ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

বান্দরবানে কেএনএফের অস্থিরতা কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চায় তিন সম্প্রদায়

বান্দরবান প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৬, ১১:৪০ এএম
ছবি: আরটিভি

বান্দরবানে সশস্ত্র সংগঠন কুকি চীন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) অস্থিরতা কাটিয়ে পাহাড়ে দুর্গম এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। কেএনএফের উৎপাতে ও আতঙ্কে ঘরছাড়া সাধারণ পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে স্থায়ী শান্তি, সম্প্রীতি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সব ধরনের মানবিক সহায়তা ও প্রত্যাবর্তন অব্যাহত রেখেছে।

ভারতের মিজোরামসহ অন্যত্রে আশ্রয় নেওয়া বম, ত্রিপুরা ও ম্রো জনগোষ্ঠী তাদের নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে ফিরে এসেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় গ্রামে ফিরে এসেছে ২২১টি পরিবারের ৫৩১ লোকজন।

এছাড়ও সশস্ত্র সংগঠন কেএনএফের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়া বেশ কয়েকজন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসে আত্মসমর্পণ করেছেন। তবে পরিবহন সংকট এবং বিভিন্ন সময়ে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতার কারণে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে।

এ প্রেক্ষাপটে ২৪ পদাতিক ডিভিশন এবং ৬৯ পদাতিক ব্রিগেড তথা বান্দরবান রিজিয়ন এর সরাসরি তৎপরতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের আস্থা, সম্প্রীতি ও টেকসই আর্থসামাজিক উন্নয়নে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে পাতা পাড়া, কাইতন পাড়া ও বাকলাই পাড়াসহ বেশ কিছু পাড়ার স্থানীয় বম, ম্রো ও ত্রিপুরাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কেএনএফ এর কারণে অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছে গ্রামবাসীর লোকজন। সুন্দর ভাবে বসবাস করতে পারি কেএনএফ এর কারণে। পাড়ার ছেলে মেয়েরা লেখাপড়া করতে ভয়ে বাসা থেকে বের হতো না। ভয়ে অনেক পরিবার উপজেলা, জেলা শহরে বসবাস করছে পরিবার পরিজন নিয়ে।
ছেলে-মেয়েরদেরকে কেএনএফে যোগদান করার জন্য পরিবারের প্রতি চাপসৃষ্টি করেছে। কিন্তু তাদের কথা মতে রাজি না হলে শুরু হতো নির্যাতন।

পাড়াবাসী আরও বলেন, গ্রামে গ্রামে এসে তাদের কথা মতে চলাফেরা না করলে গরু, ছাগল, মুরগিসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যেতো। আমাদের পরিবারের উপর কেএনএফ সদস্যরা অনেক নির্যাতন চালিয়েছে। বর্তমানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং ক্যাম্প স্থাপনের কারণে তাদের ছেলে-মেয়েরদের লেখাপড়ার পাশা-পাশি শান্তি বসবাস করছে, এমনটাই জানালেন পাহাড়ি পরিবারের ভুক্তভোগীরা।

অপরদিকে বম স্যোশাল কাউন্সিলের সংগঠনের সভাপতি লালজার লম বম বলেন, পাহাড়ে অস্থিরতায় দুর্গম এলাকার অনেকগুলো পাড়া গ্রাম একসময় জনশূন্য হয়ে পড়ে ছিল। সন্ত্রাসী তৎপরতায় আতঙ্কিত হয়ে লোকজন গ্রাম ছেড়ে পাশে রাষ্ট্র মিজোরামে পালিয়ে গিয়েছেছিল। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় তারা পুনরায় গ্রামে ফিরে আসছে। তবে আর কোনো বম, বা অন্য সম্প্রদায়ের লোকজন যেন ভয়ে পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রে না যাওয়ার আহ্বান জানান।

বান্দরবান রিজিয়ানের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের আইন কানুন যারা মেনে চলবে না এবং বাংলাদেশের জন্য যারা হুমকি স্বরূপ তাদেরকে ধরতেই হবে। তবে পাড়াবাসী যারা রয়েছে তারা স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করেন। নিরাপত্তা বাহিনী আপনাদের পাশে রয়েছে। পার্বত্য অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি, সম্প্রীতি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বদা সাধারণ জনগণের পাশে থেকে এই ধরনের মানবিক সহায়তা ও প্রত্যাবর্তন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

সেনা এই কর্মকর্তা আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়, একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সেই সমন্বিত লক্ষ্য সামনে রেখে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাসী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি শান্তি, সম্প্রীতি এবং উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আরও পড়ুন

