ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ঘন কুয়াশা-শীতে নষ্ট হচ্ছে বোরোর বীজতলা, দিশেহারা কৃষক

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৩১ পিএম
শ্রীপুর পৌরসভার সুতাপাড়া এলাকার কৃষক শামসুদ্দিনের বীজতলা। ছবি: আরটিভি

গাজীপুরের শ্রীপুরে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে বোরো ধানের বীজতলার চারা মরে যাচ্ছে। আর কনকনে ঠান্ডায় জীবিত চারা হলদে হয়ে গেছে। ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করেও কোনো লাভ হচ্ছে না। বোরো বীজতলা নষ্ট হওয়ায় সময় মতো ধানের চারা জমিতে রোপণ করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অনেক কৃষক। বীজতলা এভাবে নষ্ট হয়ে গেলে বোরো ধান চাষের খরচ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।

কৃষি বিভাগ বলছে, বীজতলায় অতিরিক্ত পানি জমতে দেওয়া যাবেনা। বীজতলা রক্ষায় রাতে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখাসহ বিভিন্ন পরামর্শ কৃষকদের দিচ্ছেন তারা। শ্রীরে ঘন কুয়াশা ও কনকনে ঠান্ডার দাপট বাড়ছে। এক সপ্তাহ সকাল থেকে দেখা নেই সূর্যের। সপ্তাহের মাঝে দুদিন দুপুরে রোদের আলো কিছুটা মিললেও কমেনি শীতের তীবৃতা। হাড়কাঁপানো শীতে মাঠে কাজ করতে গিয়ে কাঁপছেন কৃষক ও শ্রমিকেরা।

শ্রীপুর পৌরসভা এবং উপজেলার গোসিংগা, শৈলাট গাজীপুর, কাওরাইদ, প্রহলাদপুর এবং রাজাবাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার ঘুরে দেখা গেছে ইতোমধ্যে কৃষকেরা তাদের বোরো ধানের বীজতলার চারা রোপণ শেষ করেছে। কনকনে ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশায় বোরো বীজতলা কোল্ড ইনজুরিতে (পাতা পচা রোগ) আক্রান্ত হয়ে নষ্ট হচ্ছে কৃষকের বোরো বীজতলা। বালাইনাশক ছিটিয়েও পচন রোধ করা যাচ্ছে না।

রাজাবাড়ী ইউনিয়নের কুড়লপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রউফ বলেন, তিনি এবার তিন কাঠা জমিতে বোরো বীজতলা করেছেন। গত এক সপ্তাহ যাবত কনকনে ঠান্ডা আর ঘন কুয়াশায় বোরো বীজের চারা গাছের পাতা হলদে রং ধারণ করে পচে যাচ্ছে। বালাইনাশক ছিটিয়ে কাজ হচ্ছে না। আমি দুশ্চিন্তায় আছি।

উপজেলার ওইসব ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ এলাকায় ধানের বীজতলার বিভিন্ন স্থানে চারা গজায়নি। যেসব স্থানে চারা গজিয়েছে, সেসব চারা আবার হলদে আকার ধারণ করেছে। কিছু বীজতলার চারা পচে নষ্ট হয়ে গেছে।

বরমী ইউনিয়নের গাড়ারন গ্রামের কৃষক সাংবাদিক রুহুল আমীন জানান, তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় উচ্চ ফলনশীল ব্রি ১০৫, গাজী, ব্রি ১০৮ ব্রি ২৮ ধানের বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে এবার সময় মতো চারা রোপণ করতে পারবেন না। খারাপ আবহাওয়া থেকে বীজতলা রক্ষায় কয়েকজন যুবক বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখেন। কেবল তাঁদের বীজতলা ভালো আছে।

