গাজীপুরের কালিয়াকৈরে আকর্ষণীয় সুযোগ বা সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইলিং ও অর্থ আদায়ের অভিযোগে ‘হানিট্র্যাপ’ চক্রের দুই নারী ও এক পুলিশ সদস্যসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত ৯টার দিকে উপজেলার বিশ্বাস পাড়া এলাকা থেকে তাদের আটক করে শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে গাজীপুর জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আটক নারী সদস্য সুমু আক্তার, পাপিয়া ও তার স্বামী সজীব (পুলিশ সদস্য) দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন উপায়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে পরবর্তীতে ফাঁদ পেতে নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে জিম্মি করতেন। এরপর তাদের গোপন ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হতো।
তাদের ফাঁদে পা দেন সায়মন নামে এক যুবক। পাপিয়ার সঙ্গে তার ফেসবুকে পরিচয় হয়। এরপর চলে প্রেমের নাটক। এ সুযোগে ওই যুবকের কাছে থেকে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিতেন পাপিয়া। পরে শুক্রবার রাত ৭টার দিকে সায়মনকে ফোনে ডেকে নেন ওই নারী। পরে সায়মন উপজেলার বিশ্বাসপাড়া এলাকায় মদিনা নামে এক ভবনের ৭তম তলায় ওই নারীর কক্ষে ঢুকলে ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়ে পাপিয়া ও তার স্বামী সজীব মিলে মারধর শুরু করেন। পরে ওই যুবক কক্ষের ভেতর থেকে বেলকুনিতে গিয়ে দরজা বন্ধ করে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করতে থাকেন। এ সময় চিৎকারের শব্দ পেয়ে আশেপাশে লোকজন গেলে পাপিয়ার স্বামী ওই যুবকের নামে স্ত্রীকে হেনস্তার অভিযোগ তোলে। এতে জনতা খেপে যায়। পরে পাপিয়ার স্বামী ৯৯৯-এ ফোন দিলে স্থানীয় থানা পুলিশ গিয়ে দুই নারী ও দুই যুবককে আটক করে। এ সময় পাপিয়ার স্বামী সজীবের কাছ থেকে একটি পুলিশের হ্যান্ডকাফ ও একটি কটি উদ্ধার করে।
আটকের পর তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন তল্লাশি করে একাধিক চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ এবং আপত্তিকর বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানায় পুলিশ।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, আটকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আরটিভি/এমএইচজে




