ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রেমের টানে ফরাসী তরুণী লক্ষ্মীপুরে

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৮ এএম
ছবি: প্রতিনিধি

ভালোবাসা কখনো সীমান্ত মানে না, মানে না ভাষা কিংবা সংস্কৃতির পার্থক্য। ফ্রান্সের এক তরুণী আর বাংলাদেশের লক্ষ্মীপুরের এক তরুণের প্রেমের গল্প যেন তারই প্রমাণ। ২০১১ সালে লক্ষ্মীপুরের আরিফুল ইসলাম রাসেল উচ্চ শিক্ষার জন্য ইংল্যান্ড যান। সেখান থেকে ২০১৩ সালে তিনি ফ্রান্সে চলে যান সেই উচ্চ শিক্ষার জন্য। সেখানেই সিনথিয়া ইসলামের সঙ্গে রাসেলের পড়ালেখা এবং পরিচয়। তাদের পরিচয় ধীরে ধীরে গড়ায় গভীর সম্পর্কে। অবশেষে পরিবারের সম্মতিতে তারা বিয়ে করেন। সম্প্রতি ফ্রান্সের সেই তরুণী এসেছেন স্বামীর গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরে।

সিনথিয়া কখনো মেঠোপথে হাঁটছেন, কখনো হাওয়াই মিঠাই খাচ্ছেন, আবার কখনো স্থানীয়দের সঙ্গে গল্পে মেতে উঠছেন তারা। বিদেশি হয়েও গ্রামের পরিবেশ আর মানুষের আন্তরিকতায় মুগ্ধ এই ফরাসি তরুণী।

আরিফুল ইসলাম লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার রাজিবপুর এলাকার সমসের উদ্দিন খলিফা বাড়ি মৃত তাজুল ইসলামের ছেলে ও সিনথিয়া ফ্রান্সের লারোসাল শহরের পচিচ জুবের মেয়ে।

জানা গেছে, ২০১৭ সালে খ্রিষ্টান থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে লক্ষ্মীপুরের রাসেলের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন সিনথিয়া। তার পূর্বের নাম ছিল অম। তাদের সংসারে ফুটফুটে দুটি সন্তান রয়েছে। এরমধ্যে মেয়ের নাম আমেনা ইসলাম (৬) ও ছেলে আলিফ ইসলাম (৪)। সম্প্রতি রাসেল স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে বাড়িতে এসেছেন। মেঘনা নদী এলাকাসহ লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে ঘুরে গ্রামীণ পরিবেশে আনন্দ উদযাপনের চিত্রও তাদের পেইজে তুলে ধরেছেন। পৃথিবীর বৃহৎ সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারও তারা ঘুরে এসেছেন।

রাসেলের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশের কাছে বিদেশকে এবং বিদেশের মাটিতে বসে বাংলাদেশকে উপস্থাপন করার উদ্দেশ্য নিয়ে ২০২৪ সালে রাসেল এন্ড সিনথিয়া নামে ফেসবুক পেইজ খোলা হয়। এর আরেকটি উদ্দেশ্য রয়েছে সেটি হল মানুষের সঙ্গে পরিচিত ও যোগাযোগ বৃদ্ধি করা। বর্তমানে পেইজে প্রায় ২.১ মিলিয়ন ফলোয়ার রয়েছে। এরমধ্যে মাত্র ৪০ শতাংশ বাংলাদেশী আর ৬০ শতাংশ বিদেশ থেকে। এরাবিয়ান দেশ থেকে আমাদেরকে সবচেয়ে বেশি ফলো করে। একটা মানুষ যে পারফেক্ট হবে তা না, আমাদেরও ভুল থাকতে পারে। তারপরও যে বাংলাদেশের মানুষ যে আমাদেরকে এতটুকু ভালোবাসে এবং ভালোবাসা দেবে এটা আমরা কল্পনাও করতে পারিনি।

