ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

মা-ছেলেকে অমানবিক নির্যাতনের পর ৩ দিন বন্দি বানিয়ে রাখেন চুন্নু

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২১ পিএম
ছবি: আরটিভি

পাঁচ হাজার টাকা চুরির অপবাদে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধরে নিয়ে অমানবিক নির্যাতনের পর গোয়ালঘরে পায়ে শিকল বেঁধে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তার বিধবা মাও।

অভিযোগ, মা-ছেলেকে টানা প্রায় দুই ঘণ্টা মারধরের পর চিকিৎসা নিতে যেতে দেওয়া হয়নি। তিন দিন বাড়িতে অবরুদ্ধ থাকার পর তীব্র যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে এক ব্যক্তির সহযোগিতায় পালিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তারা।

ঘটনাটি ঘটেছে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার গামুড়িবুনিয়া গ্রামে। বর্তমানে কলাপাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিধবা নাজমা বেগম ও তার ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে জিসান হোসেন। তাদের শরীরজুড়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান চুন্নু তালুকদার ও তার ভাই উপজেলা বিএনপির সদস্য আব্দুল হাই তালুকদারের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

নাজমা বেগমের ভাষ্য, কলাপাড়া উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের তারিকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী জিসান। শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে গামুড়িবুনিয়া গ্রামের বাড়ি থেকে আব্দুল হাই তালুকদার তার ছেলেকে ধরে নিয়ে যান। পরে পাঁচ হাজার টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে জিসানকে এলোপাতাড়ি পেটানো হয়। একপর্যায়ে তাকে গোয়ালঘরে নিয়ে পায়ে শিকল বেঁধে রাখা হয়।

ছেলের এমন খবর পেয়ে সেখানে গেলে নাজমার সামনেই জিসানকে আবারও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। ছেলেকে আর না মারার অনুরোধ করলে তাকেও নির্যাতন করা হয় বলে দাবি তার।

নাজমা বেগমের অভিযোগ, তার স্বামী বাচ্চু হাওলাদার প্রায় দেড় বছর আগে ব্রেন স্ট্রোকে মারা যান। মৃত্যুর আগে তিনি জমি কেনার জন্য আব্দুল হাই তালুকদারকে এক লাখ টাকা দিয়ে যান। সেই টাকা ফেরত না দেওয়া এবং জমি না দেওয়ার উদ্দেশ্যেই চুরির অভিযোগ তুলে মা-ছেলেকে নির্যাতন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

নির্যাতনের শিকার জিসান জানায়, তাকে মারধর করতে করতে প্রস্রাব করে দেওয়ার পরও পেটানো হয়। পরে লোকজন দিয়ে বাড়িতে পাহারা বসিয়ে তাকে ও তার মাকে তিন দিন গৃহবন্দী করে রাখা হয়, যাতে তারা হাসপাতালে যেতে না পারে। বর্তমানে হাসপাতাল থেকেও তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তার।

জিসানের ছোট বোন ও তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মুন আক্তার জানায়, মা ও ভাইকে মারধরের পর তাদের ওষুধ খেতেও যেতে দেওয়া হয়নি। ঘরে বসে মা ও ভাই যন্ত্রণায় কাঁদতেন। মুনের অভিযোগ, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের ভয়ে কেউ কথা বলতে পারেন না।

মা-ছেলেকে হাসপাতালে নিয়ে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রদল নেতা জানান, সোমবার রাতে তারা পালিয়ে তার বাড়িতে আশ্রয় নেন। তাদের শরীরে আঘাতের অসংখ্য চিহ্ন দেখে তিনি প্রথমে ভয় পেয়ে যান। পরে তাদের শারীরিক অবস্থা দেখে ভোররাতে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। বিষয়টি জানাজানি হলে তারও সমস্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান চুন্নু বলেন, ওই ছেলে চুরি করে। তাদের বাড়ি থেকে মানিব্যাগ চুরি করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তার ভাই উপজেলা বিএনপির সদস্য আব্দুল হাই বলেন, ছেলেটি চোর, তাই তাকে চর-থাপ্পড় দেওয়া হয়েছে। তবে তার মাকে কেন মারধর করা হয়েছে— এ প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি তিনি। টাকা পাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, টাকা পাবেন বলেই তাদের জমি চাষ করতে দেওয়া হয়। এ সময় আহত মা-ছেলে কোন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, তা জানতে চান তিনি।

