ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

অস্বাভাবিক জোয়ারে বিধ্বস্ত হাতিয়ার বেড়িবাঁধ, জনমনে আতঙ্ক

হাতিয়া প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম
ছবি: আরটিভি

বৈরী আবহাওয়া ও অস্বাভাবিক জোয়ারে নোয়াখালীর হাতিয়ার চরঈশ্বর, নলচিরা, চরকিং ও সোনাদিয়া ইউনিয়নের বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশে প্রায় ৮০০ মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি অংশ পুরোপুরি ভেঙে যাওয়ায় প্লাবিত হয়েছে বেশ কয়েকটি গ্রাম। দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ মেরামতের ব্যবস্থা না করলে বর্ষার শেষ দিকে প্লাবিত হওয়ার শংকায় চারটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ।

প্রায় সাড়ে ৭ লাখ মানুষের বসবাস নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায়। ঝড় জলোচ্ছ্বাসসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ তাদের নিত্যদিনে সঙ্গী। প্রতিবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এ দ্বীপটি। চলতি বর্ষার শুরুতে ভারি বৃষ্টি এবং মেঘনা ও বঙ্গোপসাগরের অস্বাভাবিক জোয়ারে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এ দ্বীপের বিভিন্ন এলাকায়। সপ্তাহের বেশি সময় জলাবদ্ধতায় পানিবন্দি ছিলেন কয়েক লাখ মানুষ।

দ্বীপটির মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে জোয়ারে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধের কারণে।

নলচিরা ইউনিয়নের তুপানিয়া গ্রামের বেড়িবাঁধের পাশে বসবাস করেন রোকেয়া বেগম। বেড়িবাঁধের উপরে দেখা হয় তার সাথে। তিনি জানান, জোয়ারের ঢেউয়ের আঘাতে তাদের পাশের বাঁধটি একেবারে সরু হয়ে গেছে। এটি যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে যেতে পারে। বাঁধ ভেঙে গেলে তাদের আর মাথা গোঁজার ঠাঁই হবে না।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমরা ভোট দিয়ে এমপি, চেয়ারম্যান, মেম্বার নির্বাচিত করেছি। এখন আমাদের দেখার কেউ নেই। তারা ঢাকাতে বসবাস করছেন, অথচ আমরা পানিতে ভাসার মতো অবস্থার মধ্যে আছি।

একই এলাকার বাসিন্দা আব্দুল খালেক নামে এক বৃদ্ধ বলেন, রাতে জোয়ারের পানির স্রোতের আওয়াজে ঘুম আসে না। যেন বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে ভেঙে যাচ্ছে মনে হয়। বাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হওয়ার ভয়ে পরিবারের অনেকে অন্যত্র অবস্থান করছে। বাড়ির অনেক গুরুত্বপূর্ণ আসবাবপত্র অন্য জায়গায় নিয়ে রেখেছেন।

আব্দুল খালেক আরও বলেন, এখন কাটাল শেষ হয়ে গেছে। এখন আর অধিক উচ্চতায় জোয়ারের সম্ভাবনা নেই। তবে আসছে কাটাল ও পূর্ণিমায় চিকন হয়ে থাকা এই বাঁধ ভেঙে গিয়ে বিশাল এলাকা প্লাবিত হবেই।

তিনি দ্রুত নলচিরা ইউনিয়নের উত্তর পাশে চারটি স্পটে বিধ্বস্ত হওয়া বেড়িবাঁধ দ্রুত সময়ের মধ্যে মেরামত করার দাবি জানান।

এদিকে গত কয়েকদিন আগে স্বাভাবিকের তুলনায় ৪/৫ ফুট উচ্চতার জোয়ারের আঘাতে চরঈশ্বর ইউনিয়নের আফাজিয়া এলাকায় প্রায় ৩০ মিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে গিয়ে প্লাবিত হয়েছিল তিনটি গ্রাম। চরঈশ্বর ইউনিয়নরে ইউপি সদস্য আসার উদ্দিন জানান, তাৎক্ষণিক পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রচেষ্টায় ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ জিওব্যাগ দিয়ে মেরামত করা হয়েছে। কিন্তু তার পাশে অধিক জোয়ারে ঢেউয়ের আঘাতে বিধ্বস্ত হওয়া বেড়িবাঁধ মেরামতে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এই স্পটে বেড়িবাঁধ মাত্র একফুট কোথাও কোথাও এর চেয়ে কম, কোনোভাবে লেগে আছে। যা নিয়ে বাসিন্ধাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

একই অবস্থা সোনাদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম সোনাদিয়া গ্রামে। গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মন্নান জানান, এখানে অধিক জোয়ারে বিধ্বস্ত হওয়া বেড়িবাঁধ সাধারন মানুষ নিজেদের বাড়ির গাছের গোড়া, গাছের ঢাল পুঁতে দিয়ে মাটির বস্তা পেলে টিকিয়ে রেখেছে। তবে আসছে পূর্ণিমা জোয়ারে তা আর ধরে রাখা সম্ভব হবে না। এই গ্রামটি ঘনবসতি এলাকা এখানে বেড়িবাঁধ ভেঙে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ফসলি জমি, মাছের ঘের, কাঁচা গাছপালা, সড়ক, গবাদি পশু, বসত ঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা।

