ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ভাঙনে দিশেহারা তুরাগ নদের দুই পাড়ের বাসিন্দারা 

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

বর্ষায় গাজীপুরের তুরাগ নদের দুই পাড়ে জমত পলিমাটি, উর্বর হতো ফসলি জমি। তবে কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই তুরাগ এখন রূপ নিয়েছে আগ্রাসী নদীতে। বর্ষার প্রবল স্রোতে নদের বাঁকে বাঁকে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। এতে বসতভিটা, আবাদি জমি ও সড়ক হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন পাড়ের বাসিন্দারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বংশাই নদীর অববাহিকা থেকে প্রবাহিত তুরাগ নদের কুতুবদিয়া, নামাশুলাই, গর্জনখালী, কালিয়াদহ, বড়ইবাড়ীসহ অন্তত ১০টি স্থানে দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতঘর, আবাদি জমি ও স্থানীয় সড়ক। নদীর প্রস্থ বাড়তে থাকায় দুই তীরের শতাধিক গ্রামের মানুষ চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক যুগ আগেও তুরাগ নদকে ঘিরেই ছিল এ অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা। বর্ষায় নদের দুই পাড় প্লাবিত হলেও ক্ষতির বদলে বেশি লাভবান হতো বাসিন্দাদের। বর্ষায় নদীর পলিতে জমি উর্বর হতো, শুষ্ক মৌসুমে মিলত প্রচুর দেশীয় মাছ। নদীর স্বচ্ছ পানি ব্যবহার করা হতো সেচের কাজে। তবে অপরিকল্পিত ড্রেজিং এবং শুষ্ক মৌসুমে নদীতীর কেটে মাটি বিক্রির কারণে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে। ফলে বর্ষায় পানির স্রোত বেড়ে গিয়ে তীব্র ভাঙন দেখা দিচ্ছে।

ভুক্তভোগীরা বলেন, ভাঙনের কারণে তাদের বাড়িঘর ও জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে অন্যত্র চলে যেতে হয়েছে। একসময় যেখানে বসতভিটা ছিল, এখন সেখানে শুধু নদীর পানি। দ্রুত ভাঙনরোধে ব্যবস্থা না নিলে পুরো জনপদই নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন

নদী ভাঙণের কবলে পড়া কালিয়াকৈর উপজেলার বড়ইবাড়ী এলাকার বাসিন্দারা বলেন, গত ৩ বছর ধরে বর্ষা এলেই তাদের বসতভিটা নদীতে ভেঙে যাচ্ছে। নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ, কাঠ ও ইট ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করেও কোনো লাভ হয়নি। সরকারি উদ্যোগে কার্যকর ব্যবস্থা নিলে অনেক পরিবার রক্ষা পেত।

