
ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের দক্ষিণ আঁধারমানিক গ্রামের খালের ওপর তিন লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত কালভার্টটি কোনো কাজে আসছে না স্থানীয় কৃষকদের। দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় এটি ব্যবহার করতে পারছেন না তারা। ফলে খাল পার হয়ে কৃষিজমিতে যাতায়াত ও ফসল আনা-নেওয়ায় এখনো জমির সরু আইলের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে কৃষকদের।
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কালভার্টটি নির্মাণে তিন লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। মেসার্স আয়ান এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এর নির্মাণকাজ করে। তবে প্রকল্পে শুধু কালভার্ট নির্মাণের বরাদ্দ থাকলেও সংযোগ সড়কের জন্য কোনো অর্থ রাখা হয়নি। ফলে সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত স্থাপনাটি কৃষকদের কতটা কাজে আসছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় কৃষক জাফর হোসেন বলেন, আঁধারমানিক খালের ওপর কাঠের সাঁকো তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে তারা কৃষিজমিতে যাতায়াত করতেন। পরে কালভার্ট নির্মাণ করা হলেও সেটিতে ওঠার কোনো সড়ক রাখা হয়নি। এতে যাতায়াতের সমস্যার সমাধান হয়নি। সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হলে এলাকার অনেক কৃষক উপকৃত হতেন।
আরেক কৃষক আবদুল মোতালেব বলেন, কালভার্টটির প্রায় ১০ ফুট নিচে জমির একটি সরু আইল রয়েছে। সংযোগ সড়ক না থাকায় কালভার্টে উঠতে হলে মই ব্যবহার করতে হবে। ফলে এটি কৃষকদের কোনো কাজে আসছে না।
এ বিষয়ে ফেনী জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী মো. ইউনুছ বলেন, তিন লাখ টাকা বরাদ্দের এ প্রকল্পে সড়ক নির্মাণের সুযোগ নেই। প্রকল্পটি মূলত খাল পার হয়ে কৃষিজমিতে যাতায়াতের সুবিধার জন্য নেওয়া হয়েছিল। এটি গাড়ি চলাচলের সড়ক নয়। তাই সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের আওতাভুক্ত ছিল না।
তিনি আরও বলেন, জেলা পরিষদ সাধারণত ছোট ছোট প্রকল্প বাস্তবায়ন করে, কোনো রাস্তা তৈরি করে না। এ কালভার্টের ক্ষেত্রেও সংযোগ সড়ক নির্মাণের সুযোগ নেই। স্থানীয়রা চাইলে সরকারের অন্য কোনো দপ্তর থেকে আলাদা বরাদ্দের চেষ্টা করতে পারেন।
আরটিভি/এমএইচজে




