খুলনায় একটি ভাড়া বাসা থেকে বিশ্বজিৎ দেউড়ী (৩৫) নামে এক তরুণের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনার পর থেকে তার রুমমেট ও সহকর্মী অন্তর সরকার নিখোঁজ রয়েছেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে পাইকগাছা পৌর এলাকার হাসপাতাল মোড় এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত বিশ্বজিৎ দেউড়ী (৩৫) ঝালকাঠি সদর উপজেলার বেতরা গ্রামের হিরালাল দেউড়ীর ছেলে ও আরএফএলের ভিগো গ্রুপের বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অপরদিকে নিখোঁজ অন্তর সরকার মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার লিটন সরকারের ছেলে। তিনি একই প্রতিষ্ঠানে টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্বজিৎ ও অন্তরের সঙ্গে কর্মরত সহকর্মী নয়ন রায় তাদের মোবাইল ফোনে না পেয়ে ওই ভাড়া বাসায় যান। সেখানে দরজায় তালাবদ্ধ অবস্থায় এবং সামনে রক্তমাখা একটি ছুরির খাপ পড়ে থাকতে দেখে তিনি বিষয়টি পুলিশকে জানান।
খবর পেয়ে পুলিশ তালা ভেঙে ঘরের ভেতরে ঢুকে কাঁথা দিয়ে মোড়ানো ও তোশকে ঢাকা অবস্থায় বিশ্বজিৎ দেউড়ীর মরদেহ উদ্ধার করে। এরপর প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে তারা। পরে ঘটনাস্থলের আলামত পরীক্ষার জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক দলকে খবর দেওয়া হয়।
রাত সাড়ে আটটার দিকে সিআইডির ফরেনসিক কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম (মনির) এর নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় সহকারী পুলিশ সুপার (ডি সার্কেল) আমির হামজা এবং পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলীর নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারা যৌথভাবে ঘটনাস্থলের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন এবং বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা, সোমবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটতে পারে।
বাড়ির মালিক রামপ্রসাদ মণ্ডল জানান, বিশ্বজিৎ ও অন্তর তার বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষ ভাড়া থাকতেন। তবে ঘটনার পর থেকে অন্তরকে আর এলাকায় দেখা যাচ্ছে না।
আরএফএল কোম্পানির পাইকগাছা শাখার ম্যানেজার শরিফুল ইসলাম বলেন, বিশ্বজিৎ ও অন্তর দুজনই তাদের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর থেকে অন্তর সরকারের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর তিনি কক্ষে তালা দিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে সেখান থেকে চলে যান।
এ বিষয়ে পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের পাশাপাশি অন্তরকে খুঁজে বের করতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
আরটিভি/আইএম




