পুনঃখননে প্রাণ ফিরেছে মুছার খালে

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬ , ১২:১৩ পিএম


পুনঃখননে প্রাণ ফিরেছে মুছার খালে
ছবি: আরটিভি

লক্ষ্মীপুর সদরের ভবানীগঞ্জের মুছার খাল দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে মৃতপ্রায় অবস্থায় পড়ে ছিল। খালটিতে পানিপ্রবাহ না থাকায় লোকমুখে এটি ‘মরা মুছার খাল’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় এর দুই পাড়ের কয়েকশ একর কৃষিজমিতে দেখা দেয় তীব্র সেচসংকট। ফলে বছরের পর বছর কৃষি উৎপাদনে নানা ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হয় স্থানীয় কৃষকদের। একই সঙ্গে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ পোহাতে হতো আশপাশের বাসিন্দাদের।

সম্প্রতি খালটির প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার পুনঃখনন কাজ সম্পন্ন হওয়ায় নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে মুছার খাল। এতে সেচসংকট ও জলাবদ্ধতা অনেকটাই দূর হয়েছে। ফলে ইউনিয়নের কয়েক হাজার প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, খাল পুনঃখননের ফলে এলাকায় কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

আরও পড়ুন

জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সারা দেশে জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচসুবিধা বৃদ্ধি এবং অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কাবিখা, কাবিটা ও টিআর কর্মসূচির মাধ্যমে ব্যাপক খাল পুনঃখনন কার্যক্রম চলছে।

খাল পুনঃখনন ও সংস্কারকাজ মূলত ওই মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি’-এর আওতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো গ্রামীণ এলাকার কর্মহীন মৌসুমে দরিদ্র মানুষের জন্য স্বল্পমেয়াদি কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মুছার খালটি পুনঃখননের জন্য প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। পার্শ্ববর্তী কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ এলাকার উত্তর সীমানা থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে ভবানীগঞ্জের চরমনসা এলাকা পর্যন্ত সাড়ে ৬ কিলোমিটার পুনঃখননের জন্য এ বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী স্থানীয় দিনমজুরদের সম্পৃক্ত করে কাজটি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। খাল পুনঃখননের পাশাপাশি পাড় ও পাড়ের রাস্তা বাঁধাই এবং পাড়ের দুই পাশে গাছ লাগানোর কাজও চলছে ওই প্রকল্পের মাধ্যমে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে কৃষকদের সেচসুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে হতো। এ কারণে বছরে মাত্র একটি ফসল উৎপাদন করেই সন্তুষ্ট থাকতে হতো তাদের। আবার বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় কৃষিজমি তলিয়ে গিয়ে নষ্ট হতো ফসল। পাশাপাশি ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে কৃষিপণ্য পরিবহনেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো কৃষকদের।

স্থানীয় কৃষক আবদুল করিম বলেন, আগে খালে পানি না থাকায় জমিতে সেচ দিতে খুব কষ্ট হতো। অনেক সময় টাকা খরচ করেও ঠিকমতো ফসল ফলানো যেত না। এখন খাল খননের কারণে সহজে পানি পাওয়া যাচ্ছে। এতে বছরে দুই থেকে তিনটি ফসল ফলানো সম্ভব হবে।

আরেক কৃষক নুরুল ইসলাম বলেন, বর্ষা এলেই জলাবদ্ধতার কারণে আমাদের জমির ফসল নষ্ট হয়ে যেত। খাল পুনঃখননের ফলে কৃষকদের অনেক উপকার হয়েছে। আমরা চাই সরকার ভবিষ্যতেও এ ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প চালু রাখুক।

কৃষকরা জানান, আগে পানির অভাবে শুধু বর্ষা মৌসুমে একবার ধান চাষ করা সম্ভব হতো। এখন সেচসুবিধা নিশ্চিত হওয়ায় বছরে দুই থেকে তিনটি ফসল উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে বেকারত্ব কমার পাশাপাশি কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবেন বলে আশা করছেন। একই সঙ্গে খাল পুনঃখননকাজে স্থানীয়দের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হয়েছে।

শ্রমিকরা জানান, তারা প্রায় এক মাস ধরে মুছার খাল পুনঃখননের কাজে নিয়োজিত আছেন। তারা সবাই কার্ডধারী শ্রমিক। খালে কাজ করে দৈনন্দিন যা আয় করেন, তা দিয়ে আপাতত তাদের সংসার ভালোই চলছে। এ সময়ে এ কাজটি না থাকলে তাদের অনেককেই বেকার থাকতে হতো বলে জানান তারা।

ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল হাসান রনি বলেন, মুছার খাল পুনঃখননের ফলে স্থানীয় কৃষিক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। এক ফসলি জমি দুই থেকে তিন ফসলি জমিতে রূপান্তরিত হবে। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং বেকারত্ব কমবে। এ ছাড়া খাল খননের মাধ্যমে কার্ডধারী শ্রমিকদের কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হয়েছে।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission