ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

ঘন কুয়াশা-শীতে নষ্ট হচ্ছে বোরোর বীজতলা, দিশেহারা কৃষক

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৩১ পিএম
শ্রীপুর পৌরসভার সুতাপাড়া এলাকার কৃষক শামসুদ্দিনের বীজতলা। ছবি: আরটিভি

গাজীপুরের শ্রীপুরে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে বোরো ধানের বীজতলার চারা মরে যাচ্ছে। আর কনকনে ঠান্ডায় জীবিত চারা হলদে হয়ে গেছে। ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করেও কোনো লাভ হচ্ছে না। বোরো বীজতলা নষ্ট হওয়ায় সময় মতো ধানের চারা জমিতে রোপণ করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অনেক কৃষক। বীজতলা এভাবে নষ্ট হয়ে গেলে বোরো ধান চাষের খরচ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।

কৃষি বিভাগ বলছে, বীজতলায় অতিরিক্ত পানি জমতে দেওয়া যাবেনা। বীজতলা রক্ষায় রাতে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখাসহ বিভিন্ন পরামর্শ কৃষকদের দিচ্ছেন তারা। শ্রীরে ঘন কুয়াশা ও কনকনে ঠান্ডার দাপট বাড়ছে। এক সপ্তাহ সকাল থেকে দেখা নেই সূর্যের। সপ্তাহের মাঝে দুদিন দুপুরে রোদের আলো কিছুটা মিললেও কমেনি শীতের তীবৃতা। হাড়কাঁপানো শীতে মাঠে কাজ করতে গিয়ে কাঁপছেন কৃষক ও শ্রমিকেরা।

শ্রীপুর পৌরসভা এবং উপজেলার গোসিংগা, শৈলাট গাজীপুর, কাওরাইদ, প্রহলাদপুর এবং রাজাবাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার ঘুরে দেখা গেছে ইতোমধ্যে কৃষকেরা তাদের বোরো ধানের বীজতলার চারা রোপণ শেষ করেছে। কনকনে ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশায় বোরো বীজতলা কোল্ড ইনজুরিতে (পাতা পচা রোগ) আক্রান্ত হয়ে নষ্ট হচ্ছে কৃষকের বোরো বীজতলা। বালাইনাশক ছিটিয়েও পচন রোধ করা যাচ্ছে না।

রাজাবাড়ী ইউনিয়নের কুড়লপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রউফ বলেন, তিনি এবার তিন কাঠা জমিতে বোরো বীজতলা করেছেন। গত এক সপ্তাহ যাবত কনকনে ঠান্ডা আর ঘন কুয়াশায় বোরো বীজের চারা গাছের পাতা হলদে রং ধারণ করে পচে যাচ্ছে। বালাইনাশক ছিটিয়ে কাজ হচ্ছে না। আমি দুশ্চিন্তায় আছি।

উপজেলার ওইসব ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ এলাকায় ধানের বীজতলার বিভিন্ন স্থানে চারা গজায়নি। যেসব স্থানে চারা গজিয়েছে, সেসব চারা আবার হলদে আকার ধারণ করেছে। কিছু বীজতলার চারা পচে নষ্ট হয়ে গেছে।

বরমী ইউনিয়নের গাড়ারন গ্রামের কৃষক সাংবাদিক রুহুল আমীন জানান, তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় উচ্চ ফলনশীল ব্রি ১০৫, গাজী, ব্রি ১০৮ ব্রি ২৮ ধানের বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে এবার সময় মতো চারা রোপণ করতে পারবেন না। খারাপ আবহাওয়া থেকে বীজতলা রক্ষায় কয়েকজন যুবক বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখেন। কেবল তাঁদের বীজতলা ভালো আছে।

তিনি আরও বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা বীজতলা নষ্ট হবে এমন আগাম বার্তা দিতে পারেন না। অথচ এলাকার যুবকেরা ইউটিউব ঘেঁটে বীজতলা রক্ষা করতে কয়েকজন পলিথিন দিয়ে চারার জমি ঢেকে রেখেছেন। তাঁদের ধানের চারা ভালো আছে। বাকিদের বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। তাছাড়া বরো ধানের বীজ তলা তৈরির সময় যাচ্ছে। কৃষি অফিসের কর্মকর্তারাতো গ্রামে আসেনই না এবং ফোনেও তাদের কাছ থেকে কেনোরকম পরামর্শ বা সহযোগীতা পাওয়া যায় না।

আরও পড়ুন

প্রহলাদপুর ইউনিয়নের ফাউগান গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতি বোরো মৌসুমে তিনি ১০ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেন। এবারও তাঁর তেমনই প্রস্তুতি আছে। বীজতলা নষ্ট হওয়ার খবরে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পলিথিন ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই পলিথিন ব্যবহারে অনীহা প্রকাশ করেছেন। তা ছাড়াও যেসব ছত্রাকনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, তাতে কোনো কাজ হচ্ছে না, শুধু অর্থ অপচয়। আরও কয়েক দিন কনকনে ঠান্ডা থাকলে অধিকাংশ বীজতলা নষ্ট হয়ে যাবে। নতুন করে আবারও বীজতলা তৈরি করতে হবে।

image

উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের কৃষক রহমত আলী বলেন, এবার শীত অনেক বেশি। বোরো ধানের বীজতলায় কুয়াশার কারণে ছত্রাক ধরে পচে যাচ্ছে এবং বীজতলায় পানি জমে থাকছে। ওষুধ দিলে কিছুটা কমে, কুয়াশা না কাটলে পুরো বীজতলা বাঁচানো কঠিন। এভাবে চলতে থাকে, তাহলে নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে হবে এবং খরচ দ্বিগুণ হয়ে যাবে।

