ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

পুনঃখননে প্রাণ ফিরেছে মুছার খালে

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৯ জুন ২০২৬, ১২:১৩ পিএম
ছবি: আরটিভি

লক্ষ্মীপুর সদরের ভবানীগঞ্জের মুছার খাল দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে মৃতপ্রায় অবস্থায় পড়ে ছিল। খালটিতে পানিপ্রবাহ না থাকায় লোকমুখে এটি ‘মরা মুছার খাল’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় এর দুই পাড়ের কয়েকশ একর কৃষিজমিতে দেখা দেয় তীব্র সেচসংকট। ফলে বছরের পর বছর কৃষি উৎপাদনে নানা ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হয় স্থানীয় কৃষকদের। একই সঙ্গে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ পোহাতে হতো আশপাশের বাসিন্দাদের।

সম্প্রতি খালটির প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার পুনঃখনন কাজ সম্পন্ন হওয়ায় নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে মুছার খাল। এতে সেচসংকট ও জলাবদ্ধতা অনেকটাই দূর হয়েছে। ফলে ইউনিয়নের কয়েক হাজার প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, খাল পুনঃখননের ফলে এলাকায় কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

আরও পড়ুন

জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সারা দেশে জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচসুবিধা বৃদ্ধি এবং অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কাবিখা, কাবিটা ও টিআর কর্মসূচির মাধ্যমে ব্যাপক খাল পুনঃখনন কার্যক্রম চলছে।

খাল পুনঃখনন ও সংস্কারকাজ মূলত ওই মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি’-এর আওতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো গ্রামীণ এলাকার কর্মহীন মৌসুমে দরিদ্র মানুষের জন্য স্বল্পমেয়াদি কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মুছার খালটি পুনঃখননের জন্য প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। পার্শ্ববর্তী কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ এলাকার উত্তর সীমানা থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে ভবানীগঞ্জের চরমনসা এলাকা পর্যন্ত সাড়ে ৬ কিলোমিটার পুনঃখননের জন্য এ বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী স্থানীয় দিনমজুরদের সম্পৃক্ত করে কাজটি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। খাল পুনঃখননের পাশাপাশি পাড় ও পাড়ের রাস্তা বাঁধাই এবং পাড়ের দুই পাশে গাছ লাগানোর কাজও চলছে ওই প্রকল্পের মাধ্যমে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে কৃষকদের সেচসুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে হতো। এ কারণে বছরে মাত্র একটি ফসল উৎপাদন করেই সন্তুষ্ট থাকতে হতো তাদের। আবার বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় কৃষিজমি তলিয়ে গিয়ে নষ্ট হতো ফসল। পাশাপাশি ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে কৃষিপণ্য পরিবহনেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো কৃষকদের।

স্থানীয় কৃষক আবদুল করিম বলেন, আগে খালে পানি না থাকায় জমিতে সেচ দিতে খুব কষ্ট হতো। অনেক সময় টাকা খরচ করেও ঠিকমতো ফসল ফলানো যেত না। এখন খাল খননের কারণে সহজে পানি পাওয়া যাচ্ছে। এতে বছরে দুই থেকে তিনটি ফসল ফলানো সম্ভব হবে।

আরেক কৃষক নুরুল ইসলাম বলেন, বর্ষা এলেই জলাবদ্ধতার কারণে আমাদের জমির ফসল নষ্ট হয়ে যেত। খাল পুনঃখননের ফলে কৃষকদের অনেক উপকার হয়েছে। আমরা চাই সরকার ভবিষ্যতেও এ ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প চালু রাখুক।

কৃষকরা জানান, আগে পানির অভাবে শুধু বর্ষা মৌসুমে একবার ধান চাষ করা সম্ভব হতো। এখন সেচসুবিধা নিশ্চিত হওয়ায় বছরে দুই থেকে তিনটি ফসল উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে বেকারত্ব কমার পাশাপাশি কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবেন বলে আশা করছেন। একই সঙ্গে খাল পুনঃখননকাজে স্থানীয়দের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হয়েছে।

