ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদপুরে আমের বাগান বাড়লেও কমছে দেশীয় ফলের গাছ

সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০২ পিএম
ছবি: আরটিভি

একসময় ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার গ্রামাঞ্চলের প্রায় প্রতিটি বাড়ির আঙিনা, পুকুরপাড় কিংবা জমির আইলে দেখা যেত গাব, বাতাবি লেবু, কদবেল, চালতা, রয়েল, ঢেউয়া, পিচফল, ডালিম, বরই, জাম, জামরুল, কাঠবাদাম, কামরাঙা, আতাসহ নানা দেশীয় ফলের গাছ। মৌসুম এলেই এসব গাছে ফল ধরত। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যেও ভাগ করে দেওয়া হতো সেই ফল। তবে সময়ের সঙ্গে বদলে যাচ্ছে সেই চিত্র। কমে যাচ্ছে দেশীয় ফলের গাছ, আর বাড়ছে পরিকল্পিতভাবে আমের বাগান।

সদর ইউনিয়ন সদরপুর, কৃষ্ণপুর, বিষ্ণুপুর, ভাষানচর, ঢেউখালী, আকোটেরচর, চরমানাইর, চরনাসিরপুর ও নারিকেলবাড়িয়াসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একসময় বাড়ির আশপাশে প্রচুর দেশীয় ফলের গাছ ছিল। এখন অনেক বাড়িতেই পুরোনো গাছ নেই। বসতবাড়ি সম্প্রসারণ, নতুন স্থাপনা নির্মাণ ও জায়গার সংকটের কারণে অনেক পুরোনো গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন করে দেশীয় ফলের চারা লাগানোর প্রবণতাও কমেছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাড়ির জায়গা সংকুচিত হওয়া, কৃষিজমির ব্যবহার পরিবর্তন, পুরোনো গাছের বয়স, অপরিকল্পিতভাবে গাছ কাটা এবং নতুন চারা না লাগানো— এসব কারণে দেশীয় ফলের গাছ কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি বিদেশি ও বাণিজ্যিক ফলের চাহিদা বাড়ায় অনেকেই দ্রুত আর্থিক লাভের আশায় ফলের বাগান করার দিকে ঝুঁকছেন।

এতে একদিকে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠা দেশীয় ফলের গাছ কমছে, অন্যদিকে বাড়ছে পরিকল্পিত বাণিজ্যিক ফলের বাগান। স্থানীয়দের মতে, অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক ফল চাষের পাশাপাশি দেশীয় ফলের গাছ টিকিয়ে রাখার উদ্যোগও প্রয়োজন। কারণ এসব গাছ শুধু ফলের উৎস নয়, গ্রামীণ পরিবেশ ও স্থানীয় জীববৈচিত্র্যেরও অংশ।

তবে দেশীয় ফলের গাছ কমলেও সদরপুরের বিভিন্ন এলাকায় বাড়ছে আমের বাগান। বিশেষ করে আম্রপালি ও হাড়িভাঙা জাতের আমের চারা লাগাতে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষক ও পরিবারগুলো। কম জায়গায় বাগান করা যায়, বাজারে চাহিদা রয়েছে এবং ফল বিক্রি করে আয় করা সম্ভব হওয়ায় এ জাতের আমের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।

মৌসুমে সদরপুরের বিভিন্ন বাজারে বাতাবি লেবু, কদবেল ও ডালিমসহ দেশীয় ফলের চাহিদা থাকলেও স্থানীয় সরবরাহ আগের তুলনায় কমেছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই এসব ফল বাইরে থেকে এনে বিক্রি করতে হচ্ছে। আকার ও মানভেদে একটি বাতাবি লেবু ৫০ থেকে ১০০ টাকা বা তারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

সদরপুর বাজারের ফল ক্রেতা মহসিন মিয়া বলেন, আগে বাড়ির আশপাশেই বাতাবি লেবুসহ বিভিন্ন দেশীয় ফল পাওয়া যেত। এখন অনেক ফল বাজার থেকে কিনতে হয়। বাড়িতে আবার দেশীয় ফলের গাছ থাকা দরকার।

