
হবিগঞ্জের মাধবপুরে পেশাদারভাবে বন্যপ্রাণী ও পাখি শিকারের অভিযোগে স্বামীর ঘর ছেড়ে প্রায় তিন বছর ধরে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন তানিয়া আক্তার নামে এক গৃহবধূ। স্বামীর পাখি শিকারের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, তানিয়া আক্তারের বাবার বাড়ি উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের কমলপুর গ্রামে। তার অভিযোগ, স্বামী বধু মিয়া দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির পাখি শিকার করে আসছেন। স্বামীর এমন কর্মকাণ্ডে আপত্তি জানিয়ে তিনি প্রায় তিন বছর ধরে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন।
তানিয়া আক্তার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের রামনগর গ্রামসহ সীমান্তবর্তী এলাকায় বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ ও বিষটোপ ব্যবহার করে পাখি শিকার করা হয়। তার স্বামী বধু মিয়া এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বালিহাঁস, ডাহুক, শালিক ও জালালি কবুতরসহ বিভিন্ন পাখি শিকার করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়।
তানিয়া আক্তার বলেন, আমার স্বামী সবসময় পাখি শিকার করে এবং শিকার করা পাখি বাড়িতে এনে রাখে। বিষয়টি আমার কাছে খুবই খারাপ লাগে। তাছাড়া সে বাচ্চা-কাচ্চার খোঁজখবর রাখে না, আমার ও সন্তানদের ভরণপোষণও দিচ্ছে না। বন বিভাগও তাকে নিয়ে একাধিকবার অভিযান চালিয়েছে। তার এসব কর্মকাণ্ড ও বেপরোয়া জীবনযাপনের কারণে আমি তিন বছর ধরে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছি। আমি চাই, সে নিজেকে সংশোধন করে স্বাভাবিক ও ভালো জীবনযাপন করুক এবং বন্যপ্রাণী ধ্বংসের কাজ থেকে বিরত থাকুক।
কমলপুর গ্রামের কিশোর নাহিদ মিয়া বলেন, বধু মিয়া নিয়মিত পাখি শিকার করেন বলে আমরা জানি। এ কারণে তার পারিবারিক জীবনেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বধু মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একসময় আমি পাখি শিকার করতাম, এখন করি না। আমি আমার স্ত্রী-সন্তানদের ভরণপোষণ দেব এবং শিগগিরই তাদের বাড়িতে নিয়ে আসব।
হবিগঞ্জ বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য কর্মকর্তা সাবরিনা শিমু বলেন, ওই শিকারির বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে আমরা আইনি ব্যবস্থা নেব। বন্যপ্রাণীবান্ধব এমন সচেতনতা অবশ্যই প্রশংসনীয়। আমরা সবার কাছ থেকেই এমন সচেতনতা প্রত্যাশা করি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সীমান্তবর্তী এলাকায় বন্যপ্রাণী ও পাখি শিকার বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর আইনি ব্যবস্থা প্রয়োজন।
আরটিভি/এমএম