শ্রমিকরা জানান, তারা প্রায় এক মাস ধরে মুছার খাল পুনঃখননের কাজে নিয়োজিত আছেন। তারা সবাই কার্ডধারী শ্রমিক। খালে কাজ করে দৈনন্দিন যা আয় করেন, তা দিয়ে আপাতত তাদের সংসার ভালোই চলছে। এ সময়ে এ কাজটি না থাকলে তাদের অনেককেই বেকার থাকতে হতো বলে জানান তারা।

ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল হাসান রনি বলেন, মুছার খাল পুনঃখননের ফলে স্থানীয় কৃষিক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। এক ফসলি জমি দুই থেকে তিন ফসলি জমিতে রূপান্তরিত হবে। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং বেকারত্ব কমবে। এ ছাড়া খাল খননের মাধ্যমে কার্ডধারী শ্রমিকদের কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হয়েছে।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
৫ ‘গাঁজাখোর’ আটকের পর বেরিয়ে এলো আসল পরিচয়
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে প্রকাশ্যে গাঁজা সেবনের অভিযোগে পাঁচ যুবককে আটক করেছে রেলওয়ে থানা পুলিশ। পুলিশের দাবি, আটক হওয়া ব্যক্তিরা বিভিন্ন ট্রেনে সক্রিয় ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
৫ ‘গাঁজাখোর’ আটকের পর বেরিয়ে এলো আসল পরিচয়
আ.লীগ ফিরলে আবারও জামায়াত নেতাদের ফাঁসিতে ঝুলতে হবে: রাশেদ খান
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেছেন, রাষ্ট্র পুনর্গঠনের ঐতিহাসিক সুযোগ হাতছাড়া হলে দেশ আর কখনোই ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। একাত্তরের ঘাতক এবং চব্বিশের পরাজিত শক্তি আজ একাট্টা হয়ে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে মেতেছে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরলে ভবিষ্যতে জামায়াত নেতাদেরই আবারও ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলতে হবে।
আ.লীগ ফিরলে আবারও জামায়াত নেতাদের ফাঁসিতে ঝুলতে হবে: রাশেদ খান
এমপির মোবাইল নাম্বার হ্যাক, অতঃপর...
ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জাকির হোসেন বাবলুর মোবাইল নম্বর ক্লোন করে তার পরিচয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে টাকা দাবি করেছে একটি প্রতারক চক্র। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, জনপ্রতিনিধি ও এমপির পরিচিত বিভিন্ন ব্যক্তির হোয়াটসঅ্যাপে তার পরিচয়ে খুদে বার্তা পাঠিয়ে টাকা চাওয়া হয়। বিষয়টি জানতে পেরে এমপি মোহাম্মদ জাকির হোসেন বাবলু তার অফিসিয়াল ফেসবুক আইডিতে সতর্কতামূলক পোস্ট দিয়েছেন। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে প্রতারকরা এমপির ব্যবহৃত অফিসিয়াল মোবাইল নম্বরটি ক্লোন করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠায়। সেখানে এমপির পরিচয় ব্যবহার করে জরুরি প্রয়োজনের কথা বলে টাকা দাবি করা হয়। তবে বার্তা পাওয়া কয়েকজন বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করে টাকা না দিয়ে সরাসরি এমপির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে তারা তাকে ঘটনাটি জানান। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর এমপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে সবাইকে সতর্ক করেন এবং তার পরিচয়ে কেউ টাকা চাইলে তা না দেওয়ার অনুরোধ জানান। এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জাকির হোসেন বাবলু বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে পরিচিত কয়েকজন আমাকে ফোন করে টাকা চাওয়ার বিষয়টি জানান। তখনই মোবাইল নম্বর ক্লোনের বিষয়টি জানতে পারি। ইতোমধ্যে সবাইকে সতর্ক করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক পোস্ট দেওয়া হয়েছে। নম্বরটি হ্যাকারদের হাত থেকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আরটিভি/এসকে
