
নীলফামারীর সৈয়দপুরে ৬ দফা দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে শহরের দিনাজপুর রোডে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির সৈয়দপুর শাখার সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ব্যাংকের বিনিয়োগকারী ও সাধারণ গ্রাহকরা অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তব্য দেন ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান, সদস্য রেজওয়ান হাসান, আবুল কালাম, আব্দুস সালামসহ অন্যরা।
সমাবেশে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের পক্ষ থেকে বক্তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংক দেশের মানুষের আস্থার প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতেসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এ সময় তারা ইসলামী ব্যাংকের প্রশাসক মোহাম্মদ জহির হোসেনের পদত্যাগ দাবি করেন।
ফোরামের নেতারা আরও বলেন, এস আলম শেয়ার ও পাচারকৃত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে হবে। মূল উদ্যোক্তাদের কাছে ব্যাংকের মালিকানা হস্তান্তর এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। এ সময় তারা সৎ, যোগ্য, অভিজ্ঞ ও পেশাদার ব্যক্তিদের নিয়ে দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর পরিচালনা পর্ষদ গঠনে বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষার দাবি জানিয়ে তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের আমানত ও আর্থিক নিরাপত্তা জড়িত। তাই ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম শক্তিশালী করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
তাদের দাবিগুলো হলো:
১. চেয়ারম্যানের অপসারণ: অপেশাদার, ব্যর্থ ও এস আলম চক্রের সুবিধাভোগী বর্তমান চেয়ারম্যান জহির হোসেনকে অনতিবিলম্বে পদত্যাগ/অপসারণ করতে হবে।
২. স্বতন্ত্র ও পূর্ণাঙ্গ বোর্ড গঠন: ইসলামী অর্থনীতি ও ব্যাংকিংয়ে দক্ষ, যোগ্য, সৎ ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে অবিলম্বে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ (Board of Directors) গঠন করতে হবে।
৩. প্রকৃত মালিকানা ও শেয়ার বাজেয়াপ্তকরণ: এস আলমের অবৈধভাবে অর্জিত ৮২শতাংশ শেয়ার ও পাচারকৃত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ব্যাংকের দায় শোধ করতে হবে এবং মূল উদ্যোক্তা/আদি মালিকদের কাছে ব্যাংকের মালিকানা হস্তান্তরের ব্যবস্থা করতে হবে।
৪. চুক্তি নবায়ন ও স্থায়িত্ব: ব্যাংকের পরিচালনা বজায় রাখতে আগামী দুই বছর কোনো ঊর্ধ্বতন নির্বাহীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি প্রদান করা যাবে না এবং অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিক মেয়াদ নবায়ন করতে হবে।
৫. দালাল চক্রের বহিষ্কার: ব্যাংকের অভ্যন্তরে সক্রিয় এস আলমের চিহ্নিত দালাল ও সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের অবিলম্বে শনাক্ত করে ব্যাংক থেকে বহিষ্কার করতে হবে।
৬. বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ও আইনি ব্যবস্থা: ব্যাংক লুটেরাদের বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে পাচারকৃত অর্থ উদ্ধার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
আরটিভি/এমএইচজে