তিনি আরও বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা বীজতলা নষ্ট হবে এমন আগাম বার্তা দিতে পারেন না। অথচ এলাকার যুবকেরা ইউটিউব ঘেঁটে বীজতলা রক্ষা করতে কয়েকজন পলিথিন দিয়ে চারার জমি ঢেকে রেখেছেন। তাঁদের ধানের চারা ভালো আছে। বাকিদের বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। তাছাড়া বরো ধানের বীজ তলা তৈরির সময় যাচ্ছে। কৃষি অফিসের কর্মকর্তারাতো গ্রামে আসেনই না এবং ফোনেও তাদের কাছ থেকে কেনোরকম পরামর্শ বা সহযোগীতা পাওয়া যায় না।

আরও পড়ুন

প্রহলাদপুর ইউনিয়নের ফাউগান গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতি বোরো মৌসুমে তিনি ১০ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেন। এবারও তাঁর তেমনই প্রস্তুতি আছে। বীজতলা নষ্ট হওয়ার খবরে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পলিথিন ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই পলিথিন ব্যবহারে অনীহা প্রকাশ করেছেন। তা ছাড়াও যেসব ছত্রাকনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, তাতে কোনো কাজ হচ্ছে না, শুধু অর্থ অপচয়। আরও কয়েক দিন কনকনে ঠান্ডা থাকলে অধিকাংশ বীজতলা নষ্ট হয়ে যাবে। নতুন করে আবারও বীজতলা তৈরি করতে হবে।

image

উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের কৃষক রহমত আলী বলেন, এবার শীত অনেক বেশি। বোরো ধানের বীজতলায় কুয়াশার কারণে ছত্রাক ধরে পচে যাচ্ছে এবং বীজতলায় পানি জমে থাকছে। ওষুধ দিলে কিছুটা কমে, কুয়াশা না কাটলে পুরো বীজতলা বাঁচানো কঠিন। এভাবে চলতে থাকে, তাহলে নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে হবে এবং খরচ দ্বিগুণ হয়ে যাবে।

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৮৫০ হেক্টর জমিতে বীজতলা করা হয়েছে। ১২ হাজার ৫৬০ হেক্টর জমিতে বরো ধান চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। শীত ও ঘন কুয়াশায় বীজতলা রক্ষার জন্য পরামর্শ দিয়ে বলেন, বীজতলায় অতিরিক্ত পানি জমতে দেওয়া যাবে না। সকালে কুয়াশা কমলে পাতলা সেচ দিয়ে পানি নামিয়ে দিতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ছত্রাকনাশক প্রয়োগ, রাতে বীজতলার উপর পলিথিন বা খড় দিয়ে আংশিক ঢেকে রাখতে হবে।

