তেঁতুলিয়ার করাল থাবায় বিলীন বসতভিটা, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ

চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

রোববার, ২৪ মে ২০২৬ , ১১:৪৬ এএম


তেঁতুলিয়ার করাল থাবায় বিলীন বসতভিটা, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ
ছবি: আরটিভি

ভোলার চরফ্যাশনে তেঁতুলিয়া নদীর ভয়াবহ ভাঙনে প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও মানুষের জীবনের শেষ সম্বল। নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতে এখন শুধুই হাহাকার আর আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভিটেমাটি হারিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন দুই শতাধিক পরিবার।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ভাঙন চললেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

চরফ্যাশন উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার পশ্চিমে তেঁতুলিয়া নদীঘেঁষা নীলকমল, নুরাবাদ ও মুজিবনগর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা রয়েছে। নদীতীরবর্তী এসব অঞ্চলে মূলত জেলে, কৃষক ও নিম্ন আয়ের মানুষের বসবাস। একসময় নদীকেন্দ্রিক জীবিকা ও সবুজ ফসলের মাঠে সমৃদ্ধ এ জনপদ এখন ভাঙনের করাল গ্রাসে বিপর্যস্ত। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে নীলকমল ইউনিয়নের ১ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে।

আরও পড়ুন

স্থানীয়দের দাবি, চলতি ভাঙনে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে শতাধিক বসতঘর ও প্রায় এক হাজার একর ফসলি জমি হারিয়ে গেছে। ভাঙনের শিকার হয়ে প্রায় দুইশ পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কেউ আশ্রয় নিয়েছেন বেড়িবাঁধের ঢালে, কেউবা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে। আবার অনেকে নদীর পাড়ে অস্থায়ী ঝুপড়ি ঘর তুলে কোনোমতে দিন কাটাচ্ছেন। একদিকে মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, অন্যদিকে জীবিকার পথও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা।

নদীভাঙনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রান্তিক কৃষক ও জেলে পরিবারগুলো। ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় কৃষকরা হারিয়েছেন বছরের একমাত্র আয়ের উৎস। অন্যদিকে নদীতে মাছ কমে যাওয়ায় জেলেদের অবস্থাও নাজুক হয়ে পড়েছে। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছেন তারা।

স্থানীয় বৃদ্ধ জয়নাল আবেদিন বলেন, আমি ৪০ বছর ধরে এখানে পরিবার নিয়ে বসবাস করেছি। নদী আমার বসতভিটা নিয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে অন্য জায়গায় আশ্রয় নিয়েছি। সরকার যদি সহায়তা করত, তাহলে কিছুটা উপকৃত হতাম।

নদীর পাড়ে আশ্রয় নেওয়া জুলেখা বেগম বলেন, আমার বসতঘর থেকে নদী একটু দূরে। রাতে ঘুমালে ভয় লাগে, মনে হয় নদী ঘর ভেঙে নিয়ে যাবে। এই জায়গাটুকুও ভেঙে গেলে কোথায় যাব জানি না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতেও ভাঙনরোধে নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো টেকসই ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মাঝে মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে কিছু বালুর বস্তা ফেলা হলেও তা ভাঙন ঠেকাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। ফলে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।

এদিকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের আশঙ্কা, এখনই স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও নদীশাসনের উদ্যোগ না নিলে আগামী বর্ষা মৌসুমে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে হারিয়ে যেতে পারে।

এ বিষয়ে ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ এর উপপ্রকৌশলী নিয়াজ মোর্শেদ বলেন, আমরা ইতোমধ্যে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানিয়েছি। ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission