
নরসিংদীতে বিনামূল্যে ১০ লিটার দেশীয় মদ না দেওয়ায় তানভীর আহমেদ রাব্বি (৩০) নামে একটি দেশীয় মদের দোকানের ম্যানেজারের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আগুনে মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ দগ্ধ হয়েছে। বর্তমানে তিনি ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা মিনু বেগম বাদী হয়ে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে নরসিংদী মডেল থানায় মামলা করেছেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এআরএম আল মামুন।
ভুক্তভোগী তানভীর আহমেদ রাব্বি নরসিংদী পৌর শহরের বেপারীপাড়ার মনির মিয়ার ছেলে।
মামলার আসামিরা হলেন—নরসিংদী পৌর শহরের বৌয়াকুর এলাকার বজলুল হক সরকারের ছেলে জাহাঙ্গীর সরকার (৬০) ও তার ছেলে জাহিদ সরকার (২৬)। জাহাঙ্গীর সরকার বাজিরমোড় এলাকায় নিরালা আবাসিক হোটেল পরিচালনা করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, রাব্বি পৌর শহরের বাজিরমোড় এলাকায় লাইব্রেরি পট্টিতে অবস্থিত একটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত দেশীয় মদের দোকানে কাজ করেন। গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে জাহাঙ্গীর সরকার ওই মদের দোকানে এসে রাব্বির কাছে বিনামূল্যে ১০ লিটার মদ দাবি করেন। রাব্বি বিনামূল্যে মদ দিতে অস্বীকৃতি জানালে জাহাঙ্গীর সরকার তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরে তিনি জোরপূর্বক ১০ লিটার মদ নিয়ে চলে যান।
কিছুক্ষণ পর এ ঘটনার জের ধরে জাহাঙ্গীর সরকারের ছেলে জাহিদ সরকার কয়েকজন লোক নিয়ে দোকানের কাউন্টারের সামনে আসেন। এ সময় তারা রাব্বিকে খুঁজে বের করে সঙ্গে নিয়ে আসা পেট্রোল তার শরীরে ঢেলে দেন। পরে দিয়াশলাই দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। এতে রাব্বির শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়।
দোকানে থাকা অন্য কর্মচারীরা তাৎক্ষণিক পানি দিয়ে আগুন নিভিয়ে রাব্বিকে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে রেফার করা হয়। বর্তমানে তিনি ওই ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী রাব্বির স্ত্রী নিপা আক্তার বলেন, আমার স্বামীর মুখমণ্ডলসহ শরীরের ৩৮ শতাংশ পুড়ে গেছে। এর মধ্যে শ্বাসনালি পুড়েছে এবং ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তিনি ৭০ শতাংশ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। আমার স্বামীর কিছু হলে সন্তান নিয়ে পথে বসতে হবে। আমি এই নির্মম ঘটনার বিচার চাই।
ভুক্তভোগীর বাবা মনির হোসেন বলেন, আমি ক্যানসারে আক্রান্ত। দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে এসেছি। আমার ছেলেই সংসার চালাতো। তাকে নির্মমভাবে শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। সে এখন হাসপাতালে মৃত্যুযন্ত্রণায় ছটফট করছে। আমি অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এআরএম আল মামুন বলেন, বিনামূল্যে মদ না দেওয়ায় এক কর্মচারীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বাবা ও ছেলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তারা আগে থেকেই মাদকাসক্ত বলে জানা গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
আরটিভি/এমএম