আরটিভি/এএএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে কচুয়ায় ডিজিটাল কম্পিউটার ল্যাব উদ্বোধন
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পালাখাল রোস্তম আলী ডিগ্রি কলেজে শিক্ষার্থীদের আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে ডিজিটাল কম্পিউটার ল্যাব উদ্বোধন করা হয়েছে।
প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে কচুয়ায় ডিজিটাল কম্পিউটার ল্যাব উদ্বোধন
ভিক্ষুকের ছদ্মবেশে দরজায় কড়া, খুলতেই বেরিয়ে এলো ‘আসল রূপ’ 
মানিকগঞ্জে ভিক্ষুকের ছদ্মবেশে একটি ফ্ল্যাট বাসায় ঢুকে হাজেরা বেগম (৭০) নামে এক নারীকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে তার গলায় থাকা সোনার চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে আহত অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টার দিকে সদর উপজেলার উত্তর সেওতা এলাকার বায়তুল আমান ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে। আহত হাজেরা বেগমের মেয়ে আলেয়া বেগম বলেন, বেলা আনুমানিক ১২টার দিকে বোরকা পরা এক ব্যক্তি বাসার গেটে এসে দরজায় কড়া নাড়েন। তার মা দরজা খুলে দিলে ওই ব্যক্তি তার মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করেন। পরে তার গলায় থাকা প্রায় দেড় ভরি ওজনের সোনার চেইন নিয়ে পালিয়ে যান। ব্যক্তির হাতে একটি চালের ব্যাগ ছিল। তিনি আরও বলেন, মায়ের চিৎকার শুনে পাশের বাসার লোকজন এগিয়ে গিয়ে তাকে ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে তিনি বাসায় ফিরে মাকে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, মানিকগঞ্জ শহরের পাশে উত্তর সেওতা এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে ঢুকে এক নারীকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে সোনার চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে থানার সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করেছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বর্তমানে আহত হাজেরা বেগম মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আরটিভি/এসএস
ভিক্ষুকের ছদ্মবেশে দরজায় কড়া, খুলতেই বেরিয়ে এলো ‘আসল রূপ’ 
কালিগঞ্জ মাদরাসায় এমপি রবিউল বাশারের সংবর্ধনা ও নবীন বরণ অনুষ্ঠিত
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যানিকেতন দারুল উলুম চৌমুহনী ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসায় সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশারের সংবর্ধনা, আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ ও সবক দেওয়া হয়েছে।
কালিগঞ্জ মাদরাসায় এমপি রবিউল বাশারের সংবর্ধনা ও নবীন বরণ অনুষ্ঠিত
জালে আটকে পড়ল পদ্মগোখরা, এরপর যা হলো
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে জালে আটকে যাওয়া একটি বিষধর পদ্মগোখরা উদ্ধার করে বনে অবমুক্ত করা হয়েছে।
জালে আটকে পড়ল পদ্মগোখরা, এরপর যা হলো
হাত বদলে ১৩ হাজার টাকার ইলিশের দাম যত দাঁড়ায়
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার মতিরহাট মাছঘাটে ১৩ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে একটি বড় আকৃতির ইলিশ। মাছটির ওজন ২ কেজি ৭৫০ গ্রাম।  বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলে ফারুক মাঝি এ মাছটি বিক্রি করেন।  মতিরহাট ঘাটের আড়তদার ইব্রাহীম খোকন জানায়, ঘাট এলাকার স্থানীয় জেলে ফারুক মাঝি এক সপ্তাহ সাগর থেকে ফিরে প্রায় দেড় লাখ টাকার ইলিশ বিক্রি করেন। যার মধ্যে এ ইলিশটি পৃথকভাবে ১৩ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়।  ঢাকার মাছ ব্যবসায়ী মো. বাহার মিয়া মাছটি কিনে নেন।  বাহার মিয়া জানান, তিনি এ মাছটিসহ অন্য মাছগুলো ঢাকার বাজারে নেবেন। সেখানে গিয়ে এ মাছটির দাম কত হবে, এমনটি জানতে চাইলে মাছ ব্যবসায়ী বলেন, আমরা কমপক্ষে ১ থেকে ২ হাজার লাভে বিক্রি করবো। তারপর ঢাকার ব্যবসায়ীরা আরও এক-দুই হাজার লাভ করতে পারে। সব মিলে এ রকম বড় সাইজের এ ইলিশটির দাম ঢাকার বাজারে প্রায় ১৬ থেকে ১৭ হাজার টাকায় বিক্রি হবে। বাহার মিয়া বলেন, ছোট মাছে কেজি প্রতি লাভ হয় ৫০ থেকে ১০০ টাকা। কিন্ত বড় ইলিশে ভালো লাভ করা যায়।  এদিকে স্থানীয় আড়তদার আনোয়ার জানান, নদীতে ইলিশ কমে গেছে। অন্যদিকে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়াতে জেলেদের এখন মাছ শিকার কঠিন হয়ে পড়েছে। আরটিভি/এসএস
হাত বদলে ১৩ হাজার টাকার ইলিশের দাম যত দাঁড়ায়
আরও পড়ুন
‘ভিডিও ভাইরালের’ হুমকি দিয়েও শেষ রক্ষা হলো না সেই এনসিপি নেতার 
গাজীপুরে ট্রাক-অটোরিকশার সংঘর্ষে তিনজনের মৃত্যু
রেললাইনে হাঁটার সময় হঠাৎ চলে আসে ট্রেন, অতঃপর...
যুবককে পিটিয়ে হত্যার মামলা নিতে নারাজ দুই থানার পুলিশ