কলাপাড়া হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, মা ও ছেলে দুজনের শরীরেই অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বিষয়টি পুলিশি হওয়ায় তা লিপিবদ্ধ করে রাখা হয়েছে।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। তিনি হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে দেখবেন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
কামালের নামে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা করে ফেঁসে গেলেন নারী 
নেত্রকোনায় মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করে এক ব্যক্তিকে কারাভোগে বাধ্য করার দায়ে লিপি আক্তার (৩৯) নামের এক নারীকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে নেত্রকোনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ কে এম এমদাদুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নুরুল কবির রুবেল রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত লিপি আক্তার আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি জেলার বারহাট্টা উপজেলার বিক্রমশ্রী গ্রামের বাসিন্দা। আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে একই গ্রামের কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন লিপি আক্তার। মামলায় নিজেকে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা দাবি করলে পুলিশ কামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। পরে প্রায় দুই মাস কারাগারে থাকতে হয় তাকে। লিপি আক্তারের সন্তান জন্মের পর শিশুটির পিতৃত্ব নির্ধারণে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে কামাল উদ্দিনকে শিশুটির জৈবিক পিতা হিসেবে শনাক্ত করা হয়নি। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৯ সালে আদালত ধর্ষণের অভিযোগ থেকে কামাল উদ্দিনকে খালাস দেন। এরপর মিথ্যা অভিযোগে মামলা করে তাকে কারাভোগে বাধ্য করার প্রতিকার চেয়ে ২০২০ সালে লিপি আক্তারের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন কামাল উদ্দিন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত লিপি আক্তারকে দোষী সাব্যস্ত করে এ দণ্ডাদেশ দেন। আরটিভি/এসকে
কামালের নামে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা করে ফেঁসে গেলেন নারী 
চার মাস ধরে ছাত্রকে বলাৎকার, প্রধান শিক্ষককে বেধড়ক পিটুনি
সিলেটের গোলাপগঞ্জে এক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
চার মাস ধরে ছাত্রকে বলাৎকার, প্রধান শিক্ষককে বেধড়ক পিটুনি
চুল কাটতে বলায় পরীক্ষার হলে কলম দিয়ে শিক্ষককে রক্তাক্ত করল ছাত্র
চট্টগ্রামের রাউজানে পরীক্ষার হলে চুল লম্বা রাখার কারণ জানতে চেয়ে শাসন করায় এক শিক্ষককে কলম দিয়ে একাধিক আঘাত করে রক্তাক্ত করেছে নবম শ্রেণির এক ছাত্র। আহত শিক্ষককে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁর মাথায় সেলাই দিতে হয়।
চুল কাটতে বলায় পরীক্ষার হলে কলম দিয়ে শিক্ষককে রক্তাক্ত করল ছাত্র
বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধ, প্রাণ গেল একজনের
নওগাঁর মান্দায় বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে শহিদুল ইসলাম (৪২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম ও স্ত্রী সাথী আক্তার আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সাইফুল ইসলামের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে জানা গেছে।
বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধ, প্রাণ গেল একজনের
সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়, কে এই ‘বাংলার কৃষ’
দিনে জীবিকার তাগিদে কাজ করেন এসএস পাইপ মিস্ত্রি হিসেবে। আর অবসর পেলেই মেতে ওঠেন সুপারহিরো হওয়ার স্বপ্ন পূরণের সাধনায়। বোনের পুরোনো বোরকাকে কৃষের পোশাকে রূপ দিয়ে নানা কসরত ও স্টান্ট দেখানোর চেষ্টা করেন তিনি।
সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়, কে এই ‘বাংলার কৃষ’
আরও পড়ুন
শুরু হচ্ছে নিষেধাজ্ঞা, হতাশা নিয়ে ঘাটে ফিরছেন জেলেরা
অত্যাধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিং যন্ত্রে বদলে যাচ্ছে পায়রা বন্দর
এক বাড়িকে সুবিধা দিতে ৪১ লাখ টাকার সেতু!
পটুয়াখালীর চর বিজয় দ্বীপে দেখা মিললো দৃষ্টিনন্দন ভেরডিটার ফ্লাইক্যাচার পাখি