কুষ্টিয়ায় সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় সাপে কামড়ে ১৩ জনকে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরের পর থেকে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে সাপে কাটা ১৩ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। তাদের মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী। হাসপাতালে ভর্তি হওয়াদের প্রায় সবাই পেশায় কৃষক।
আক্রান্তদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কেউ মাঠে কাজ করার সময়, কেউ পাট ধোয়ার সময়, আবার কেউ বাড়ির আশপাশে কিংবা নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে সাপের কামড়ের শিকার হয়েছেন। তবে অধিকাংশই কোন প্রজাতির সাপ কামড়েছে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।
আহতদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর অবস্থায় রয়েছেন ভেড়ামারা উপজেলার কলেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা হারুন। তিনি বিষধর রাসেলস ভাইপারের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের কৃষক রহিবুল মাঠে কাজ করার এবং কুমারখালীর চাপড়া ইউনিয়নের কৃষক শহিদুল ইসলাম পাট ধোয়ার সময় সাপের কামড় খান।
কুমারখালীর বারখাদার মেহেরিনা ও দৌলতপুরের হোসনেয়ারা বাড়ির পাশে সাপের আক্রমণের শিকার হন। দৌলতপুর উপজেলার জুবায়ের নামের এক যুবক মাগরিবের নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে সাপের কামড় খেয়েছেন।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার (মেডিসিন) ডা. মো. মাহফুজুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সাপে কাটা ও বিষধর প্রাণীর আক্রমণে আহত ১৩ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনকে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে বর্তমানে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সাপে কামড়ালে ওঝা বা ঝাড়ফুঁকের ওপর নির্ভর না করে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। সময়মতো চিকিৎসা শুরু হলে রোগী সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
আরটিভি/টিআর




