
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় বিরল প্রজাতির হিমালয়ান গৃধিনী (গ্রিফন) শকুন উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার নাতিমা গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন মাঠে অসুস্থ অবস্থায় শকুনটিকে দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে সেটিকে নিরাপদ স্থানে রেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।
বুধবার সকালে উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ শকুনটিকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে চিকিৎসা শুরু করে। বর্তমানে পাখিটি মহেশপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মহেশপুর বন বিভাগের ডেপুটি রেঞ্জার মো. শফিকুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, রাতে অসুস্থ অবস্থায় বিরল এই হিমালয়ান গ্রিফন শকুনটি উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি সকালে উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে খুলনা বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগকে অবহিত করা হয়েছে। শকুনটির চিকিৎসার পর অবস্থার উন্নতি হলে আগামী দুই দিনের মধ্যে সেটিকে প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় পাঠানো হবে।
মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, উদ্ধার করা শকুনটির ডানার বিস্তৃতি আট ফুটেরও বেশি। এ প্রজাতির শকুন সাধারণত হিমালয় অঞ্চলে বসবাস করে। চলতি বছর তীব্র শীতের কারণে পাখিটি উষ্ণ এলাকার দিকে উড়ে আসতে পারে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে মাঠে অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার জানান, বিরল এই শকুনটির যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসা কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং তরুণ বন্যপ্রাণী গবেষক জোহরা মিলা জানান, হিমালয়ী শকুন বা হিমালয়ান গৃধিনী প্রজাতির শকুন সাধারণত হিমালয় পার্বত্য এলাকায় বাস করে। প্রতিবছর শীতের এই সময়ে বাংলাদেশে পরিযায়ন করে। পরিযায়নের পথে শকুনটি অসুস্থ হয়ে পড়ে গিয়ে থাকতে পারে।
তিনি বলেন, পৃথিবীতে দ্রুততম বিলুপ্ত হতে চলা প্রাণী শকুন। তাই শকুনমাত্রই বিশ্বে ‘মহাবিপন্ন ’। বাংলাদেশে শকুনের পরিস্থিতি খুবই খারাপ। সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী বাংলাদেশে মাত্র ২৬০টি শকুন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পশু চিকিৎসায় ডাইক্লোফেনাক ও কেটোপ্রোফেনের ব্যবহার, খাদ্য সংকট এবং বাসস্থান সংকটসহ নানা প্রতিকূল পরিবেশের কারণে প্রকৃতির ঝাড়ুদার হিসেবে পরিচিত এই পাখিটি হারিয়ে যাচ্ছে। শকুন বিলুপ্ত হয়ে গেলে সুন্দর একটি পাখি হারানো পাশাপাশি দেশের মানুষ অ্যানথ্রাক্স, জলাতঙ্কসহ পশু হতে সংক্রামক রোগের ভয়াবহ ঝুঁকিতে পড়বে। বন বিভাগসহ আইইউসিএন শকুন রক্ষায় বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাখিটির প্রতি আমাদের সদয় হওয়া খুবই প্রয়োজন।
আরটিভি/এসকে



