ভাঙনে দিশেহারা তুরাগ নদের দুই পাড়ের বাসিন্দারা 

আরটিভি নিউজ

শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬ , ০৩:৪১ পিএম


ভাঙনে দিশেহারা তুরাগ নদের দুই পাড়ের বাসিন্দারা 
ছবি: সংগৃহীত

বর্ষায় গাজীপুরের তুরাগ নদের দুই পাড়ে জমত পলিমাটি, উর্বর হতো ফসলি জমি। তবে কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই তুরাগ এখন রূপ নিয়েছে আগ্রাসী নদীতে। বর্ষার প্রবল স্রোতে নদের বাঁকে বাঁকে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। এতে বসতভিটা, আবাদি জমি ও সড়ক হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন পাড়ের বাসিন্দারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বংশাই নদীর অববাহিকা থেকে প্রবাহিত তুরাগ নদের কুতুবদিয়া, নামাশুলাই, গর্জনখালী, কালিয়াদহ, বড়ইবাড়ীসহ অন্তত ১০টি স্থানে দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতঘর, আবাদি জমি ও স্থানীয় সড়ক। নদীর প্রস্থ বাড়তে থাকায় দুই তীরের শতাধিক গ্রামের মানুষ চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক যুগ আগেও তুরাগ নদকে ঘিরেই ছিল এ অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা। বর্ষায় নদের দুই পাড় প্লাবিত হলেও ক্ষতির বদলে বেশি লাভবান হতো বাসিন্দাদের। বর্ষায় নদীর পলিতে জমি উর্বর হতো, শুষ্ক মৌসুমে মিলত প্রচুর দেশীয় মাছ। নদীর স্বচ্ছ পানি ব্যবহার করা হতো সেচের কাজে। তবে অপরিকল্পিত ড্রেজিং এবং শুষ্ক মৌসুমে নদীতীর কেটে মাটি বিক্রির কারণে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে। ফলে বর্ষায় পানির স্রোত বেড়ে গিয়ে তীব্র ভাঙন দেখা দিচ্ছে।

ভুক্তভোগীরা বলেন, ভাঙনের কারণে তাদের বাড়িঘর ও জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে অন্যত্র চলে যেতে হয়েছে। একসময় যেখানে বসতভিটা ছিল, এখন সেখানে শুধু নদীর পানি। দ্রুত ভাঙনরোধে ব্যবস্থা না নিলে পুরো জনপদই নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন

নদী ভাঙণের কবলে পড়া কালিয়াকৈর উপজেলার বড়ইবাড়ী এলাকার বাসিন্দারা বলেন, গত ৩ বছর ধরে বর্ষা এলেই তাদের বসতভিটা নদীতে ভেঙে যাচ্ছে। নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ, কাঠ ও ইট ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করেও কোনো লাভ হয়নি। সরকারি উদ্যোগে কার্যকর ব্যবস্থা নিলে অনেক পরিবার রক্ষা পেত।

গাজীপুর জেলা নদী বাঁচাও আন্দোলনের সদস্য মোতালেব মিয়া বলেন, একসময় যে তুরাগ নদ তার সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত ছিল, এখন তা ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। নদের দুই তীর দ্রুত ভেঙে যাচ্ছে। নদ রক্ষায় দ্রুত পরিকল্পিত ও স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, তুরাগ নদের বিভিন্নস্থানে ভাঙনের বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। নদ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission