
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং কয়েক ঘণ্টার তীব্র বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে উপজেলার অন্তত ৫ থেকে ৭টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ আমন ধানক্ষেত, বীজতলা ও গ্রামীণ রাস্তাঘাট। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে উপজেলার বাগানবাজার ও দাঁতমারা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বাগানবাজার এবং দাঁতমারা ইউনিয়নের নতুনপাড়া, হলুদিয়া, লালমাই, চিকনছড়া ও বড়বিলসহ বেশ কয়েকটি নিচু এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভোরের দিকে শুরু হওয়া হঠাৎ ভারী বৃষ্টির পর খাগড়াছড়ির পাহাড়ি অঞ্চল থেকে তীব্র বেগে ঢল নামতে শুরু করে। সীমান্ত এলাকার পাহাড়ি ছড়া ও খালগুলোর পানি ধারণক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ায় মুহূর্তের মধ্যে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে। অনেক কাঁচা ও পাকা ঘরবাড়ির উঠান পর্যন্ত পানি ওঠায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গবাদিপশু ও ঘরের আসবাবপত্র নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা।
বন্যার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কৃষিখাতে। সবেমাত্র রোপণ করা বিঘার পর বিঘা আমন ধানক্ষেত ও বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে থাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এ ছাড়া বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক পানিতে ডুবে যাওয়ায় ওই এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, এই পানি মূলত খাগড়াছড়ি থেকে এসেছে। আকস্মিক এই বন্যায় এলাকার রাস্তাঘাট ও কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেছি এবং আপাতত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
আরটিভি/এমএইচজে




