ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

পুনঃখননে প্রাণ ফিরেছে মুছার খালে

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৯ জুন ২০২৬, ১২:১৩ পিএম
ছবি: আরটিভি

লক্ষ্মীপুর সদরের ভবানীগঞ্জের মুছার খাল দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে মৃতপ্রায় অবস্থায় পড়ে ছিল। খালটিতে পানিপ্রবাহ না থাকায় লোকমুখে এটি ‘মরা মুছার খাল’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় এর দুই পাড়ের কয়েকশ একর কৃষিজমিতে দেখা দেয় তীব্র সেচসংকট। ফলে বছরের পর বছর কৃষি উৎপাদনে নানা ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হয় স্থানীয় কৃষকদের। একই সঙ্গে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ পোহাতে হতো আশপাশের বাসিন্দাদের।

সম্প্রতি খালটির প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার পুনঃখনন কাজ সম্পন্ন হওয়ায় নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে মুছার খাল। এতে সেচসংকট ও জলাবদ্ধতা অনেকটাই দূর হয়েছে। ফলে ইউনিয়নের কয়েক হাজার প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, খাল পুনঃখননের ফলে এলাকায় কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

আরও পড়ুন

জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সারা দেশে জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচসুবিধা বৃদ্ধি এবং অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কাবিখা, কাবিটা ও টিআর কর্মসূচির মাধ্যমে ব্যাপক খাল পুনঃখনন কার্যক্রম চলছে।

খাল পুনঃখনন ও সংস্কারকাজ মূলত ওই মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি’-এর আওতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো গ্রামীণ এলাকার কর্মহীন মৌসুমে দরিদ্র মানুষের জন্য স্বল্পমেয়াদি কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মুছার খালটি পুনঃখননের জন্য প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। পার্শ্ববর্তী কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ এলাকার উত্তর সীমানা থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে ভবানীগঞ্জের চরমনসা এলাকা পর্যন্ত সাড়ে ৬ কিলোমিটার পুনঃখননের জন্য এ বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী স্থানীয় দিনমজুরদের সম্পৃক্ত করে কাজটি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। খাল পুনঃখননের পাশাপাশি পাড় ও পাড়ের রাস্তা বাঁধাই এবং পাড়ের দুই পাশে গাছ লাগানোর কাজও চলছে ওই প্রকল্পের মাধ্যমে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে কৃষকদের সেচসুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে হতো। এ কারণে বছরে মাত্র একটি ফসল উৎপাদন করেই সন্তুষ্ট থাকতে হতো তাদের। আবার বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় কৃষিজমি তলিয়ে গিয়ে নষ্ট হতো ফসল। পাশাপাশি ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে কৃষিপণ্য পরিবহনেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো কৃষকদের।

স্থানীয় কৃষক আবদুল করিম বলেন, আগে খালে পানি না থাকায় জমিতে সেচ দিতে খুব কষ্ট হতো। অনেক সময় টাকা খরচ করেও ঠিকমতো ফসল ফলানো যেত না। এখন খাল খননের কারণে সহজে পানি পাওয়া যাচ্ছে। এতে বছরে দুই থেকে তিনটি ফসল ফলানো সম্ভব হবে।

আরেক কৃষক নুরুল ইসলাম বলেন, বর্ষা এলেই জলাবদ্ধতার কারণে আমাদের জমির ফসল নষ্ট হয়ে যেত। খাল পুনঃখননের ফলে কৃষকদের অনেক উপকার হয়েছে। আমরা চাই সরকার ভবিষ্যতেও এ ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প চালু রাখুক।

কৃষকরা জানান, আগে পানির অভাবে শুধু বর্ষা মৌসুমে একবার ধান চাষ করা সম্ভব হতো। এখন সেচসুবিধা নিশ্চিত হওয়ায় বছরে দুই থেকে তিনটি ফসল উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে বেকারত্ব কমার পাশাপাশি কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবেন বলে আশা করছেন। একই সঙ্গে খাল পুনঃখননকাজে স্থানীয়দের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হয়েছে।

শ্রমিকরা জানান, তারা প্রায় এক মাস ধরে মুছার খাল পুনঃখননের কাজে নিয়োজিত আছেন। তারা সবাই কার্ডধারী শ্রমিক। খালে কাজ করে দৈনন্দিন যা আয় করেন, তা দিয়ে আপাতত তাদের সংসার ভালোই চলছে। এ সময়ে এ কাজটি না থাকলে তাদের অনেককেই বেকার থাকতে হতো বলে জানান তারা।

ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল হাসান রনি বলেন, মুছার খাল পুনঃখননের ফলে স্থানীয় কৃষিক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। এক ফসলি জমি দুই থেকে তিন ফসলি জমিতে রূপান্তরিত হবে। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং বেকারত্ব কমবে। এ ছাড়া খাল খননের মাধ্যমে কার্ডধারী শ্রমিকদের কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হয়েছে।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ধানক্ষেত থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার
বগুড়ার সোনাতলায় নিখোঁজের তিন দিন পর বড় বালুয়া এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে ইউসুফ (৭) নামের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।  বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে মরদেহ উদ্ধারের পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত ইউসুফ সোনাতলা উপজেলার বড় বালুয়া এলাকার উজ্জ্বল হোসেনের ছেলে। শিশুটির মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এটি দুর্ঘটনা নাকি হত্যাকাণ্ড, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এরই মধ্যে শিশুটির বাড়িতে কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তির আসা এবং এরপর থেকে তার নিখোঁজ থাকার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগের দিন শিশুটির বাড়িতে কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তি বেড়াতে এসেছিলেন। এরপর থেকে ইউসুফকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে শিশুটির বাবা সোনাতলা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। নিখোঁজের তিন দিন পর মঙ্গলবার দুপুরে বড় বালুয়া এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে শিশুটি কীভাবে নিখোঁজ হয়েছিল এবং তার মৃত্যুর পেছনে কোনো অপরাধমূলক ঘটনা রয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বালুয়াহাট বাজারের এক মুদি দোকানি জানান, শিশুটির বাড়িতে কয়েকজন লোক এসেছিলেন। তারা কারা, তা জানতে চাইলে শিশুটির মা তাদের চেনেন না বলে জানান। অপরিচিত ব্যক্তিদের বাড়িতে খাওয়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান বলে দাবি করেন ওই দোকানি। তবে ওই ব্যক্তিরা কারা ছিলেন, কেন এসেছিলেন এবং শিশুটির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউসুফ বালুয়াহাট বাজারের বিভিন্ন দোকানে পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পৌঁছে দিয়ে সহযোগিতা করত। এই কাজের বিনিময়ে বাজারের দোকানিরা তাকে ৫ থেকে ১০ টাকা করে দিতেন। এভাবেই বাজারের দোকানিদের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছিল শিশুটি। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পাশাপাশি নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শিশুটির বাড়িতে আসা অপরিচিত ব্যক্তিদের পরিচয়, তার নিখোঁজ হওয়ার পরিস্থিতি এবং ধানক্ষেত থেকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে তদন্তের আগে এসব ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে বলে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সোনাতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, ৫ থেকে ৭ বছর বয়সী একটি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। আরটিভি/টিআর
ধানক্ষেত থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার
লালশাড়িতেই হারিয়ে যাচ্ছে ‘দৌড়ে বেড়ানো’ শৈশব!
পিরোজপুর জেলা সদর থেকে মঠবাড়িয়া উপজেলা প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বলেশ্বর নদের কোলঘেঁষা এ উপজেলায় প্রবাসী পরিবারের সংখ্যা বেশি।
লালশাড়িতেই হারিয়ে যাচ্ছে ‘দৌড়ে বেড়ানো’ শৈশব!
সার সংকটে ১১ দলীয় জোটের এমপিদের হাত থাকতে পারে: মীর শাহে আলম
স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, যেসব এলাকায় বিএনপির সংসদ সদস্য (এমপি) রয়েছেন, সেখানে সারসংকট বা এ-সংক্রান্ত কোনো সমস্যা হয়নি। যেসব জেলায় সার নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে, সেসব জেলার এমপিরা ১১-দলীয় জোটের। সরকারকে বিভ্রান্ত করতে তারা দলীয় লোকজনের মাধ্যমে এই সংকট তৈরি করে থাকতে পারেন। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেলা ৩টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ঘোড়াইঘাট এলাকায় গড়াই নদীর ওপর প্রস্তাবিত শহীদ আবরার ফাহাদ সেতুর স্থান পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি আরও বলেন, উত্তরাধিকারসূত্রে তারা যেসব সার ডিলার পেয়েছেন, তাদের স্বৈরাচারী সরকারের আমলে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তাদের অসহযোগিতার কারণে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। বর্তমান সরকারের আমলে সার ডিলার নিয়োগে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে। এর আগে প্রতিমন্ত্রী উপজেলার রায়ডাঙ্গায় শহীদ আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত করেন। কবর জিয়ারত শেষে গাড়িতে ওঠার সময় সেখানে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে প্রতিমন্ত্রী সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাবিত দুটি স্থান ঘুরে দেখেন। এ সময় জেলার বর্তমান ও সাবেক বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্যরা এবং শহীদ আবরার ফাহাদের বাবা মো. বরকত উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/টিআর
সার সংকটে ১১ দলীয় জোটের এমপিদের হাত থাকতে পারে: মীর শাহে আলম
ভবন নির্মাণে অনিয়ম হলে আইনের আওতায় আনা হবে: গণপূর্তমন্ত্রী
ভবন নির্মাণে অনিয়ম হলে আইনের আওতায় আনা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।  বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর ১ নম্বর ওয়ার্ডে সড়ক নম্বরসংবলিত পিলারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ভবন নির্মাণের সময় কেউ আইনবহির্ভূত কাজ করলে তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে। মন্ত্রী আরও বলেন, সম্প্রতি রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় অনেকেই বাধা দিচ্ছেন। সরকারের এ ধরনের কাজে যারা বাধা দিচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সকাল থেকে রাজশাহী নগরীতে চলমান এবং উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন। দুপুরে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর তিনি ‘আরডিএ প্রান্তিক আবাসিক এলাকা’র উদ্বোধন করেন এবং সেখানকার একটি পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। এ ছাড়া, রুয়েটের সামনে থেকে রাজশাহী বাইপাস সড়ক পর্যন্ত সংযোগ সড়ক ও ফ্লাইওভারের উদ্বোধন শেষে সেখানে বৃক্ষরোপণ করেন মন্ত্রী। এ সময় আরডিএ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট, আরডিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট বলেন, উন্নত বিশ্বের শহরগুলোর মতো রাজশাহীর প্রতিটি ওয়ার্ডের প্রতিটি সড়কে নম্বর প্রদানের লক্ষ্যে নম্বরসংবলিত পিলার স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। অচিরেই পুরো নগরীতে এ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। আরটিভি/টিআর
ভবন নির্মাণে অনিয়ম হলে আইনের আওতায় আনা হবে: গণপূর্তমন্ত্রী
বরিশাল ‘সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের’ যাত্রা শুরু
দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর অবশেষে বরিশালে মহিলাদের জন্য পৃথক একটি নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছে সরকার। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির নামকরণ করা হয়েছে ‘সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট’। বরিশাল নগরীর আলেকান্দায় স্থাপিত ‘সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে’ রোববার (১১ অক্টোবর) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের সর্বপ্রথম ক্লাস শুরু হয়। বরিশাল বিভাগে এই প্রথম ‘সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট’ নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির নামকরণ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানে আর্কিটেকচার টেকনোলজি এবং কম্পিউটার সাইন্স এন্ড টেকনোলজি এ দুটি বিভাগ চালু করা হয়েছে। অধ্যক্ষ, ইন্সট্রাক্টর, সহকারী ইন্সট্রাক্টর কাফট ইন্সট্রাক্টরসহ ১১ জন শিক্ষক, ৬ জন কর্মকর্তা কর্মচারীসহ মোট ১৭ জন ও ৪৭ জন ছাত্রী নিয়ে এ ইনস্টিটিউট যাত্রা শুরু করেছে। এ দুই বিভাগে মোট আসন সংখ্যা রয়েছে ১শ’ টি। বরিশাল নগরীর আলেকান্দায় পরেশ সাগর মাঠের প্রবেশদ্বারের উত্তর পাশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি স্থাপন করা হয়েছে। ৩ একর ১৮ শতাংশ জমিতে ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি স্থাপনার কাজ শুরু হয়। যার প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় ৫৫ কোটি টাকা। দৃষ্টিনন্দন প্রবেশ পথে একটি আকর্ষণীয় ৬ তলা বিশিষ্ট প্রশাসনিক ভবন, উত্তর পাশে ৬ তলা বিশিষ্ট বিশাল একাডেমিক ভবন ও দক্ষিণ পাশে ৬ তলা বিশিষ্ট আরেকটি একাডেমিক ওয়ার্কশপ ভবন রয়েছে। ভবন ৩টিতে লিফট এর ব্যবস্থা থাকছে। এছাড়া ৪ তলা বিশিষ্ট ২শ’ আসনের ছাত্রীনিবাস, ৫ তলা বিশিষ্ট ২০ ইউনিটের শিক্ষক ডরমেটরি ও ৩ তলা বিশিষ্ট ৬ ইউনিটের