জানা গেছে, ২০১১ সালে রাসেল উচ্চ শিক্ষার জন্য ইংল্যান্ড যান। সেখান থেকে ২০১৩ সালে তিনি ফ্রান্সে চলে যান সেই উচ্চ শিক্ষার জন্য। সেখানেই সিনথিয়ার সঙ্গে রাসেলর পড়ালেখা এবং পরিচয়।

এদিকে ইংরেজি জানলেও ফ্রান্সের মানুষ ফরাসি ভাষায় কথা বলেন। এতে সম্পর্কে মাঝখানে ভাষা জটিলতায় পড়েছেন রাসেল। সিনথিয়ার সঙ্গে কথা বলতে হলে তাকে সহযোগিতা নিতে হতো গুগল ট্রান্সলেটের। এভাবেই ১ বছর যায় তার ভাষা জটিলতা থেকে বের হতে। একপর্যায়ে সিনথিয়ারও বাংলা ভাষা শেখার জন্য আগ্রহ জাগে। তবে মনের মিলন থেকে তাদের ভাব হয়ে যায়।

রাসেল জানায়, সিনথিয়ার এক বান্ধুবিকে প্রেমের প্রস্তাব দিতে যান তিনি। কিন্তু ঘটনাস্থলে সিনথিয়ার হাসিতে ফেঁসে গেলেন তিনি। মনে মনে ভাবেন যদি সিনথিয়া তার জীবনে আসে, তাহলে সবচেয়ে ভালো হবে। আল্লাহর নিয়তি, শেষে প্রেমের সম্পর্ক থেকে দুইজন এখন স্বামী-স্ত্রী।

বিয়ের বিষয়ে প্রথমে সিনথিয়ার বাবা রাজি হননি। তখন তার বয়স ছিল ১৮ বছর। বিদেশে ১৮ বছরের মেয়েদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা রয়েছে। এতে পরে তার বাবাকে অনুরোধ করে সে বাংলাদেশে আসে। ২০১৭ সালে লক্ষ্মীপুরে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের মাধ্যমে তার নাম অম থেকে সিনথিয়া ইসলাম রাখা হয়। পরে ইসলামিক রীতিনীতি অনুযায়ী রাসেল ও সিনথিয়ার বিয়ে হয়। এনিয়ে সিনথিয়া ৫ বার শ্বশুর বাড়ি লক্ষ্মীপুরে এসেছে।

সাংসারিক জীবনে বিশ্বাস ও ভালোবাসার মাধ্যমে যেকোনো পরিস্থিতি মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা সিনথিয়ার অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন রাসেল। তার সুখে আছেন। বিদেশী অন্যান্য মেয়েদের চেয়ে সিনথিয়ার মন-মানসিকতাও অনেক ভালো। তার স্বামীর দাবি, সিনথিয়ায় সংসারকে সুখী রাখছে। এতে নিজের অবদান কম বলে জানালেন রাসেল। বাচ্চা হওয়ার আগে সিনথিয়া চাকরি করতো। এরপর তাকে উৎসাহ দিলেও বাংলাদেশের মায়েদের মতো সেও দায়িত্ববান হয়ে উঠে। এখন সে চাকরি করে না। রাসেলের আয়-উপার্জনেই এখন সুখী পরিবার তাদের।

রাসেল বলেন, আমার মাতৃভূমি বাংলাদেশ। দেশেতে আসতে হবেই। আমার বাচ্চাদের মায়ের দেশ হচ্ছে ফ্রান্স। সেটা ভোলা যাবে না। বাচ্চারা বাংলাদেশী এবং ফরাসিও। দুটিই আমি মানতে চেষ্টা করি। আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রয়েছে পরবর্তীতে যদি কোন ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারি তাহলে আমি ৬ মাস বাংলাদেশে এবং ৬ মাস ফ্রান্সে থাকবো। বাচ্চাদেরকে আমাদের দেশের সংস্কৃতি শেখানো যাবে। সাথে তারা যেন তাদের মায়ের দেশের কথাও যেন না ভুলে।

