যাত্রী ছাউনি এখন আওয়ামীপন্থি সাবেক চেয়ারম্যানের বৈঠকখানা

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬ , ১০:১৯ পিএম


যাত্রী ছাউনি এখন আওয়ামীপন্থি সাবেক চেয়ারম্যানের বৈঠকখানা
ছবি: আরটিভি

ঢাকার ধামরাইয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সড়কের পাশে যাত্রী ছাউনি নির্মাণে অনিয়ম ও স্থান নির্বাচনে ত্রুটির কারণে সরকারি অর্থের অপচয়ের অভিযোগ উঠেছে। অপরিকল্পিত স্থানে নির্মিত হওয়ায় যাত্রী ছাউনিটি সাধারণ যাত্রীদের কোনো কাজে আসছে না। স্থানীয়দের দাবি, এটি এখন সোমভাগ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আউলাদ হোসেনের বৈঠকখানা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যে সড়কে বাস চলাচল করে না, সেখানে তিন চাকার অটোরিকশার দাপট রয়েছে। সেই সড়কের পাশেই নির্মাণ করা হয়েছে যাত্রী ছাউনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের স্বেচ্ছাচারিতায় তার বাড়ির সামনে ভুল স্থানে যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করায় সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে।

স্থানীয়দের কেউ কেউ মন্তব্য করেন, পথচারীদের বিশ্রাম বা অপেক্ষমাণ যাত্রীদের সুবিধার জন্য নয়, বরং চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত বৈঠকখানা হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যেই তার বাড়ির সামনের পুকুরপাড়ে ছাউনিটি নির্মাণ করা হয়েছে। তবে ৫ আগস্টের পর হত্যা মামলার আসামি হয়ে চেয়ারম্যান পলাতক থাকায় সেটি পুরোপুরি বৈঠকখানায় রূপ নেয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্তমানে রাতে সেখানে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। সরকারি তদারকির অভাবেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি তাদের।

সোমভাগ ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ধামরাই বাজার থেকে কালামপুর বাজার হয়ে সাটুরিয়া পর্যন্ত সড়কটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীন। কালামপুর থেকে ধামরাই বাজার পর্যন্ত কোনো যাত্রীবাহী বাস চলাচল করে না। এ সড়কে চলাচলকারী মানুষ সুবিধাজনক স্থান থেকেই তিন চাকার যানবাহনে গন্তব্যে পৌঁছান। এরপরও যাত্রী ছাউনির প্রয়োজন না থাকলেও সোমভাগ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গোয়ালদী গ্রামের আউলাদ হোসেন ২০২২-২৩ অর্থবছরে ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন সহায়তা তহবিল থেকে কৌশলে দুই লাখ টাকা বরাদ্দ নেন। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও যাত্রী ছাউনিটি নির্মাণ করা হয়নি।

আরও পড়ুন

পরে সাংবাদিকদের চাপের মুখে প্রায় আট মাস আগে চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে যাত্রী ছাউনিটি নির্মাণ করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিতভাবে এটি নির্মাণ করে সরকারের অর্থ অপচয় করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সোমভাগ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আউলাদ হোসেনের বাড়ির সামনে পুকুরের পূর্বপাশের কোণায় যাত্রী ছাউনিটি নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে কোনো সাইনবোর্ড নেই। দেখে এটি যাত্রী ছাউনি বলে মনে হয় না; বরং পুকুরপাড়ের সৌন্দর্যবর্ধন বা পারিবারিক আড্ডার স্থান বলেই মনে হয়। সাধারণত সড়কমুখী করে যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হলেও এটি পুকুরমুখী করে নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে সড়কের পাশে অবস্থান করলেও এটি যাত্রীদের কোনো কাজে আসছে না।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ওই স্থানে যাত্রী ছাউনির প্রয়োজনই ছিল না। অথচ এর প্রায় ১০০ গজ পূর্বদিকে তিন রাস্তার মোড়ে প্রায়ই যাত্রীরা অটোরিকশার জন্য অপেক্ষা করেন।

স্থানীয়রা জানান, সাধারণত রোদ-বৃষ্টি থেকে যাত্রীদের সুরক্ষার জন্য যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু এই ছাউনিটি কোনো কাজে আসছে না। তাঁদের মতে, এটি সরকারি অর্থের অপচয়ের একটি উদাহরণ। অনেকে এটিকে চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত বৈঠকখানা বলেও মন্তব্য করেছেন।

স্থানীয়দের মধ্যে আনোয়ার হোসেন, আব্দুল জলিল ও নিয়ামত আলীসহ অনেকেই অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবেই সরকারি অর্থ অপচয় হয়েছে।

পলাতক সাবেক চেয়ারম্যান আউলাদ হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল মামুন বলেন, বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission