্র। দীর্ঘ শতাব্দীর ঐতিহ্য ধরে আজও সমান ভক্তি-আস্থায় পরিপূর্ণ এই শ্রী শ্রী মহাবীর হনুমান মন্দির।
শ্রীমঙ্গলের কেজুরীছড়া চা বাগানের সবুজে ঘেরা এই প্রাচীন মন্দির প্রতিদিনই ভক্তদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। মনের বাসনা পূরণের প্রত্যাশা আর আধ্যাত্মিক শান্তির টানে শতবর্ষী এই পবিত্র স্থান এখনও একইভাবে টানে ভক্তদের। যেমন টানতো একশ বছর আগে।
আরটিভি/এমএ