কন্টেন্ট ক্রিয়েট নিয়ে তিনি বলেন, মানুষের ভালোবাসা পেতে হলে সেক্রিফাইস করতেই হবে। কন্টেন্ট ক্রিয়েটের সবকিছু আমিই করি। মাঝে মাঝে সিনথিয়া কিছু আইডিয়া দেয়। তার চালচলন কথাবার্তা মানুষ বেশি ভালোবাসে। যেহেতু এটি আমরা শুরু করেছি শেষ আমাদেরই করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, অনেকেই প্রশ্ন করেন আপনার বাড়িতো লক্ষ্মীপুর, আপনি নোয়াখালীকে রিপ্রেজেন্ট করেন কেন? আসলে নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনী আমরা একই মায়ের সন্তান। লক্ষ্মীপুরের কথা বললে নোয়াখালীর বিষয়টি আগে আসে। নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষা সারাদেশেই খুব পরিচিত। বিদেশেও অনেক মানুষ নোয়াখালীর ভাষায় কথা বলে। সেজন্য আমরা চেষ্টা করি আঞ্চলিক ভাষায় দেশের মানুষের কথাগুলো ফুটিয়ে তোলার জন্য।

সিনথিয়ার পরিবার নিয়ে রাসেল বলেন, সিনথিয়ার ছোট বেলায় তার বাবা মায়ের ডিভোর্স হয়ে যায়। যার কারণে সে মায়ের ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। সেই ভালোবাসা সে আমার মায়ের কাছ থেকে পাওয়ার আশা করে এবং পাচ্ছে, আলহামদুলিল্লাহ। সেজন্য সে বারবার বাংলাদেশে ফিরে আসার জন্য চেষ্টা করছে।

ফরাসি ভাষায় সিনথিয়া বলেন, বাংলাদেশে পরিবারের বন্ধন, একে অপরের প্রতি ভালোবাসা সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে। এমন সম্পর্ক আসলে বিদেশে দেখা যায় না। এদেশের সামাজিকতাকে সে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে। বাংলা ভাষায় কথা বলতে বললে তিনি বলেন, ‘আমার দেশ বাংলাদেশ’। আসলে তিনি মেনে নিয়েছেন যে বাংলাদেশ শুধু তার স্বামীর দেশ নয়, তারও দেশ। শাশুড়ির হাতে বানানো পিঠা তার পছন্দের খাবার। নিরহংকারী সিনথিয়া সবার সাথে সহজে মিশতে পারেন।

রাসেল বলেন, আমার মেয়ের নাম আমেনা ইসলাম (৬)। এ নামটি তার মায়ের দেওয়া। হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর মায়ের নামে আমাদের মেয়ের নাম রাখা হয়েছে। আর আমার ছেলে নাম হচ্ছে আলিফ ইসলাম (৪)। ছেলেটা বাংলা একটু কম পারে। ভাষা শেখানো নিয়ে এটা আমার ব্যর্থতা। আমি এখনো আমার স্ত্রীকে বাংলা ভাষা শিখাতে পারিনি। বাচ্চারা যেটা শিখে সেটা বেশিরভাগই মায়ের কাছ থেকে শেখে। আমিতো কাজের কারণে বেশিরভাগ সময়ই বাহিরে থাকি, এজন্য তাদেরকে ভাষা শেখাতে পারিনি। রক্তের টানে নাড়ির টানে তাদেরকে বাংলা শিখতে হবে।