তিনি আরও জানান, জনপ্রতিনিধিদের কেউ এই এলাকায় আসেনি। নিজেরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজনকে সংবাদ দিয়ে এলাকায় এনে দেখিয়েছে। তারা ব্যবস্থা নেবে বলে গেছে। কিন্তু এখনো কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।

আরও পড়ুন

স্থানীয় লোকজন শঙ্কা করছেন বর্ষার শেষের দিকে অস্বাভাবিক জোয়ারে বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো দিয়ে আবারও পানি লোকালয়ে প্রবেশ করবে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ৪টি ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। তাই বড় ধরনের ক্ষতির আগে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতের দাবি স্থানীয়দের।

এ বিষয়ে নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ড উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, জামিল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, এই বছর অস্বাভাবিক জোয়ারের পাশাপাশি অতিমাত্রায় বৃষ্টিপাত হয়েছে হাতিয়াতে। এতে নদীর পাশের চারটি ইউনিয়নের ৮০০ মিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে আমাদের লোকজন এসব এলাকা পরিদর্শন করে এসেছে। বাস্তব চিত্র তুলে ধরে একটি প্রতিবেদন জেলা অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ মেরামতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
কামালের নামে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা করে ফেঁসে গেলেন নারী 
নেত্রকোনায় মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করে এক ব্যক্তিকে কারাভোগে বাধ্য করার দায়ে লিপি আক্তার (৩৯) নামের এক নারীকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে নেত্রকোনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ কে এম এমদাদুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নুরুল কবির রুবেল রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত লিপি আক্তার আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি জেলার বারহাট্টা উপজেলার বিক্রমশ্রী গ্রামের বাসিন্দা। আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে একই গ্রামের কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন লিপি আক্তার। মামলায় নিজেকে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা দাবি করলে পুলিশ কামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। পরে প্রায় দুই মাস কারাগারে থাকতে হয় তাকে। লিপি আক্তারের সন্তান জন্মের পর শিশুটির পিতৃত্ব নির্ধারণে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে কামাল উদ্দিনকে শিশুটির জৈবিক পিতা হিসেবে শনাক্ত করা হয়নি। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৯ সালে আদালত ধর্ষণের অভিযোগ থেকে কামাল উদ্দিনকে খালাস দেন। এরপর মিথ্যা অভিযোগে মামলা করে তাকে কারাভোগে বাধ্য করার প্রতিকার চেয়ে ২০২০ সালে লিপি আক্তারের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন কামাল উদ্দিন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত লিপি আক্তারকে দোষী সাব্যস্ত করে এ দণ্ডাদেশ দেন। আরটিভি/এসকে
কামালের নামে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা করে ফেঁসে গেলেন নারী 
চার মাস ধরে ছাত্রকে বলাৎকার, প্রধান শিক্ষককে বেধড়ক পিটুনি
সিলেটের গোলাপগঞ্জে এক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
চার মাস ধরে ছাত্রকে বলাৎকার, প্রধান শিক্ষককে বেধড়ক পিটুনি
চুল কাটতে বলায় পরীক্ষার হলে কলম দিয়ে শিক্ষককে রক্তাক্ত করল ছাত্র
চট্টগ্রামের রাউজানে পরীক্ষার হলে চুল লম্বা রাখার কারণ জানতে চেয়ে শাসন করায় এক শিক্ষককে কলম দিয়ে একাধিক আঘাত করে রক্তাক্ত করেছে নবম শ্রেণির এক ছাত্র। আহত শিক্ষককে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁর মাথায় সেলাই দিতে হয়।
চুল কাটতে বলায় পরীক্ষার হলে কলম দিয়ে শিক্ষককে রক্তাক্ত করল ছাত্র
বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধ, প্রাণ গেল একজনের
নওগাঁর মান্দায় বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে শহিদুল ইসলাম (৪২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম ও স্ত্রী সাথী আক্তার আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সাইফুল ইসলামের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে জানা গেছে।
বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধ, প্রাণ গেল একজনের
সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়, কে এই ‘বাংলার কৃষ’
দিনে জীবিকার তাগিদে কাজ করেন এসএস পাইপ মিস্ত্রি হিসেবে। আর অবসর পেলেই মেতে ওঠেন সুপারহিরো হওয়ার স্বপ্ন পূরণের সাধনায়। বোনের পুরোনো বোরকাকে কৃষের পোশাকে রূপ দিয়ে নানা কসরত ও স্টান্ট দেখানোর চেষ্টা করেন তিনি।
সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়, কে এই ‘বাংলার কৃষ’
আরও পড়ুন
নদীগর্ভে বেড়িবাঁধের একাংশ, হুমকিতে ঘরবাড়ি
৫০ বছরের দুর্ভোগের অবসান, সাঁকোর বদলে কাঠের সেতুতে বদলে যাচ্ছে তিন গ্রামের চিত্র
আড়াই কেজির বেশি ওজনের রুপালি ইলিশ বিক্রি হলো ১০ হাজার ৪৫০ টাকায়
এক ট্রলারে ধরা পড়ল ৬০ মণ ইলিশ