ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

চট্টগ্রামে বন্যা-পাহাড়ধসে মৃত ৩৯, বিপর্যস্ত ৯ লাখ ২৮ হাজার মানুষ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬, ১২:১৬ পিএম
ফাইল ছবি

টানা ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল, আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ধসে চট্টগ্রাম বিভাগে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৩৯ জনে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় প্রায় ৯ লাখ ২৮ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও পানির নিচে থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের শুক্রবার (১০ জুলাই) প্রকাশিত সর্বশেষ পরিস্থিতি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সবচেয়ে বেশি ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে কক্সবাজারে। নিহতদের মধ্যে ১৩ জন রোহিঙ্গা। এছাড়া চট্টগ্রামে আটজন, বান্দরবানে ছয়জন এবং রাঙ্গামাটিতে দুজন মারা গেছেন।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে জেলার ১৬টি উপজেলাসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলার ১৭৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বন্যার কবলে পড়েছে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় ৬৭৩টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ২৩ হাজার ৮৫৩ জন।

বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় সরকার ৭০০ টন চাল ও ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৩০০ টন চাল, ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা, ২২ হাজার ২৫০ প্যাকেট শুকনা খাবার এবং ১৮ হাজার ৩৩০ প্যাকেট রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। পরবর্তী ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য আরও ৪০০ টন চাল ও ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা মজুত রয়েছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল বিকেল ৩টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, ১২ জুলাই পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রয়েছে।

আরও পড়ুন

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির সবচেয়ে বেশি অবনতি হয়েছে। এই দুই উপজেলায় পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

গতকাল বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নে আকস্মিক বন্যার স্রোতে ভেসে গিয়ে আশিক (১১) ও মিরাজ (৬) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্গম উপকূলীয় অনেক ইউনিয়নে এখনও ত্রাণ পৌঁছেনি। টানা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা ও মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়া অংশ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) থেকে পানির নিচে রয়েছে। বর্তমানে যান চলাচল চালু থাকলেও পানি আরও বাড়লে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বৃদ্ধি এবং পাহাড়ি ঢলে সাতকানিয়ার বাজালিয়া, কেওচিয়া, ছদাহা, কালিয়াইশ, ধর্মপুর, খাগরিয়া, আমিলাইশ, ঢেমশা, নলুয়া, চরতি ও পুরানগড় ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানিতে বসতঘর, কৃষিজমি, মাছের ঘের, বাজার ও গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে গেছে। অনেক এলাকায় নৌকাই এখন একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম। বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যসংকটও প্রকট হয়ে উঠেছে।

ছদাহা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোরশেদুর রহমান জানান, ইউনিয়নের অন্তত পাঁচটি ওয়ার্ড পুরোপুরি পানির নিচে। প্রায় ১ হাজার ৫০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন এক টন চাল বরাদ্দ দিলেও পানির কারণে তা এখনও আনা সম্ভব হয়নি।

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, চার লাখের বেশি মানুষ এখনও পানিবন্দি। উপজেলার প্রায় অর্ধেক কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্গম এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন থাকায় সেখানে পৌঁছানোই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সেনাবাহিনী স্পিডবোট ব্যবহার করে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

অন্যদিকে বাঁশখালীর ১৪টি ইউনিয়নেই বন্যার পানি ছড়িয়ে পড়েছে। জোয়ারের পানিতে খানখানাবাদ, কাথারিয়া, বাহারছড়া, গণ্ডামারা, শেখেরখীল, সরল, ছনুয়া ও গুণাগরী ইউনিয়নের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, হাজার হাজার কাঁচাঘর ধসে পড়েছে। তিন দিন ধরে বহু এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। বিশুদ্ধ পানি, শিশুখাদ্য ও ওষুধের সংকটও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, উপজেলার প্রায় অর্ধেক এলাকা এখনও পানির নিচে। এক লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ পর্যন্ত ৪৬ টন চাল, ৫ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার এবং ৬ হাজার মানুষের জন্য রান্না করা খাবার বিতরণ করা হলেও কয়েকটি এলাকায় এখনও পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

এদিকে ফটিকছড়ি, রাউজান, হাটহাজারী, মিরসরাই ও আনোয়ারার নিম্নাঞ্চলেও বন্যার পানি ঢুকে বসতঘর, কৃষিজমি ও মাছের ঘেরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