আরটিভি/এএএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নদীর ব্লক নির্মাণে লবণপানির বালু ব্যবহারের অভিযোগ
আমতলীর পায়রা নদীর এক হাজার ২০০ মিটার ব্লক নির্মাণে লবণপানির বালু ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই বালুতে প্রয়োজনীয় এফএম মান নেই। বুধবার (১৪ অক্টোবর) এ বালু দিয়ে ব্লক নির্মাণকাজ শুরু করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফলে অল্প দিনের মধ্যেই ব্লক নষ্ট হয়ে ক্ষয়ে যাবে। এতে সরকারের শত কোটি টাকার উন্নয়ন ভেস্তে যাবে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। দ্রুত তদন্ত করে ওই বালু দিয়ে ব্লক নির্মাণ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তারা। জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড পায়রা নদীর ভয়াবহ ভাঙন রোধে ব্লক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। চাওড়া ইউনিয়নের বৈঠাকাটা ৪৩/১ এবং আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের পশুরবুনিয়া ৪৪/বি পোল্ডারে ৪ হাজার ৫০০ মিটার ব্লক নির্মাণে ১৩টি প্যাকেজে কাজ পায় বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। গত দুই বছরে বেশ কয়েকটি প্যাকেজের কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে ৪৩/১ নম্বর পোল্ডারে ৩ ও ৪ নম্বর প্যাকেজে ৬০০ মিটার এবং ৪৪/বি পোল্ডারে ১৪ ও ১৫ নম্বর প্যাকেজে ৬০০ মিটার ব্লক নির্মাণকাজ চলছে। ন্যাশন টেক নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওই চার প্যাকেজের এক হাজার ২০০ মিটার ব্লক নির্মাণের কাজ পায়। দরপত্রে উল্লেখ আছে, ব্লক নির্মাণে সিলেকশন বালু ব্যবহার করতে হবে এবং বালুর এফএম মান ২.০০-এর বেশি হতে হবে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ওই চার প্যাকেজের ব্লক নির্মাণ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশন টেক চট্টগ্রাম থেকে লবণপানির বালু এনে স্তূপ করে রেখেছে। বুধবার ন্যাশন টেকের লোকজন ওই বালু দিয়ে ব্লক নির্মাণকাজ শুরু করেছেন। বিষয়টি বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে জানালেও তারা অজ্ঞাত কারণে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। দ্রুত তদন্ত করে ওই বালু পরিবর্তন করে সিলেকশন বালু দিয়ে ব্লক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় রহমান মিয়া, হাতেম ও খায়রুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের লবণপানির বালু এনে স্তূপ করে রেখেছে। ওই বালু দিয়ে বুধবার (১৪ অক্টোবর) কাজ শুরু করেছে। তারা আরও বলেন, স্তূপ করা বালুর নিচে জমে থাকা পানি মুখে দিলেই বোঝা যাবে বালু কোথাকার। এ বালু দিয়ে ব্লক নির্মাণ করলে তা টেকসই হবে না। অল্প দিনের মধ্যেই ব্লক ক্ষয়ে নষ্ট হয়ে যাবে। এতে সরকারের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। তারা আরও বলেন, লবণপানির বালুর বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করেছেন, কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট বলেন, পায়রা নদীর ব্লক নির্মাণে ন্যাশন টেক নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যে বালু স্তূপ করে রেখেছে, ওই বালুতে প্রয়োজনীয় এফএম মান নেই। ওই বালু দিয়ে ব্লক নির্মাণ করলে বেশিদিন টিকবে না। ন্যাশন টেকের সিভিল ইঞ্জিনিয়ার আবুল খায়ের বলেন, বালুর এফএম মান পরীক্ষা করে তা ফিল্ডে নামিয়ে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। এ বালু দিয়ে ব্লক নির্মাণ করে বুয়েটে পরীক্ষা করা হবে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে ব্লক বাতিল করে দেওয়া হবে। বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আজিজুল হক সুজন বলেন, কিছু স্তূপ করা বালুতে এফএম মান কম থাকলেও সব মিলিয়ে ঠিক আছে। ন্যাশন টেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মো. গোলাম ফারুক বলেন, স্তূপ করা বালু দিয়েই ব্লক নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছে। এ বালুতে কোনো সমস্যা নেই। সমস্যা থাকলে ব্লক নির্মাণ শেষে ল্যাব পরীক্ষায় তা ধরা পড়বে। সমস্যা ধরা পড়লে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ ব্লক বাতিল করে দেবে। বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হান্নান প্রধান বলেন, বালুর এফএম মান ঠিক না থাকলে তা দিয়ে ব্লক নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরটিভি/টিআর
