ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

তেঁতুলিয়ার করাল থাবায় বিলীন বসতভিটা, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ

চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৬, ১১:৪৬ এএম
ছবি: আরটিভি

ভোলার চরফ্যাশনে তেঁতুলিয়া নদীর ভয়াবহ ভাঙনে প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও মানুষের জীবনের শেষ সম্বল। নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতে এখন শুধুই হাহাকার আর আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভিটেমাটি হারিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন দুই শতাধিক পরিবার।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ভাঙন চললেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

চরফ্যাশন উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার পশ্চিমে তেঁতুলিয়া নদীঘেঁষা নীলকমল, নুরাবাদ ও মুজিবনগর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা রয়েছে। নদীতীরবর্তী এসব অঞ্চলে মূলত জেলে, কৃষক ও নিম্ন আয়ের মানুষের বসবাস। একসময় নদীকেন্দ্রিক জীবিকা ও সবুজ ফসলের মাঠে সমৃদ্ধ এ জনপদ এখন ভাঙনের করাল গ্রাসে বিপর্যস্ত। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে নীলকমল ইউনিয়নের ১ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে।

আরও পড়ুন

স্থানীয়দের দাবি, চলতি ভাঙনে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে শতাধিক বসতঘর ও প্রায় এক হাজার একর ফসলি জমি হারিয়ে গেছে। ভাঙনের শিকার হয়ে প্রায় দুইশ পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কেউ আশ্রয় নিয়েছেন বেড়িবাঁধের ঢালে, কেউবা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে। আবার অনেকে নদীর পাড়ে অস্থায়ী ঝুপড়ি ঘর তুলে কোনোমতে দিন কাটাচ্ছেন। একদিকে মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, অন্যদিকে জীবিকার পথও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা।

নদীভাঙনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রান্তিক কৃষক ও জেলে পরিবারগুলো। ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় কৃষকরা হারিয়েছেন বছরের একমাত্র আয়ের উৎস। অন্যদিকে নদীতে মাছ কমে যাওয়ায় জেলেদের অবস্থাও নাজুক হয়ে পড়েছে। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছেন তারা।

স্থানীয় বৃদ্ধ জয়নাল আবেদিন বলেন, আমি ৪০ বছর ধরে এখানে পরিবার নিয়ে বসবাস করেছি। নদী আমার বসতভিটা নিয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে অন্য জায়গায় আশ্রয় নিয়েছি। সরকার যদি সহায়তা করত, তাহলে কিছুটা উপকৃত হতাম।

নদীর পাড়ে আশ্রয় নেওয়া জুলেখা বেগম বলেন, আমার বসতঘর থেকে নদী একটু দূরে। রাতে ঘুমালে ভয় লাগে, মনে হয় নদী ঘর ভেঙে নিয়ে যাবে। এই জায়গাটুকুও ভেঙে গেলে কোথায় যাব জানি না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতেও ভাঙনরোধে নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো টেকসই ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মাঝে মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে কিছু বালুর বস্তা ফেলা হলেও তা ভাঙন ঠেকাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। ফলে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।

এদিকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের আশঙ্কা, এখনই স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও নদীশাসনের উদ্যোগ না নিলে আগামী বর্ষা মৌসুমে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে হারিয়ে যেতে পারে।