কক্সবাজারে বন্যার প্রভাবে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে চকরিয়া ও মাতামুহুরী এলাকায়। ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা প্লাবিত হওয়ায় প্রায় তিন লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এতে সড়ক যোগাযোগ ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বন্যার পানিতে নলকূপ তলিয়ে যাওয়ায় নিরাপদ খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক এলাকায় কোমর থেকে বুকসমান পানি থাকায় রান্নাঘর ডুবে গেছে এবং অসংখ্য পরিবার রান্না করতে পারছে না।

ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ধস ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে রাঙামাটির সাজেক উপত্যকায় আটকে পড়া ৪৬১ জন পর্যটককে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। পানিতে তলিয়ে যাওয়া সড়ক নৌকায় পার করিয়ে পরে সড়কপথে তাদের গন্তব্যে পাঠানো হয়।

অন্যদিকে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত আরও তিন দিন বাড়ানো হয়েছে। ফলে ১৫ জুলাই পর্যন্ত পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকবে।

রিজিওনাল ইন্টিগ্রেটেড মাল্টি-হ্যাজার্ড আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম (রাইমস) এবং বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের যৌথ বিশেষ পাহাড়ধস সতর্কতা বুলেটিনে বলা হয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় মৌসুমি বায়ু এবং ভারতের উত্তর-পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ ও সংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে ১২ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাঁচটি জেলাকেই পাহাড়ধসের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

৯ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ২২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে টেকনাফে ১৬৯ মিলিমিটার, রাঙ্গামাটিতে ১০৬ মিলিমিটার এবং কক্সবাজারে ৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

এদিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে জানান, সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও পাহাড়ধসে চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে হবিগঞ্জের তিন উপজেলার চার ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় নদীর বাঁধের একটি অংশ ভেঙে যায়। এতে সদর উপজেলার লস্করপুর ও পইল ইউনিয়ন, বাহুবল উপজেলার লামাতাশি ইউনিয়ন এবং বানিয়াচং উপজেলার মক্রমপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

পানি বাড়তে থাকায় বহু পরিবার গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। বানিয়াচংয়ের রাধাপুর এলাকায়ও বাঁধ উপচে পানি প্রবেশ করেছে। শহররক্ষা বাঁধের মছুলিয়া পয়েন্ট ঝুঁকির মুখে থাকায় স্থানীয়রা তা রক্ষায় কাজ করছেন।

আরও পড়ুন

হবিগঞ্জ শহরের কামড়াপুর ও দানিয়ালপুর এলাকাও প্লাবিত হয়েছে। হবিগঞ্জ-মিরপুর সড়কের কয়েকটি অংশ পানির নিচে চলে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পানি আরও বাড়লে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তারা দ্রুত নদীভাঙন প্রতিরোধ, পর্যাপ্ত ত্রাণ বিতরণ এবং নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।

টানা বর্ষণে বাগেরহাটের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পানির নিচে চলে যাওয়ায় জনজীবন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় মোংলা সমুদ্রবন্দরের জন্য ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রেখেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বন্যাকবলিত এলাকায়, বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিভাগে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিকভাবে বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং জেলা প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।

এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান শুক্রবার সাতকানিয়া ও বাঁশখালীর বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন। একই সঙ্গে উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ক্লিনিকে না যাওয়ায় নারীর মাথা ফাটাল দালালরা
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরের পরীক্ষা সম্পর্কে তথ্য জানতে গিয়ে এক নারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন দালালের বিরুদ্ধে। এতে কানিজা আফরোজ (৪০) নামে ওই নারী আহত হয়েছেন। তার মাথায় তিনটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত কানিজা আফরোজ চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার বালুবাগান এলাকার বাসিন্দা। তার অভিযোগ, ছেলের ডেঙ্গু জ্বরের বিষয়ে চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার তথ্য জানতে তিনি হাসপাতালের বহির্বিভাগে (আউটডোর) যান। সেখানে সিবিসি পরীক্ষা করা হয় কি না জানতে চাইলে আশপাশে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ও তার ছেলেকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। ওই ব্যক্তিরা তাকে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে পরীক্ষা করানোর জন্য চাপ দেন। তিনি আগে হাসপাতালেই পরীক্ষা সম্পর্কে তথ্য জানতে চান। এতে রাজি না হলে তাকে জোর করে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কানিজা আফরোজ বলেন, একপর্যায়ে কয়েকজন প্লাস্টিকের পাইপ ও রডসহ বিভিন্ন জিনিস দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। পরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিলে তার মাথায় তিনটি সেলাই দেওয়া হয়। কানিজা আফরোজ বলেন, আমি শুধু জানতে চেয়েছিলাম এখানে সিবিসি পরীক্ষা হয় কি না। এরপর কয়েকজন আমাকে হাসপাতাল থেকে বের করে দিতে চান। আমি বলি, আগে তথ্যটা জেনে নিই। তখন তারা বলে, এখানে পরীক্ষা হয় না, ক্লিনিকে যেতে হবে। আমি যেতে না চাইলে আমাকে মারধর করা হয়। আমরা বাঁচাও বলে চিৎকার করেছি। কিন্তু কেউ এগিয়ে এসে সাহায্য করেনি। কানিজার অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালটিতে কথিত দালালদের দৌরাত্ম্য রয়েছে। তারা বিভিন্ন রোগী ও তাদের স্বজনকে নানা কথা বলে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এর প্রতিবাদ করায় তাকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন কানিজা আফরোজ। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মাহবুব হাসান বলেন, হাসপাতালে কোনো কর্মচারী সেখানে না থাকায় এবং কেউ এগিয়ে না আসায় দালালরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। দায়ীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আহত নারী আইনি ব্যবস্থা নিলে তাকে সহায়তা করা হবে। এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরামুল হোসেন জানান, হাসপাতালে মারধরের বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরটিভি/টিআর
ক্লিনিকে না যাওয়ায় নারীর মাথা ফাটাল দালালরা
ইয়াবাসহ দুই জুলাই যোদ্ধা গ্রেপ্তার
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ইয়াবাসহ দুই জুলাই যোদ্ধাকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের বৃষ্টি হোটেলের সামনে থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চিতুলিয়াপাড়ার আজাহার আলীর ছেলে জুলাই যোদ্ধা হাছান আলী (৩৭) এবং একই উপজেলার শালদাইর গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে ও গোবিন্দাসী ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য জুলাই যোদ্ধা মাহমুদুল হাসান (৩৪)। পুলিশ তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ১৫০ পিস করে মোট ৩০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে। পুলিশের দাবি, জুলাই যোদ্ধা পরিচয় ব্যবহার করে তারা রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদক ব্যবসা করে আসছিলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় জুলাই যোদ্ধার প্রভাব খাটিয়ে তারা প্রশাসনকে চাপে রাখতেন। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) উপপরিদর্শক রাইজ উদ্দিন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এলেঙ্গার একটি হোটেলসংলগ্ন এলাকা থেকে দুই জুলাই যোদ্ধাকে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছেন, গাবসারা থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট নিয়ে এসে এলেঙ্গায় বিক্রির জন্য ক্রেতার অপেক্ষায় ছিলেন। আরটিভি/টিআর
ইয়াবাসহ দুই জুলাই যোদ্ধা গ্রেপ্তার
পুলিশ দেখেই ‘ডাকাত’ বলে চিৎকার করেন চালক, অতঃপর...
টাঙ্গাইলের কালিহাতীর এলেঙ্গায় চালককে ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মাইক্রোবাস নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছে একদল ডাকাত। এ সময় হাইওয়ে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গাড়ি থেকে নেমে ৫ থেকে ৭ জন পালিয়ে যায়। পরে গাড়ি থেকে দুটি রামদা ও শাবলযুক্ত একটি লোহার রড উদ্ধার করা হয়। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের পূর্ব পাশে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, মাইক্রোবাসটি গাজীপুরের কোনাবাড়ী থেকে টাঙ্গাইলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। চালক মো. খোরশেদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে গাড়িটি রিজার্ভ করা হয়। পরে চন্দ্রাসহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যায়ক্রমে ৫ থেকে ৭ জন ব্যক্তি গাড়িতে ওঠেন। চালকের দেওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কিছুদূর যাওয়ার পর ওই ব্যক্তিরা ধারালো অস্ত্রের মুখে তাঁকে জিম্মি করে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নেন। পরে তাঁদের নির্দেশ অনুযায়ী গাড়ি চালাতে বাধ্য হন তিনি। একপর্যায়ে এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড ট্রাফিক পয়েন্ট থেকে প্রায় ২০০ গজ পূর্বে হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা গাড়িটিকে দেখতে পান। পুলিশ দেখে চালক ‘ডাকাত, ডাকাত’ বলে চিৎকার করে সাহায্য চান। এ সময় হাইওয়ে পুলিশের দুই কনস্টেবল দ্রুত গাড়িটির দিকে এগিয়ে গেলে গাড়িতে থাকা ৫ থেকে ৭ জন ব্যক্তি নেমে বিভিন্ন দিকে দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে আতঙ্কিত অবস্থায় চালক মো. খোরশেদকে উদ্ধার করে পুলিশ। গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি রামদা ও শাবলযুক্ত একটি লোহার রড উদ্ধার করা হয়। এ বিষয়ে মধুপুর (এলেঙ্গা) হাইওয়ে থানার ইনচার্জ মো. মাহবুবুর রহমান জানান, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলের সদস্যরা গাড়ি থেকে নেমে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা অস্ত্র, মাইক্রোবাস ও চালককে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কালিহাতী থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আরটিভি/টিআর
পুলিশ দেখেই ‘ডাকাত’ বলে চিৎকার করেন চালক, অতঃপর...
ক্লাসে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ২৫ শিক্ষার্থী
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় ক্লাস চলাকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছে ২৫ শিক্ষার্থী। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে পাঁচবিবি উপজেলা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) উপজেলার কাঁকড়া পিংলু উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলাকালে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থতা বোধ করতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যেই শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা ও বমি বমি ভাব দেখা দিলে একে একে ২৫ জন শিক্ষার্থী ঢলে পড়ে। এতে পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পরপরই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকেরা দ্রুত অসুস্থ শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তরুণ কুমার পাল বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তীব্র গরম অথবা সাইকোলজিক্যাল (গণ-মনস্তাত্ত্বিক) কোনো কারণে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে থাকতে পারে। বর্তমানে অধিকাংশ রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং চিকিৎসকেরা সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। আরটিভি/টিআর
ক্লাসে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ২৫ শিক্ষার্থী
বিনামূল্যে বিতরণের এক টন পাঠ্যবই উদ্ধার, আটক ১
টাঙ্গাইলের মধুপুরে নবম ও দশম শ্রেণির বিনামূল্যে বিতরণযোগ্য এক টন পাঠ্যবই উদ্ধার করেছে প্রশাসন। এ সময় ভাঙারি ব্যবসায়ী ইব্রাহিমকে আটক করা হয়। দুটি ভ্যানে করে বাড়ি থেকে বইগুলো অন্যত্র পাচার করছিলেন তিনি। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার নরকোনা গ্রামের ইব্রাহিমের বাড়ি থেকে বইগুলো উদ্ধার করা হয়। মধুপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) বাবুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয়রা জানান, ইব্রাহীম হোসেন মাঝে মধ্যেই মধুপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের গুদাম থেকে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির বিনামূল্যের পাঠ্যবই কেজি দরে কিনে এনে বিক্রি করতেন। মঙ্গলবার তিনি কয়েক ভ্যান পাঠ্যবই ওই গুদাম থেকে কিনে আনেন। এরপর বাড়িতে রেখে বুধবার অন্যত্র পাচারের চেষ্টা করেন। সন্দেহবশত গ্রামের কয়েকজন যুবক খোঁজ নিয়ে দেখতে পান, সবই নবম-দশম শ্রেণির বিনামূল্যের পাঠ্যবই। পরে তারা স্থানীয় সংবাদকর্মী, থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেন। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নঈম উদ্দীন ঘটনাস্থলে যান। তারা পাঠ্যবই জব্দ করেন এবং ভাঙারি ব্যবসায়ী ইব্রাহীম হোসেনকে আটক করে থানায় পাঠান। ভাঙারি ব্যবসায়ী ইব্রাহীম হোসেন জানান, তিনি মধুপুর শিক্ষা অফিসের অনুমোদন সাপেক্ষে নাইটগার্ড তোফায়েল আহমেদের সহযোগিতায় গুদাম থেকে এসব বই কেজি দরে কিনে এনেছেন। কাজেই তার কোনো দোষ নেই। বই বিতরণের দায়িত্বে থাকা একাডেমিক অফিসার মো. মহিউদ্দীন জানান, তার অগোচরে নাইটগার্ড এ কুকর্ম করেছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বিনামূল্যের এসব পাঠ্যবই কীভাবে, কোথা থেকে এলো, তা তদন্ত করে দেখা হবে। মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বাবুল হাসান বাদী হয়ে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আরটিভি/টিআর
বিনামূল্যে বিতরণের এক টন পাঠ্যবই উদ্ধার, আটক ১
আরও পড়ুন
চট্টগ্রামে অন্ধকারে ৭০ পরিবার
প্রবাসে ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর খবরে মারা গেলেন বড় ভাইও
ফটিকছড়িতে আকস্মিক বন্যায় প্লাবিত ৫ গ্রাম
চট্টগ্রামের কারাগারে বন্দি ১৯৮ বিদেশি নাগরিক, অপরাধ কী?