নদীর ব্লক নির্মাণে লবণপানির বালু ব্যবহারের অভিযোগ
স্কুলে প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষিকার মারামারি, ভিডিও ভাইরাল
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও ঘিরে তোলপাড় চলছে। সেখানকার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে প্রধান শিক্ষক ও এক সহকারী শিক্ষিকা ধস্তাধস্তি ও মারামারিতে লিপ্ত হন। পেশাগত মর্যাদাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরেই দুই শিক্ষকের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল। ঘটনাটি ঘটেছে ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। অভিযুক্ত দুই শিক্ষক হলেন, প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন ও সহকারী শিক্ষিকা আসমা বেগম।  জানা গেছে, তারা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে তাদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছে এবং তারা আলাদা বসবাস করছেন। এ নিয়ে আদালতে একাধিক মামলাও বিচারাধীন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন আগে বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে এ ঘটনা ঘটে। পারিবারিক কলহের জেরে তাদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরবর্তীতে তা ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতিতে রূপ নেয়। ঘটনার সেই দৃশ্যের ধারণকৃত ভিডিও মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জনসমক্ষে আসে। অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০০৪ সালে আফজাল হোসেন ও আসমা বেগমের বিয়ে হয় এবং তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। দীর্ঘদিন আলাদা থাকলেও এখনো তাদের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি। ২০১১ সালে দুজনই আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। স্কুল অফিসে এমন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন বলেন, পারিবারিক নানা বিষয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ রয়েছে, যা মাঝেমধ্যে বিদ্যালয় পর্যন্ত গড়ায়। ঘটনার দিনও সেই বিরোধের জেরেই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এমন ঘটনা ঘটানো ঠিক হয়নি জানিয়ে তিনি আরও প্রকাশ করেন, এর আগেও দুই থেকে তিনবার স্কুলে তাদের মধ্যে এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষিকা আসমা বেগমের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার মোবাইফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পাঁচজন শিক্ষক ও প্রায় ৯০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে পরিচালিত এ বিদ্যালয়টিতে এমন কাণ্ডে শিক্ষার সার্বিক পরিবেশ ও শিশুদের মানসিক বিকাশ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।  এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মিজানুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের এমন আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ব্যক্তিগত কলহের প্রভাবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। বিষয়টি নজরে আসার কথা জানিয়ে ফুলবাড়িয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, ঘটনাটি দিন দশেক আগের হলেও ভিডিও প্রকাশের পর তা জানা গেছে।  তিনি জানান, বিদ্যালয়ে এমন শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বুধবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশমালা পাঠিয়ে চিঠি দেওয়া হবে। আরটিভি/এসআর
স্কুলে প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষিকার মারামারি, ভিডিও ভাইরাল
ধানক্ষেত থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার
বগুড়ার সোনাতলায় নিখোঁজের তিন দিন পর বড় বালুয়া এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে ইউসুফ (৭) নামের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।  বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে মরদেহ উদ্ধারের পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত ইউসুফ সোনাতলা উপজেলার বড় বালুয়া এলাকার উজ্জ্বল হোসেনের ছেলে। শিশুটির মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এটি দুর্ঘটনা নাকি হত্যাকাণ্ড, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এরই মধ্যে শিশুটির বাড়িতে কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তির আসা এবং এরপর থেকে তার নিখোঁজ থাকার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগের দিন শিশুটির বাড়িতে কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তি বেড়াতে এসেছিলেন। এরপর থেকে ইউসুফকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে শিশুটির বাবা সোনাতলা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। নিখোঁজের তিন দিন পর মঙ্গলবার দুপুরে বড় বালুয়া এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে শিশুটি কীভাবে নিখোঁজ হয়েছিল এবং তার মৃত্যুর পেছনে কোনো অপরাধমূলক ঘটনা রয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বালুয়াহাট বাজারের এক মুদি দোকানি জানান, শিশুটির বাড়িতে কয়েকজন লোক এসেছিলেন। তারা কারা, তা জানতে চাইলে শিশুটির মা তাদের চেনেন না বলে জানান। অপরিচিত ব্যক্তিদের বাড়িতে খাওয়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান বলে দাবি করেন ওই দোকানি। তবে ওই ব্যক্তিরা কারা ছিলেন, কেন এসেছিলেন এবং শিশুটির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউসুফ বালুয়াহাট বাজারের বিভিন্ন দোকানে পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পৌঁছে দিয়ে সহযোগিতা করত। এই কাজের বিনিময়ে বাজারের দোকানিরা তাকে ৫ থেকে ১০ টাকা করে দিতেন। এভাবেই বাজারের দোকানিদের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছিল শিশুটি। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পাশাপাশি নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শিশুটির বাড়িতে আসা অপরিচিত ব্যক্তিদের পরিচয়, তার নিখোঁজ হওয়ার পরিস্থিতি এবং ধানক্ষেত থেকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে তদন্তের আগে এসব ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে বলে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সোনাতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, ৫ থেকে ৭ বছর বয়সী একটি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। আরটিভি/টিআর
ধানক্ষেত থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার
লালশাড়িতেই হারিয়ে যাচ্ছে ‘দৌড়ে বেড়ানো’ শৈশব!
পিরোজপুর জেলা সদর থেকে মঠবাড়িয়া উপজেলা প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বলেশ্বর নদের কোলঘেঁষা এ উপজেলায় প্রবাসী পরিবারের সংখ্যা বেশি।
লালশাড়িতেই হারিয়ে যাচ্ছে ‘দৌড়ে বেড়ানো’ শৈশব!
সার সংকটে ১১ দলীয় জোটের এমপিদের হাত থাকতে পারে: মীর শাহে আলম
স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, যেসব এলাকায় বিএনপির সংসদ সদস্য (এমপি) রয়েছেন, সেখানে সারসংকট বা এ-সংক্রান্ত কোনো সমস্যা হয়নি। যেসব জেলায় সার নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে, সেসব জেলার এমপিরা ১১-দলীয় জোটের। সরকারকে বিভ্রান্ত করতে তারা দলীয় লোকজনের মাধ্যমে এই সংকট তৈরি করে থাকতে পারেন। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেলা ৩টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ঘোড়াইঘাট এলাকায় গড়াই নদীর ওপর প্রস্তাবিত শহীদ আবরার ফাহাদ সেতুর স্থান পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি আরও বলেন, উত্তরাধিকারসূত্রে তারা যেসব সার ডিলার পেয়েছেন, তাদের স্বৈরাচারী সরকারের আমলে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তাদের অসহযোগিতার কারণে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। বর্তমান সরকারের আমলে সার ডিলার নিয়োগে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে। এর আগে প্রতিমন্ত্রী উপজেলার রায়ডাঙ্গায় শহীদ আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত করেন। কবর জিয়ারত শেষে গাড়িতে ওঠার সময় সেখানে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে প্রতিমন্ত্রী সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাবিত দুটি স্থান ঘুরে দেখেন। এ সময় জেলার বর্তমান ও সাবেক বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্যরা এবং শহীদ আবরার ফাহাদের বাবা মো. বরকত উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/টিআর
সার সংকটে ১১ দলীয় জোটের এমপিদের হাত থাকতে পারে: মীর শাহে আলম