ঢাকা শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

‘সামনে আসবি না, মাইরা ফালামু’: মিছিল থেকে যুবলীগের হুমকি

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম
ছবি: সংগ্রহীত

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গাজীপুর মহানগরীতে যুবলীগের একটি বিক্ষোভ মিছিল থেকে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে হুমকিমূলক স্লোগান দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (২১ জুন) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে বাসন কলম্বিয়া গার্মেন্টসের সামনে এ বিক্ষোভ মিছিল করা হয় বলে জানা গেছে।

ভিডিওতে পুলিশ দেখে যুবলীগের নেতা-কর্মীদের বলতে শোনা গেছে, ‘ওই, একটাও সামনে আসবি না। একটাও সামনে আসবি না। মাইরা ফালামু, মাইরা ফালামু।’ এছাড়া তারা স্লোগান দেন, ‘রাজপথ ছাড়ি নাই, শেখ হাসিনার ভয় নাই’ এবং ‘যুবলীগের অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’।

ওই ভিডিওতে আরও দেখা গেছে, মহানগরীর ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কলম্বিয়া এলাকায় শাকিল এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে থেকে ৩০-৩৫ জন যুবক একটি ব্যানার নিয়ে মিছিল শুরু করে। ব্যানারে লেখা ছিল, ২৩ জুন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সফল হোক, সার্থক হোক। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত অবৈধ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ মহানগর যুবলীগ একটি বিক্ষোভ মিছিল বাসন থানার কলম্বিয়া এলাকায় বের হয়। মিছিলটি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক হয়ে গাছা থানার মালেকের বাড়ি এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। কলম্বিয়া এলাকায় থেকে মিছিলটি গাছা থানা এলাকায় অতিক্রমকালে মহাসড়কে গাছা থানার এক এসআইসহ দুইজন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছিলেন। তারা মিছিলের দিয়ে এগিয়ে যেতে চাইলে মিছিল থেকে যুবলীগের এক নেতা প্রকাশ্যে পুলিশকে সামনে আসলে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করে। এসময় পুলিশ সদস্যরা মিছিলের সামনের দিকে আর আগায়নি। পরে মালেকের বাড়ি এলাকায় গিয়ে মিছিলটি শেষ হয়। মিছিল থেকে পুলিশ মেরে ফেলার হুমকি দেওয়ার বিষয়টি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের মিছিলটি বাসন থানা থেকে শুরু হয়ে গাছা থানা সীমানায় প্রবেশ করে। সেখানে গাছা থানার একজন এসআইসহ আরও দুইজন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছিলেন।

বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশীদ বলেন, মিছিলটি বাসন থানার শেষ প্রান্ত কলম্বিয়া এলাকার হলেও পুলিশকে হুমকি দেওয়া হয় গাছা থানা সীমানা এলাকায়। সেখানে গাছা থানা পুলিশ দায়িত্ব পালন করছিলেন। কারা এ মিছিলে অংশ নিয়েছিল তার খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পুলিশ সদস্যদের পিটিয়ে বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে গেলেন কুবি শিক্ষার্থীরা
ভুয়া মনে করে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় কর্মরত দুই পুলিশ সদস্যকে মারতে মারতে বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে গেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে তল্লাশির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে।  বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে কুমিল্লা পুলিশ লাইন ও সরকারি মহিলা কলেজ সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের তুলে নেওয়া হয়। এসময় পুলিশের এক সোর্সকেও মারধর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে নিয়ে যাওয়া হয়। ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্যরা হলেন— কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শ্যামল সাহা, কনস্টেবল মো. হানিফ এবং পুলিশের সোর্স জাহিদ। পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় টিউশনি শেষ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সিয়াম ও অর্প রাস্তা ধরে হাঁটছিলেন বাস ধরার জন্য। এসময় পুলিশ পরিচয়ে তিনজন তাদের পথরোধ করে তল্লাশি চালান। ওই শিক্ষার্থীরা পুলিশের পরিচয়পত্র দেখাতে বলায় তারা পরিচয়পত্র দেখাতে ব্যর্থ হন। পরে তাদের ভুয়া পুলিশ মনে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী বাস থেকে নেমে তাদের মারধর করে টেনে-হিঁচড়ে বাসে তুলে ফেলেন।  দুই পুলিশ সদস্যসহ তিনজনকে মারতে মারতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এবং পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হয় দুজন পুলিশ এবং একজন তাদের সোর্স। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়। মারধরের শিকার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শ্যামল সাহা বলেন, আমরা দুই শিক্ষার্থীর পরিচয় জানতে চেয়েছিলাম। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দেওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় এবং দুঃখ প্রকাশ করা হয়। আমাদের সঙ্গে পরিচয়পত্র না থাকায় ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ দেখানো হয়। পাশাপাশি ডিউটিতে থাকা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা সেটি না শুনেই মব সৃষ্টি করে আমাদের তুলে নিয়ে যান। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসাইন বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোতোয়ালি থানার একজন এএসআই, একজন কনস্টেবল ও পুলিশের একজন সোর্স ছিলেন। তারা শিক্ষার্থীদের তল্লাশি করার চেষ্টা করেছিলেন। শিক্ষার্থীরা পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তারা তা দেখাতে পারেননি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানার কর্তৃপক্ষও স্বীকার করেছে। তিনি বলেন, এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা তাদের জোর করে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন। এভাবে কাউকে তুলে না এনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো উচিত ছিল। একইভাবে পুলিশ সদস্যদেরও পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা উচিত ছিল। উভয় পক্ষেরই কিছু ঘাটতি ছিল। পরে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে বিষয়টির সমাধান করা হয়েছে। জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তায়িন বিল্লাহ ফেরদৌস বলেন, ঘটনাস্থল থেকেই থানায় বা ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি সমাধান করা যেত। বাসে করে পুলিশ সদস্যদের ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ৫ আগস্টের পর থেকে একটা মব কালচারের রেশ ছিল। সেখান থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। আরটিভি/এসআর  
পুলিশ সদস্যদের পিটিয়ে বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে গেলেন কুবি শিক্ষার্থীরা
কুমিল্লায় গার্ড অব অনার ছাড়াই দাফন হলো বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ
কুমিল্লায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার (৭৮)-এর শেষ বিদায়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা বা ‘গার্ড অব অনার’ না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। 
কুমিল্লায় গার্ড অব অনার ছাড়াই দাফন হলো বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ
এবার দিনদুপুরে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে আগুন
শুক্রবার (১২ নভেম্বর) দুপুরে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অবস্থিত স্মৃতিস্তম্ভের বেদিতে এ ঘটনা ঘটে।
এবার দিনদুপুরে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে আগুন
সাংবাদিকতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব নিয়ে চাঁদপুরে প্রশিক্ষণ কর্মশালা 
চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনায় এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউভাসিটির উদ্যোগে শুরু হয়েছে আধুনিক সাংবাদিকতা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব বিষয়ে দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা।
সাংবাদিকতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব নিয়ে চাঁদপুরে প্রশিক্ষণ কর্মশালা 
সংবিধানে বিসমিল্লাহ ও আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ফিরিয়ে আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, এ দেশে অনেকেই ইসলামের নামে রাজনীতি করে। অথচ তাদের মধ্যে ইসলামের প্রকৃত কোনো আদর্শ ও অনুশাসন নেই। এমনকি, তাদের দলীয় লোগোতেও ইসলাম ধারণ করে না।
সংবিধানে বিসমিল্লাহ ও আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা পুনরায় ফিরিয়ে আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আরও পড়ুন
ইউরোপজুড়ে একের পর এক বিমানে বোমার হুমকি, বাধাগ্রস্ত ৩০ ফ্লাইট
ফ্রান্সে বিক্ষোভে উত্তাল রাজপথ: গ্রেপ্তার ৪৪৮, আহত ৫৩ পুলিশ
‘স্বাধীন বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধা নিধন ও বিনা বিচারে হত্যার সূচনা করে আ.লীগ’
গ্রাম পুলিশ তৃণমূল পর্যায়ে সরকারের প্রতিনিধি: জহির উদ্দিন স্বপন