আরেক ফল বিক্রেতা রুবেল হোসেন বলেন, আগের তুলনায় অনেক দেশীয় ফল কম পাওয়া যায়। চাহিদা রয়েছে, কিন্তু স্থানীয় সরবরাহ কম।

সদরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুল বাশার চৌধুরী বলেন, দেশীয় ফল পুষ্টির উৎস হওয়ার পাশাপাশি গ্রামীণ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এসব ফলের গাছ সংরক্ষণে কৃষি, পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থকে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে আমের মতো লাভজনক ফলের বাগান কৃষকের আয় বাড়াতে পারে। তবে বাণিজ্যিক ফল চাষের পাশাপাশি বাতাবি লেবু, কদবেল, ঢেউয়া, ডালিমসহ অন্যান্য দেশীয় ফলের গাছ সংরক্ষণেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বাড়ির আঙিনা, পুকুরপাড় ও জমির আইলে পরিকল্পিতভাবে দেশীয় ফলের চারা লাগানো হলে একদিকে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণ হবে, অন্যদিকে স্থানীয় বাজারেও এসব ফলের সরবরাহ বাড়বে। বাণিজ্যিক ফলের চাষের পাশাপাশি দেশীয় ফলের গাছ সংরক্ষণ করা গেলে গ্রামীণ পরিবেশের ঐতিহ্যও টিকে থাকবে। আগামী প্রজন্মও তখন নিজেদের গ্রামের গাছ থেকেই ফিরে পেতে পারে দেশীয় ফলের সেই পরিচিত স্বাদ ও সৌন্দর্য।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
৫ ‘গাঁজাখোর’ আটকের পর বেরিয়ে এলো আসল পরিচয়
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে প্রকাশ্যে গাঁজা সেবনের অভিযোগে পাঁচ যুবককে আটক করেছে রেলওয়ে থানা পুলিশ। পুলিশের দাবি, আটক হওয়া ব্যক্তিরা বিভিন্ন ট্রেনে সক্রিয় ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
৫ ‘গাঁজাখোর’ আটকের পর বেরিয়ে এলো আসল পরিচয়
আ.লীগ ফিরলে আবারও জামায়াত নেতাদের ফাঁসিতে ঝুলতে হবে: রাশেদ খান
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেছেন, রাষ্ট্র পুনর্গঠনের ঐতিহাসিক সুযোগ হাতছাড়া হলে দেশ আর কখনোই ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। একাত্তরের ঘাতক এবং চব্বিশের পরাজিত শক্তি আজ একাট্টা হয়ে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে মেতেছে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে পুনর্বাসনের অপচেষ্টা চালালে ভবিষ্যতে জামায়াত নেতাদেরই আবারও ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলতে হবে।
আ.লীগ ফিরলে আবারও জামায়াত নেতাদের ফাঁসিতে ঝুলতে হবে: রাশেদ খান
এমপির মোবাইল নাম্বার হ্যাক, অতঃপর...
ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জাকির হোসেন বাবলুর মোবাইল নম্বর ক্লোন করে তার পরিচয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে টাকা দাবি করেছে একটি প্রতারক চক্র। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, জনপ্রতিনিধি ও এমপির পরিচিত বিভিন্ন ব্যক্তির হোয়াটসঅ্যাপে তার পরিচয়ে খুদে বার্তা পাঠিয়ে টাকা চাওয়া হয়। বিষয়টি জানতে পেরে এমপি মোহাম্মদ জাকির হোসেন বাবলু তার অফিসিয়াল ফেসবুক আইডিতে সতর্কতামূলক পোস্ট দিয়েছেন। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে প্রতারকরা এমপির ব্যবহৃত অফিসিয়াল মোবাইল নম্বরটি ক্লোন করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠায়। সেখানে এমপির পরিচয় ব্যবহার করে জরুরি প্রয়োজনের কথা বলে টাকা দাবি করা হয়। তবে বার্তা পাওয়া কয়েকজন বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করে টাকা না দিয়ে সরাসরি এমপির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে তারা তাকে ঘটনাটি জানান। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর এমপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে সবাইকে সতর্ক করেন এবং তার পরিচয়ে কেউ টাকা চাইলে তা না দেওয়ার অনুরোধ জানান। এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জাকির হোসেন বাবলু বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে পরিচিত কয়েকজন আমাকে ফোন করে টাকা চাওয়ার বিষয়টি জানান। তখনই মোবাইল নম্বর ক্লোনের বিষয়টি জানতে পারি। ইতোমধ্যে সবাইকে সতর্ক করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক পোস্ট দেওয়া হয়েছে। নম্বরটি হ্যাকারদের হাত থেকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আরটিভি/এসকে
এমপির মোবাইল নাম্বার হ্যাক, অতঃপর...
বাসযাত্রীর হাতের ফাইলে মিলল প্রায় ৬০ লাখ টাকার ইয়াবা
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী বাসে যাত্রীবেশে যাচ্ছিলেন মো. শহিদুল ইসলাম (৪২)। তার হাতে ছিল দুটি কোর্ট ফাইল। বাইরে থেকে সাধারণ নথিপত্র রাখার ফাইল মনে হলেও সেগুলোর ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকানো ছিল ১৯ হাজার ৮৪৫ পিস ইয়াবা।  চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কের সীতাকুণ্ড এলাকা থেকে প্রায় ৬০ লাখ টাকা মূল্যের এই ইয়াবাসহ তাকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৭)। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গ্রেপ্তার মো. শহিদুল ইসলাম খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার দরগাপাড়ার আলী মিয়ার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম শহর থেকে ইয়াবা কিনে বেশি দামে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে আসছিলেন বলে জানিয়েছে এসআরবি৷  বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি জানতে পারে, এক মাদক কারবারি চট্টগ্রাম শহর থেকে যাত্রীবাহী বাসে করে ইয়াবার চালান নিয়ে ঢাকার দিকে যাচ্ছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের লালবাগ এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসানো হয়। পৌনে ১১টার দিকে মহিউদ্দিন মেরিন ইঞ্জিন স্টোরের সামনে স্টারলাইন পরিবহনের একটি বাস এলে থামার সংকেত দেওয়া হয়। পরে বাসটিতে তল্লাশি চালিয়ে যাত্রীবেশে থাকা শহিদুল ইসলামকে আটক করা হয়।  সংস্থাটি জানায়, আটক শহিদুলের কাছে থাকা অ্যাশ রঙের দুটি কোর্ট ফাইলের ভেতর কসটেপ দিয়ে মোড়ানো নীল রঙের পলিজিপার প্যাকেট পাওয়া যায়। সেগুলোর ভেতর থেকে মোট ১৯ হাজার ৮৪৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫৯ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। এ বিষয়ে এসআরবি-৭ চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ আর এ মোজাফফর হোসেন বলেন, গ্রেপ্তার শহিদুল ইসলাম ও উদ্ধার করা ইয়াবা পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সীতাকুণ্ড থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আরটিভি/এসকে
বাসযাত্রীর হাতের ফাইলে মিলল প্রায় ৬০ লাখ টাকার ইয়াবা
৬ দফা দাবিতে সৈয়দপুরে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের বিক্ষোভ
নীলফামারীর সৈয়দপুরে ৬ দফা দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম।
৬ দফা দাবিতে সৈয়দপুরে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের বিক্ষোভ
আরও পড়ুন
জাম্বুরা খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে শিশুকে ঘরে নিয়ে যান মিরাজ, অতঃপর...
অবৈধভাবে যৌন উত্তেজক ওষুধ বানাতেন এই এনসিপি নেতা
মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে যুবকের ১০ বছরের কারাদণ্ড
‘নজরানা বাঁশের ভুর’, ১৮ দিনের যাত্রায় আটরশির পথে ভক্তরা