ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

স্ট্যাম্পে সই করে মাদক ছাড়ার ঘোষণা দুই চিহ্নিত ব্যবসায়ীর 

সোনারগাঁ প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০২৬, ১০:০২ পিএম
ছবি: আরটিভি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বুরুমদী গ্রামে শতশত নেতাকর্মী ও স্থানীয় জনগণের সামনে স্ট্যাম্পে সই করে মুচলেকা দিয়ে মাদক ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন মাসুম ভুঁইয়া ও হাবিবুর রহমান (পিয়ার) নামে দুই চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী।

শনিবার (১৮ জুলাই) জামপুর ইউনিয়ন ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইয়ামিন মিয়ার সভাপতিত্বে এক অনুষ্ঠানে তারা এ ঘোষণা দেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির ১নং সহসভাপতি ও মো. আল মুজাহিদ মল্লিক।

এ সময় মাদক পরিহারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন উপস্থিত নেতারা।

আরও পড়ুন

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন- জামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মো. গিয়াসউদ্দিন, সোনারগাঁ উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ ভুঁইয়া, ​সোনারগাঁ উপজেলা জাসাসের সভাপতি আমির হোসেন, সোনারগাঁ উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক ফজলু মেম্বার, জামপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফারুক ও ইব্রাহিম মেম্বার, সোনারগাঁ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সদস্য আলামিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য শাহআলম, জামপুর ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক মকবুল ভুঁইয়া, জামপুর ইউনিয়ন জাসাসের সভাপতি আলমগীর, জামপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি শিহাব ভুঁইয়াসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অন্যান্য নেতারা।