এ বিষয়ে ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ এর উপপ্রকৌশলী নিয়াজ মোর্শেদ বলেন, আমরা ইতোমধ্যে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানিয়েছি। ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
স্বামী পেশাদার পাখি শিকারি, প্রতিবাদে ৩ বছর ধরে বাবার বাড়িতে স্ত্রী
হবিগঞ্জের মাধবপুরে পেশাদারভাবে বন্যপ্রাণী ও পাখি শিকারের অভিযোগে স্বামীর ঘর ছেড়ে প্রায় তিন বছর ধরে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন তানিয়া আক্তার নামে এক গৃহবধূ।
স্বামী পেশাদার পাখি শিকারি, প্রতিবাদে ৩ বছর ধরে বাবার বাড়িতে স্ত্রী
নবীনবরণকে কেন্দ্র করে দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ৪০
কলেজের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্টে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
নবীনবরণকে কেন্দ্র করে দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ৪০
বিয়ের প্রলোভনে শ্যালিকাকে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার দুলাভাই
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দুলাভাইয়ের বিরুদ্ধে শ্যালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। ধর্ষণের শিকার ওই তরুণী (২০) বর্তমানে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। 
বিয়ের প্রলোভনে শ্যালিকাকে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার দুলাভাই
চুরি ঠেকাতে সড়কে ১২ বাঁশকল, পরিদর্শনে পুলিশ সুপার
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে গরু চুরি, চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ১২টি পয়েন্টে বাঁশকল স্থাপন করে রাতের পাহারা জোরদার করা হয়েছে। বাঁশকল হলো সড়কের ওপর বাঁশের তৈরি অস্থায়ী প্রতিবন্ধক, যা প্রয়োজন অনুযায়ী তুলে দিয়ে যানবাহন চলাচলের সুযোগ দেওয়া হয়। এসব পয়েন্টে পুলিশ, গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার সোনাখাড়া ও ধামাইনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপিত বাঁশকল পরিদর্শন করেন সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু।  এ সময় তিনি দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য, গ্রাম পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে কথা বলে পাহারা ও যানবাহন তল্লাশি কার্যক্রমের খোঁজ নেন। রায়গঞ্জ থানা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ ও অপরাধপ্রবণ এলাকায় এসব বাঁশকল স্থাপন করা হয়েছে। রাতের বেলায় সন্দেহজনক যানবাহন ও ব্যক্তিদের ওপর নজরদারির পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পৃক্ত করে পরিচালিত এ পাহারা ব্যবস্থায় পুলিশ ও গ্রাম পুলিশের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবীরাও দায়িত্ব পালন করছেন।  দায়িত্ব পালনকারীদের রাতের খাবারসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিচ্ছে থানা পুলিশ। পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার দায়িত্বে থাকা সদস্যদের সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে চেকিংয়ের সময় সাধারণ মানুষের চলাচলে যাতে অযথা ভোগান্তি না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।  এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সিরাজগঞ্জ মো. হাফিজুর রহমান, রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম খান, রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসানুজ্জামানসহ জেলা ও থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।  জেলা পুলিশ জানিয়েছে, গরু চুরি, চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও পয়েন্টগুলোতে এধরণের নজরদারি অব্যাহত থাকবে।  আরটিভি/এসআর
চুরি ঠেকাতে সড়কে ১২ বাঁশকল, পরিদর্শনে পুলিশ সুপার
মা-বোনকে পিটিয়ে ঘরে আগুন দিলেন যুবক, ঘটনা কী
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে মাদকের টাকার জন্য মা ও বোনকে মারধরের পর ঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ফুল মিয়া (৩২) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ।  বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে কুলিয়ারচর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বড়খারচর মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের দাবি, আগুনে ঘরের সব আসবাব, কাপড়চোপড়, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ১৫টি হাঁস ও প্রায় ৪০টি দেশি মুরগি পুড়ে গেছে। নির্যাতনের শিকার রুবিনা বেগম বলেন, তার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে মাদকের টাকার জন্য পরিবারের সদস্যদের মারধর করতেন। কখনো দা নিয়ে কোপাতে আসতেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে রুবিনা বলেন, আমি আমার ছেলের ফাঁসি চাই। যদি ফাঁসি না হয়, অন্তত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। নয়তো সে আমাদের মেরে ফেলবে। অভিযুক্ত ফুল মিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে তাকে বকাঝকা ও নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ঘরে তারও অংশ রয়েছে এবং রাগের মাথায় আগুন দিয়েছেন। কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, ফুল মিয়াকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আরটিভি/এসআর
মা-বোনকে পিটিয়ে ঘরে আগুন দিলেন যুবক, ঘটনা কী
আরও পড়ুন
তেঁতুল গাছে অজ্ঞান হয়ে ঝুলছিলেন তরুণ, অতঃপর...
‘তোকে আমি এমন করব সারাজীবন কাঁদবি’ বলে বাবাকে হুমকি, পরে মিলল ছেলের বস্তাবন্দি মরদেহ
বন্ধের দিনে মাদরাসার টেবিল-বেঞ্চ বিক্রি করে দিলেন শিক্ষক ও লাইব্রেরিয়ান
ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে নারীকে পিটিয়ে হত্যা