স্টাফ কোয়াটার, ১ তলা বিশিষ্ট অধ্যক্ষের বাসভবন, নিজস্ব বিদ্যুতের সাব স্টেশন ও অভ্যন্তরীণ সড়ক ব্যবস্থা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে। ‘সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে’র অধ্যক্ষ হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন, সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের উপাধ্যক্ষ এস. এম সামছুন নাহার। এ বিষয়ে অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) এস. এম সামছুন নাহার বলেন, একাডেমিক ওয়ার্কশপ, বিদ্যুতের সাব স্টেশন ও শহীদ মিনার নির্মাণ কাজ চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ, সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানে পৌঁছেছে। তিনি জানান, বর্তমানে আর্কিটেকচার টেকনোলজি এবং কম্পিউটার সাইন্স এন্ড টেকনোলজি দিয়ে শুরু হলেও আরো দুটি কোর্স আগামী ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষে চালু করা হবে। এতে আরো ১শ’ শিক্ষার্থী এখানে ভর্তির সুযোগ পাবে। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এস.এম সামছুন নাহার আরো বলেন, বর্তমান সরকার নারী বান্ধব। নারী শিক্ষা প্রসারে নতুন প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার। এ প্রতিষ্ঠানে প্রথম বর্ষের দুটি বিভাগ চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও বিভাগ চালু করা হবে। এই প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা প্রকৃত শিক্ষা গ্রহণ করে নিজে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবে। এতে যেমন শিক্ষার্থীরা নিজে স্বাবলম্বী হতে পারবে, তেমনি অন্যকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে। জানতে চাইলে বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে ‘সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট’ বরিশাল বিভাগে এটাই প্রথম। এ ইনস্টিটিউটের ৬টি বহুতল ভবন, একটি একতলা ভবন, শহীদ মিনার, বিদ্যুৎ সাব স্টেশন, অভ্যন্তরীণ রাস্তাসহ, ড্রেন, দুটি অত্যাধুনিক প্রবেশ গেট, বাউন্ডারি ওয়াল এ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত। ৩ একর ১৮ শতাংশ জমিতে প্রতিষ্ঠিত প্রকল্পের কাজ শেষ করতে প্রায় ৫৫ কোটি টাকা ব্যয় হবে। তিনি আরো জানান, শহীদ মিনার, একাডেমিক ওয়ার্কশপ ও বিদ্যুতের সাব স্টেশন ভবন নির্মাণের অসমাপ্ত কাজ চলতি বছরের মধ্যে শেষ হবে। ‘সরকারি মহিলা পলিটেনিক ইনস্টিটিউটে’ বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলা থেকে আসা আয়শা আক্তার আর্কিটেকচার টেকনোলজি বিভাগে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী তার প্রথম ক্লাস অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, মনোরম পরিবেশ ও শিক্ষকমন্ডলীর আন্তরিকতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমার জীবনের নতুন অধ্যায় সূচিত হল। পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কম্পিউটার সাইন্স এন্ড টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী মরিয়ম বলেন, এ ইনস্টিটিউটে প্রবেশে আমার মনে অন্য রকম এক আনন্দ, উচ্ছ্বাস অনুভব হচ্ছে। নতুন ক্লাসে শিক্ষকদের আন্তরিকতা আমাকে উজ্জীবিত করেছে। শিক্ষাবিদ মহসিন উল ইসলাম হাবুল বলেন, মেয়েদের জন্য কারিগরি শিক্ষা কেবল একটি শিক্ষাপদ্ধতি নয় বরং এটি তাদের স্বাবলম্বী ও আত্মনির্ভরশীল করে তোলার সবচেযে শক্তিশালী হাতিয়ার। আমাদের প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থায় নারীদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষেত্রে কারিগরি বা বৃত্তিমূলক শিক্ষা একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে, কারণ সাধারণ প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রির তুলনায় এ শিক্ষার মাধ্যমে সরাসরি কর্মমুখী দক্ষতা অর্জন করতে পারবে শিক্ষার্থীরা । তিনি বলেন, একজন নারী যখন কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ হয়ে ওঠেন, তখন তিনি কেবল অন্যের অধীনে চাকরি করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন না, বরং নিজের মেধা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারেন। একই সঙ্গে সমাজে আরও বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারেন। আরটিভি/টিআর
বরিশাল ‘সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের’ যাত্রা শুরু
আরও পড়ুন
মাদরাসায় শিশুশিক্ষার্থীদের শিকলে বেঁধে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল
শিকলে বেঁধে মাদরাসার শিশুকে পেটানোর ভিডিও ভাইরাল
কিশোর অপরাধ দমন: লক্ষ্মীপুরে ৩ দিনে আটক ৫৪৯
পলাতকদের সাংগঠনিক তৎপরতার কোনো সুযোগ নেই: পানিসম্পদ মন্ত্রী