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৮৫০ হেক্টর জমিতে বীজতলা করা হয়েছে। ১২ হাজার ৫৬০ হেক্টর জমিতে বরো ধান চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। শীত ও ঘন কুয়াশায় বীজতলা রক্ষার জন্য পরামর্শ দিয়ে বলেন, বীজতলায় অতিরিক্ত পানি জমতে দেওয়া যাবে না। সকালে কুয়াশা কমলে পাতলা সেচ দিয়ে পানি নামিয়ে দিতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ছত্রাকনাশক প্রয়োগ, রাতে বীজতলার উপর পলিথিন বা খড় দিয়ে আংশিক ঢেকে রাখতে হবে।

আরটিভি/এএএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রস্তুত গাছিরা, যশোরে শুরু হচ্ছে খেজুরের রস ও গুড় তৈরির মৌসুম
যশোরে বাজতে শুরু করেছে শীতের আগমনী সুর। শীত মৌসুমকে সামনে রেখে এখন জেলার গাছিদের ব্যস্ত সময় পার হচ্ছে। কুড়াল, হাসুয়া ও দা হাতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত তারা—ছেঁটে পরিষ্কার করা হচ্ছে খেজুরগাছ।
প্রস্তুত গাছিরা, যশোরে শুরু হচ্ছে খেজুরের রস ও গুড় তৈরির মৌসুম
নামাজে গিয়ে বাড়ি ফেরা হলো না স্কুলছাত্রের
নোয়াখালীর চাটখিল ও লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী কচুয়া বাজারে রাস্তা পার হওয়ার সময় মাইক্রোবাসের চাপায় এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।
নামাজে গিয়ে বাড়ি ফেরা হলো না স্কুলছাত্রের
স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, ঘরবন্দী রাখতে দেওয়া হয় পাহারা
গাজীপুরের শ্রীপুরে স্বামীকে পাশের কক্ষে আটকে রেখে এক গার্মেন্টসকর্মীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে চার যুবকের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের পর আসামিদের হুমকি ও সার্বক্ষণিক পাহারা দেওয়ার কারণে দুই দিন ধরে ভুক্তভোগী পরিবার ঘরবন্দী হয়ে ছিল বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে স্বজনদের সহায়তায় তারা থানায় এসে আইনের আশ্রয় নিয়েছেন তিনি।
স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, ঘরবন্দী রাখতে দেওয়া হয় পাহারা
তিন দিন ধরে নিখোঁজ বান্দরবানের ৩ কিশোরী, খোঁজা হচ্ছে সিসিটিভি ফুটেজ
বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন থেকে নিখোঁজ হওয়া তিন কিশোরীর তিন দিনেও সন্ধান মেলেনি। রোববার (১১ অক্টোবর) বিদ্যালয় থেকে নিবন্ধন কার্ড নিয়ে আসার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল তারা। এর পর থেকে তাদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। বুধবার পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা এ তথ্য জানিয়েছেন। নিখোঁজ তিন কিশোরীর বয়স ১৪ থেকে ১৫ বছর। তারা ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের একই পাড়ার বাসিন্দা এবং পরস্পরের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। তাদের মধ্যে ১৫ বছর বয়সী কিশোরী চকরিয়ার মানিকপুর এলাকার একটি বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ে। অন্য দুজন স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পরিবারের সদস্যরা জানান, রোববার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে তিন কিশোরী চকরিয়ার মানিকপুরে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। ১৫ বছর বয়সী কিশোরী বিদ্যালয় থেকে নিবন্ধন কার্ড আনতে যাচ্ছিল। তবে তারা বিদ্যালয়ে পৌঁছেছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে পারেননি পরিবারের সদস্যরা। এক কিশোরীর মা জানান, তিনজনের কারও কাছে মুঠোফোন থাকার কথা নয়। তবে যে অটোরিকশায় তারা চকরিয়ায় গিয়েছিল, সেই চালক পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছেন, কিশোরীদের হাতে একটি অ্যান্ড্রয়েড মুঠোফোন দেখেছেন। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও সন্ধান না পেয়ে মঙ্গলবার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন পরিবারের সদস্যরা। লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কাইছার হামিদ জানান, চকরিয়া বাসস্ট্যান্ডে একটি মুঠোফোনসহ তিন কিশোরীকে স্থানীয় কয়েকজন দেখেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সেখান থেকে তারা কোন দিকে গেছে, তা জানা যায়নি। নিখোঁজ কিশোরীরা চকরিয়া অথবা কক্সবাজারের কোথাও থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। ওসি কাইছার হামিদ আরও জানান, কিশোরীদের সন্ধানে চকরিয়া থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে। আরটিভি/এসএস
তিন দিন ধরে নিখোঁজ বান্দরবানের ৩ কিশোরী, খোঁজা হচ্ছে সিসিটিভি ফুটেজ
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে হাতেনাতে আটক ৩
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আশুলিয়ার নয়ারহাট এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তিনজনকে হাতেনাতে আটক করেছে পুলিশ।
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে হাতেনাতে আটক ৩
আরও পড়ুন
স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, ঘরবন্দী রাখতে দেওয়া হয় পাহারা
কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু
গাজীপুরে ওষুধ কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে
গাজীপুরে ওষুধ কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ১৯ ইউনিট