অনুষ্ঠানে আগত বক্তারা এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে এ ধরনের উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং বাকিদেরও মাদক ব্যবসা ও সেবন ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানান।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
৪২ লাখ টাকার ‘আলোর প্রকল্প’ অন্ধকারে
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় গ্রামীণ জনপদ আলোকিত করতে দুই অর্থবছরে ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা হয়েছিল সৌরবাতি। একসময় এসব বাতির আলোয় আলোকিত হতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক, হাটবাজার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান। তবে কয়েক বছর না যেতেই অধিকাংশ বাতি নষ্ট হয়ে গেছে। খুঁটি ও সৌরপ্যানেল থাকলেও রাতে জ্বলছে না বাতি। ফলে সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত আলোকায়ন প্রকল্পের সুফল এখন অনেক এলাকাতেই মিলছে না। ফলে আলোর নিচেই অন্ধকার। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ ও ২০১৯-২০ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ৭০টি সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপন করা হয়। প্রতিটি সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপনে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫৬ হাজার ৪৯০ টাকা। এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ১৯টি সৌরপ্যানেল স্থাপন করা হয়। এসব সৌরপ্যানেল স্থাপনে মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ লাখ ৯২ হাজার ৫২৬ টাকা। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বাতিগুলো স্থাপনের পর শুরুতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাজার এলাকার রাতের পরিবেশ বদলে যায়। সন্ধ্যার পর বাতি জ্বলার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য ও মানুষের চলাচলে স্বস্তি আসে। কিন্তু অনেক বাতি কয়েক মাসের মধ্যেই নষ্ট হতে শুরু করে। কোথাও ব্যাটারি, কোথাও প্যানেল কিংবা বাতির অন্যান্য যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে পড়ে থাকলেও সেগুলো মেরামত বা প্রতিস্থাপনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ২৮–৩০ হাজার টাকায় বাজারে পাওয়া সৌরবাতি প্রকল্পে ৫৬ হাজার টাকা দরে দেখানো হয়েছে। নিম্নমানের সরঞ্জাম ব্যবহারের কারণেও বাতিগুলো দ্রুত নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক সড়কের পাশে এখনো সৌরবাতির খুঁটি দাঁড়িয়ে আছে। খুঁটির ওপরে সৌরপ্যানেল, আর নিচে বাতি ও ব্যাটারি থাকলেও রাতে অধিকাংশ বাতিই জ্বলে না। ফলে বিপুল অর্থ ব্যয়ে স্থাপন করা এসব অবকাঠামো এখন অনেকটা অকার্যকর পড়ে আছে। এতে গ্রামীণ জনপদকে আলোকিত করার যে উদ্দেশ্যে প্রকল্পগুলো নেওয়া হয়েছিল, অনেক এলাকাতেই তা পূরণ হচ্ছে না। আব্দুল ওহাব আলিম মহিলা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেন বলেন, গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে সৌরবাতি স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু দিন যত যাচ্ছে, ততই এসব বাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এখন বেশিরভাগ সৌরবাতিই আর সচল নেই। ফলে রাত হলে অনেক জায়গা অন্ধকারে ডুবে যায়। তাঁর প্রতিষ্ঠানে স্থাপন করা সৌরবাতিটিও কয়েক দিনের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যায়। নিম্নমানের হওয়ায় বাতিগুলো দ্রুত নষ্ট হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, এ প্রকল্প অনেক আগের। নতুন করে এখনো আলোর প্রকল্প পাইনি। তবে পুরনো বাতি সচল করা যায় কি না, সে বিষয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করব। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতাউর রাব্বি বলেন, বর্তমান সরকার সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে চায়। এর আগে স্থাপন করা সৌরপ্যানেলের অধিকাংশই এখন নষ্ট হয়ে গেছে। এগুলো পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। আরটিভি/টিআর
৪২ লাখ টাকার ‘আলোর প্রকল্প’ অন্ধকারে
মা ইলিশ ধরলে মিলবে কঠিন শাস্তি
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা মৎস্য দপ্তর আয়োজিত মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬ উপলক্ষে ইলিশ সম্পদ উন্নয়নসংক্রান্ত জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মা ইলিশ ধরলে মিলবে কঠিন শাস্তি
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ আগামী অর্থবছরে শুরু হবে: দুর্যোগমন্ত্রী
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা প্রশাসনিক ভবন ও হলরুমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ আগামী অর্থবছরে শুরু হবে: দুর্যোগমন্ত্রী
ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে: কর্মসংস্থান মন্ত্রী
বিগত সরকারের সময়ে শিল্প-কারখানার নামে ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের সময়ে অনেকেই কলকারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ নিয়েছেন। পরে সেই অর্থ বিদেশে পাচার করে তারা দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। এর প্রভাব পড়ছে দেশের শিল্পখাতেও। অর্থসংকটসহ নানা কারণে বন্ধ হয়ে গেছে বেশ কিছু কারখানা। বন্ধ থাকা এসব শিল্প-কারখানা কীভাবে পুনরায় চালু করা যায়, তা নিয়ে সরকার কাজ করছে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, কারখানাগুলো সচল করা গেলে একদিকে যেমন উৎপাদন বাড়বে, অন্যদিকে শ্রমিকদের কর্মসংস্থানও নিশ্চিত হবে। বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত চালুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রামের তিনটি সংসদীয় আসনের এমপিরা এবং পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আরটিভি/টিআর
ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে: কর্মসংস্থান মন্ত্রী
৪৯তম বিসিএসে প্রথম হয়েও বাদ পড়লেন সোহেল রানা
অভাবের সংসারে বড় হয়েছেন সোহেল রানা। তবে সত্যিকার অর্থে বড় হতে দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রমে ছিলেন অটুট। সেই শক্তিতেই তিনি ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের ইতিহাস বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন। তবে বিসিএসে প্রথম স্থান অর্জন করেও প্রকাশিত চূড়ান্ত নিয়োগ গেজেটে বাদ পড়েছেন তিনি। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক নিয়োগ গেজেটে বিষয়টি দেখা যায়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত গেজেটে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে ৬১১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে গত বছরের ১১ নভেম্বর রাতে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফলে ৬৮৩টি পদের বিপরীতে ৬৬৮ জনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। সেই তালিকায় ইতিহাস বিভাগে প্রথম হন সোহেল রানা। সোহেল রানা নীলফামারী সদর উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের কুখাপাড়া গ্রামের কৃষক আবু হোসেনের ছেলে। সোহেল ২০১৪ সালে সোনারায়-সংগলশী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ এবং ২০১৬ সালে রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৯২ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে ভর্তি হয়ে ২০২০ সালে স্নাতক (সিজিপিএ ৩.৫৪) এবং ২০২১ সালে সিজিপিএ ৩.৫৬ নিয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। স্থানীয় বাসিন্দা মাজাহারুল ইসলাম বলেন, এর আগে ফলাফল শুনে জানতে পারলাম, ছেলেটি প্রথম হয়েছে এবং নাকি একটি ভেরিফিকেশন বাকি আছে। তখন আমরা ভেবেছিলাম, হয়তো তার বাবার কষ্ট করে পড়ানোটা সার্থক হবে। এবার পরিবারটি একটু শান্তিতে থাকতে পারবে। কিন্তু গতকাল শুনলাম, তাকে নাকি রাজনৈতিক কারণে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে আমার দেখা মতে, সে কোনো দিন কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিল না। তাহলে তারা কীভাবে এত ভালো ফল করা, প্রথম হওয়া একটি ছেলেকে বাদ দেয়? সোনারায়-সংগলশী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক বিভূতি ভূষণ রায় বলেন, সোহেল রানা ২০১৪ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে এসএসসি পাস করে। এরপর কারমাইকেল কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। ৪৯তম বিসিএসে সে ভালো ফলাফল করে ইতিহাস বিভাগে শিক্ষা ক্যাডারে প্রথম স্থান অধিকার করে। কিন্তু গেজেট প্রকাশের পর তার নাম বাদ দেওয়ায় আমরা স্কুলের সব শিক্ষক ও এলাকাবাসী ব্যথিত। সোহেল রানার মা শাহিদা বেগম বলেন, অভাবের সংসারে কত কষ্ট করে পড়াশোনা করাইছি, আল্লাহ জানে কেন এমন হইলো আমার ছাওয়ালটার সাথে। এত কষ্ট করে পড়াশোনা করার পরে একটা চাকরিতে তো টেকিছে। এখন শুনেছি, আমার ছাওয়াল্টাকে নাকি বাদ দিয়েছে। কেন, বারে? আমার বাবাটার কী দোষ যে আমার ছাওয়াটাকে বাদ দিলেন?—এভাবেই চোখের পানি ঝরাতে ঝরাতে কথাগুলো বলছিলেন ৪৯তম বিশেষ বিসিএসে বাদ পড়া সোহেল রানার মা। সোহেলের বাবা আবু হোসেন বলেন, আমার ছেলেকে অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করিয়েছি। সংসারের অভাব-অনটনের মধ্যেও শুধু এই আশায় তাকে পড়াশোনা করিয়েছি, একদিন সে নিজের পায়ে দাঁড়াবে, ভালো একটা চাকরি করবে। ছেলেকে পড়াতে গিয়ে জমি-জায়গা বিক্রি করেছি, এমনকি বন্দুকও বিক্রি করতে হয়েছে। অনেক কষ্ট করে তাকে এতদূর নিয়ে এসেছি। তিনি বলেন, যেদিন জানতে পারলাম, আমার ছেলে বিসিএসে টিকে গেছে, সেদিন আমাদের আনন্দের সীমা ছিল না। মনে হয়েছিল, এত বছরের কষ্ট অবশেষে সার্থক হয়েছে। কিন্তু গতকালের খবর শুনে আমরা একেবারে ভেঙে পড়েছি। যে ছেলে এত কষ্ট, পরিশ্রম ও মেধার মাধ্যমে বিসিএসে উত্তীর্ণ হলো, শেষ পর্যন্ত গেজেটে তার নাম নেই—এটা একজন বাবা হিসেবে মেনে নেওয়া আমার জন্য খুবই কষ্টের। তিনি আরও বলেন, আমি সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ করছি, আমার ছেলের বিষয়টি যেন মানবিকভাবে বিবেচনা করা হয়। এত বছরের পরিশ্রম, ত্যাগ ও স্বপ্ন যেন এভাবে শেষ হয়ে না যায়। আমার একটাই দাবি, আমার ছেলের চাকরিটা যেন হয়। এত কষ্ট করে তাকে পড়িয়েছি, আজ তার মুখের দিকে তাকিয়ে সরকারের কাছে শুধু এইটুকুই চাই। এ বিষয়ে সোহেল রানা বলেন, ৪৯তম বিসিএসে ইতিহাস বিভাগে শিক্ষা ক্যাডারে প্রথম স্থান অধিকার করেছিলাম। দীর্ঘ ১০ মাস পর গতকাল আমাদের গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু সেখানে আমার নাম না দেখে আমি নিজেই হতভম্ব হয়ে গেছি। কী কারণে আমার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, সেটিও আমি জানি না। তিনি বলেন, সাধারণত পুলিশ ভেরিফিকেশনে একজন ব্যক্তির বিষয়ে তথ্য দেওয়া হয়। ওই ব্যক্তি যদি কোনো অপরাধে জড়িত থাকেন, রাষ্ট্রদ্রোহী কোনো কাজ করেন বা সরকারবিরোধী কোনো কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন, তাহলে বিষয়টি সেখানে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু এসব বিষয়ের সঙ্গে আমার পরিবার কিংবা আমি ন্যূনতম কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নই। তিনি আরও বলেন, কেন আমাকে বাদ দেওয়া হলো, সেটি আমি নিজেও এখনো জানি না। আমার পরিবার কোনোভাবেই রাজনৈতিক বা অন্য কোনো সম্পৃক্ততার সঙ্গে জড়িত নয়। তাহলে তারা কীভাবে আমাকে বাদ দিলেন? আমি একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। আমার পরিবারের কেউই কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। চাকরিতে আবেদনের বয়স আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সোহেল বলেন, চাকরিতে আবেদনের বয়স আছে। কিন্তু ৪৯তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর আর কোথাও সেভাবে আবেদনও করিনি বা চেষ্টা করিনি। কারণ আমার সর্বোচ্চ একটি চাওয়া ছিল, সেই চাওয়াটি পূরণ হয়ে গিয়েছিল। এ কারণে আর কোথাও চেষ্টা করা হয়নি। বিশেষ করে বাংলাদেশের অন্যতম সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা বিসিএসে সর্বোচ্চ মেধার প্রয়োগ করে টিকতে হয়। অন্য সব পরীক্ষার্থীর মতো আমাকেও অনেক দিন-রাত এক করে পড়াশোনা করতে হয়েছে। অনেক রাত নির্ঘুম কেটেছে। যখন আমি ৪৯তম বিসিএসে অংশগ্রহণ করি, তখন আমি একটি চাকরি করতাম। সেই চাকরির পাশাপাশি ৪৯তম বিসিএসে অংশগ্রহণ করা একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয় ছিল। তিনি আরও বলেন, যদি প্রকাশ না হয়, তাহলে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো পথ নেই। আমার বাবা-মা, ভাই-বোন বা পরিবারের সবার সামনে এই মুখ নিয়ে দাঁড়ানোর সাহস আমার নেই। কোনোভাবেই তাদের সামনে যেতে পারছি না। গতকালের ফলাফলের পর সবাই হতভম্ব হয়ে গেছে। আরটিভি/টিআর
৪৯তম বিসিএসে প্রথম হয়েও বাদ পড়লেন সোহেল রানা
আরও পড়ুন
মিরসরাইয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে ৮৩ জনের কারাদণ্ড-জরিমানা
যেভাবে প্রিজন ভ্যান থেকে পালাল জেনেভা ক্যাম্পের মাদকসম্রাট
গাছে বেঁধে ২ মাদক কারবারিকে বেধড়ক পিটুনি, অতঃপর...
মেঘনায় ট্রলারডুবিতে নারী নিহত, একই পরিবারের ৪ সদস্য নিখোঁজ