এমপির মোবাইল নাম্বার হ্যাক, অতঃপর...
ফরিদপুরে আমের বাগান বাড়লেও কমছে দেশীয় ফলের গাছ
একসময় ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার গ্রামাঞ্চলের প্রায় প্রতিটি বাড়ির আঙিনা, পুকুরপাড় কিংবা জমির আইলে দেখা যেত গাব, বাতাবি লেবু, কদবেল, চালতা, রয়েল, ঢেউয়া, পিচফল, ডালিম, বরই, জাম, জামরুল, কাঠবাদাম, কামরাঙা, আতাসহ নানা দেশীয় ফলের গাছ। মৌসুম এলেই এসব গাছে ফল ধরত। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যেও ভাগ করে দেওয়া হতো সেই ফল। তবে সময়ের সঙ্গে বদলে যাচ্ছে সেই চিত্র। কমে যাচ্ছে দেশীয় ফলের গাছ, আর বাড়ছে পরিকল্পিতভাবে আমের বাগান।
ফরিদপুরে আমের বাগান বাড়লেও কমছে দেশীয় ফলের গাছ
বাসযাত্রীর হাতের ফাইলে মিলল প্রায় ৬০ লাখ টাকার ইয়াবা
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী বাসে যাত্রীবেশে যাচ্ছিলেন মো. শহিদুল ইসলাম (৪২)। তার হাতে ছিল দুটি কোর্ট ফাইল। বাইরে থেকে সাধারণ নথিপত্র রাখার ফাইল মনে হলেও সেগুলোর ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকানো ছিল ১৯ হাজার ৮৪৫ পিস ইয়াবা।  চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কের সীতাকুণ্ড এলাকা থেকে প্রায় ৬০ লাখ টাকা মূল্যের এই ইয়াবাসহ তাকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৭)। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গ্রেপ্তার মো. শহিদুল ইসলাম খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার দরগাপাড়ার আলী মিয়ার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম শহর থেকে ইয়াবা কিনে বেশি দামে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে আসছিলেন বলে জানিয়েছে এসআরবি৷  বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি জানতে পারে, এক মাদক কারবারি চট্টগ্রাম শহর থেকে যাত্রীবাহী বাসে করে ইয়াবার চালান নিয়ে ঢাকার দিকে যাচ্ছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের লালবাগ এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসানো হয়। পৌনে ১১টার দিকে মহিউদ্দিন মেরিন ইঞ্জিন স্টোরের সামনে স্টারলাইন পরিবহনের একটি বাস এলে থামার সংকেত দেওয়া হয়। পরে বাসটিতে তল্লাশি চালিয়ে যাত্রীবেশে থাকা শহিদুল ইসলামকে আটক করা হয়।  সংস্থাটি জানায়, আটক শহিদুলের কাছে থাকা অ্যাশ রঙের দুটি কোর্ট ফাইলের ভেতর কসটেপ দিয়ে মোড়ানো নীল রঙের পলিজিপার প্যাকেট পাওয়া যায়। সেগুলোর ভেতর থেকে মোট ১৯ হাজার ৮৪৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫৯ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। এ বিষয়ে এসআরবি-৭ চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ আর এ মোজাফফর হোসেন বলেন, গ্রেপ্তার শহিদুল ইসলাম ও উদ্ধার করা ইয়াবা পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সীতাকুণ্ড থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আরটিভি/এসকে
বাসযাত্রীর হাতের ফাইলে মিলল প্রায় ৬০ লাখ টাকার ইয়াবা
আরও পড়ুন
হাসপাতালে মৃত্যুশয্যায় মা, চিকিৎসার টাকা নিয়ে উধাও ছেলে
২২ ভরি সোনা নিয়ে পলাতক সেই ব্যবসায়ী আটক
২২ ভরি সোনা নিয়ে পলাতক ব্যবসায়ী ঢাকায় পুলিশের হাতে আটক
চার দোকানের ২২ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে ব্যবসায়ী উধাও