গাজীপুর জেলা নদী বাঁচাও আন্দোলনের সদস্য মোতালেব মিয়া বলেন, একসময় যে তুরাগ নদ তার সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত ছিল, এখন তা ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। নদের দুই তীর দ্রুত ভেঙে যাচ্ছে। নদ রক্ষায় দ্রুত পরিকল্পিত ও স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, তুরাগ নদের বিভিন্নস্থানে ভাঙনের বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। নদ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির ২ ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।
ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির ২ ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু
খাল ভরাটে বাধা, ভূমি কর্মকর্তাকে বেধড়ক পিটুনি
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে সরকারি জমি ভরাটে বাধা দেওয়ায় ভূমি কার্যালয়ের কর্মচারীদের মারধর ও হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে।
খাল ভরাটে বাধা, ভূমি কর্মকর্তাকে বেধড়ক পিটুনি
জ্বালানি তেলের দাম কবে কমাবে সরকার, জানালেন প্রতিমন্ত্রী
দেশে সব ধরনের তেলের দাম এক লাফে লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। হঠাৎ এমন অতিরিক্ত দাম বাড়ানোর কারণে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে।
জ্বালানি তেলের দাম কবে কমাবে সরকার, জানালেন প্রতিমন্ত্রী
মেয়াদ ফুরালেও শেষ হলো না সেতুর কাজ
খুলনার পাইকগাছায় শিবসা নদীর ওপর ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ৭৪৮ মিটার দীর্ঘ সেতুটির কাজ শেষ হয়েছে প্রায় ৭৬ শতাংশ। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে মূল চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এ সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হচ্ছে না। প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নির্মাণকাজ শেষ করতে আরও ছয় মাস সময় বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। লক্ষ্য অনুযায়ী চলতি বছরের শেষ নাগাদ সেতুটির কাজ শেষ হতে পারে। তবে সেতুর কাজ এগোলেও নির্মাণসামগ্রী বহনকারী ভারী ট্রাকের চাপে গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি সংযোগ সড়কের অবস্থান নিয়ে স্থানীয়দের একাংশের আপত্তি রয়েছে। লস্কর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করে বলেন, সেতুর নির্মাণসামগ্রী বহনকারী ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে গ্রামীণ সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাইনতলা বাজারের সংযোগ সড়ক সামান্য বৃষ্টিতেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, গিলাবাড়ীর পরিবর্তে গড়ইখালীর সঙ্গে সংযোগ সড়ক হওয়ায় লস্কর ইউনিয়নের অনেক মানুষ সেতুটির প্রত্যাশিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। প্রকাশ সরকার সংশয় নিয়ে বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে মুল ব্রিজের কাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। কারণ সড়কের জন্য জমি অধিগ্রহণ এখনো করা হয়নি। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে ব্রিজ হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণে কত বছর লাগবে সেটাই ভাবছি। লাভলু সানা নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, প্রথমে ব্রিজের সংযোগ সড়কটি খড়িয়া খালপাড় হয়ে বগুড়ারচক দিয়ে গিলাবাড়ি পর্যন্ত হওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু শুধুমাত্র ব্রিজ হচ্ছে। সংযোগ সড়ক হচ্ছেনা। ফলে কয়রা উপজেলায় মানুষ এখন এ ব্রিজের সুবিধা ভোগ করতে পারবে না। এ ছাড়া সেতু নির্মাণের কারণে শিবসা নদীতে পলি জমে নাব্য কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কয়েকজন। এতে ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা বা বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে তাঁদের ধারণা। তবে এ আশঙ্কার পক্ষে কোনো কারিগরি সমীক্ষার তথ্য পাওয়া যায়নি। পাইকগাছা জিসি-লস্কর বাজার, বাইনতলা, বগুড়ারচক, শুড়িখালী, ভান্ডারপোল ও গিলাবাড়ী জিসি সড়কের ২ হাজার ৩০০ মিটার চেইনেজে সেতুটির অবস্থান। লস্কর ও গড়ইখালী ইউনিয়নের লস্কর গ্রামের শিবসা নদীর ওপর নির্মিত সেতুটির দৈর্ঘ্য ৭৪৮ মিটার এবং প্রস্থ ৯ দশমিক ৮ মিটার। ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড (এনডিই) ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু করে। প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, সেতুটির ২৪০টি পাইলের সবগুলোর কাজ শেষ হয়েছে। দুই পাড়ে প্রায় ২ দশমিক ৭১ একর জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। জমি পরিদর্শনের কাজও সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পের প্রায় ৭৬ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। মূল চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা শেষ হচ্ছে না। ফলে চুক্তির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম ও ব্যবসায়ী তেজেন মণ্ডল বলেন, চিকিৎসা ও জরুরি প্রয়োজনে তাঁদের খুলনায় যেতে দীর্ঘ পথ ঘুরতে হয়। শিবসা নদী পারাপারের বর্তমান ব্যবস্থা এবং শিববাটী সেতু হয়ে যাতায়াতের কারণে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ে। নতুন সেতু চালু হলে এ দুর্ভোগ কমবে। ব্যবসায়ী আলীমুজ্জমান বলেন, সেতুটি দ্রুত চালু হলে ঘেরের মাছসহ কৃষি ও ব্যবসাপণ্য সহজে খুলনায় নেওয়া যাবে। এতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যও বাড়বে। পল্লী সড়ক (সিআইবিআরআর) প্রকল্পের আওতায় নির্মিত এ সেতু চালু হলে পাইকগাছার সঙ্গে খুলনা শহরের সরাসরি যোগাযোগ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষও এর সুফল পাবেন। প্রকল্পের ম্যানেজার সাহেব আলী বলেন, সেতুর প্রায় ৭৬ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে চলছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী শাফীন সোহেব ও উপসহকারী প্রকৌশলী সজল বিশ্বাস বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। লস্কর প্রান্তে তিন রাস্তার মোড়ে একটি গোলচত্বর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে যানবাহন চলাচল সহজ হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, সেতুটি চালু হলে একাধিক উপজেলার মানুষের যোগাযোগ সহজ হবে। নির্মাণকাজ শেষ করে দ্রুত সেতুটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার চেষ্টা চলছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সেতুর কাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি নির্মাণকাজে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো সংস্কার করা হবে। একই সঙ্গে সংযোগ সড়কের অবস্থান নিয়ে স্থানীয়দের আপত্তিও বিবেচনায় নেওয়া হবে। তাঁদের মতে, শুধু সেতু নির্মাণ শেষ করলেই হবে না, নিরাপদ ও কার্যকর সংযোগ সড়ক নিশ্চিত হলেই এর সুফল মানুষের কাছে পৌঁছাবে। আরটিভি/এমএইচজে
মেয়াদ ফুরালেও শেষ হলো না সেতুর কাজ
৭১-এর পরাজিত শক্তিরা এখন ভারতের সাথে হাত মিলিয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, ৭১-এর পরাজিত শক্তিরা এখন ভারতের সাথে হাত মিলিয়েছে, যারা দেশের মানুষকে গুম, খুন করেছে সেই ফ্যাসিস্টদের সাথেও তারা হাত মিলিয়েছে।
৭১-এর পরাজিত শক্তিরা এখন ভারতের সাথে হাত মিলিয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
আরও পড়ুন
বর্ষা শেষ, তবুও থামেনি পদ্মার ভাঙন
ভুল মানুষ, তবুও বারবার প্রাক্তনকে মনে পড়ে কেন
নড়াইলে ৩ নদীর ভাঙনে বিলীন জনপদ, পরিদর্শনে এমপির আশ্বাস
কানাডায় জরুরি অবস্থা, দুই শহর থেকে বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