প্রসঙ্গত, সেনাবাহিনী জানায়, ২০২০ সালে কুকি-চিন সন্ত্রাসী তৎপরতার সময় ভারতে মিজোরামে আশ্রয় নেওয়ার পর দেশে ফিরে আসা ছয়টি বমপাড়া, একটি ত্রিপুরাপাড়া ও পাঁচটি ম্রোপাড়াসহ মোট ১২টি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ও পরিবহন সংকট নিরসনে এ উদ্যোগ দুইটি চাঁদের গাড়ি দেওয়া হয়েছে।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সীমান্তে লুকানো ছিল বিপুল ভারতীয় মোবাইল, ঘটনা কী
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলা সীমান্ত এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় অবৈধ মোবাইল ফোন জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। জব্দ করা মোবাইল ফোনের সংখ্যা পাঁচ হাজার পাঁচটি। এসব মোবাইল ফোনের আনুমানিক মূল্য প্রায় চার কোটি ৮০ হাজার টাকা। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় সরাইল ব্যাটালিয়ন (২৫ বিজিবি)। বেলা ১২টায় ২৫ বিজিবির প্রধান কার্যালয়ে অধিনায়ক লে. কর্ণেল জাব্বাব আহমেদ এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।  বিজিবি জানায়, মহাপরিচালক, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-এর নির্দেশনা অনুযায়ী সীমান্তের নিরাপত্তা ও চোরাচালান প্রতিরোধে সরাইল ব্যাটালিয়নের (২৫ বিজিবি) সদস্যরা নিয়মিতভাবে অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২৫ সেপ্টেম্বর আনুমানিক রাত ১টা ৪০ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সরাইল ব্যাটালিয়নের একটি টহল দল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার কামালমোড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।  এ সময় সীমান্ত পিলার-২০০৮/১-এস থেকে আনুমানিক ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় অবৈধ মোবাইল ফোন ডিসপ্লের একটি চালান আটক করা হয়। বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্ত এলাকায় কর্দমাক্ত অবস্থানের সুযোগ নিয়ে জঙ্গলের মধ্যে অভিনব কৌশলে লুকিয়ে রাখা মালিকবিহীন ভারতীয় অবৈধ মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে উদ্ধার করা হয়। অভিযানে মোট ৫ হাজার ৫টি মোবাইল ফোন জব্দ করতে সক্ষম হয় বিজিবি। চার কোটি ৮০ হাজার টাকার এসব চোরাচালান মালামাল আখাউড়া কাস্টমস অফিসে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বিজিবি আরও জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর ও আখাউড়া এবং হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে তাদের অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ চোরাচালানি মালামাল আটক করা হচ্ছে। আরটিভি/এসএস
সীমান্তে লুকানো ছিল বিপুল ভারতীয় মোবাইল, ঘটনা কী
পথ ভুলে নেটওয়ার্কের বাইরে দুই পর্যটক, উদ্ধারে ৬ ঘণ্টার অভিযান
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঝরঝরি ঝর্ণায় ঘুরতে গিয়ে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পথ হারায় দুই পর্যটক। পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে তাদেরকে জীবিত উদ্ধার করেছে সীতাকুণ্ড থানা-পুলিশ। 
পথ ভুলে নেটওয়ার্কের বাইরে দুই পর্যটক, উদ্ধারে ৬ ঘণ্টার অভিযান
মসজিদের জায়গা নিয়ে সংঘর্ষ, নারীসহ ৯ জন হাসপাতালে
বগুড়ার ধুনটে মসজিদের জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন।
মসজিদের জায়গা নিয়ে সংঘর্ষ, নারীসহ ৯ জন হাসপাতালে
গ্রিড উপকেন্দ্রে ব্রেকার বিস্ফোরণ, বিদ্যুৎ বিপর্যয়
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের চৌমুহনী গ্রিড উপকেন্দ্রে ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের সোর্স ব্রেকারে বিস্ফোরণের ঘটনায় জেলা শহর মাইজদী ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বিকল হয়ে পড়া ব্রেকারটি মেরামত না হওয়া পর্যন্ত রোটেশন ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।
গ্রিড উপকেন্দ্রে ব্রেকার বিস্ফোরণ, বিদ্যুৎ বিপর্যয়
ঝিনাইদহে ট্রেন কাটা পড়ে দুই পা বিচ্ছিন্ন সেই নারীর মৃত্যু
ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনে ট্রেনে ওঠার সময় পা পিচলে পড়ে দুই পা হারিয়েছেন রাবেয়া খাতুন (৩৭) নামে এক যাত্রী মারা গেছে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত হয়েছেন। রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামি কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসের যাত্রী ছিলেন ওই নারী।   শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে স্টেশন থেকে বিরতীর পর যাত্রা শুরু করলে ওই নারী ট্রেনে উঠতে যান। এসময় অসাবধনতায় পা পিচলে নীচে পড়েন। প্লাটফর্ম থেকে নীচে পড়ে গেলে তার দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এছাড়া তার একটি হাত ও শরীরের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাবেয়া খাতুন, রাজধানী ঢাকার খিলক্ষেত জোয়ার সাহারা এলাকার ইকবাল হোসেনের মেয়ে।  মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনের মাস্টার নয়ন খন্দকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে ওই নারীকে হাসপাতালে নেয়। তার অবস্থা আশংকাজনক হওয়া যশোর সদর হাসপাতালে  রেফার করা হয যশোর সদর হাসপাতাল নেওয়ার পথে চুডা মন কাঠি  নামক স্থানে পৌঁছালে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ অ্যাম্বুলেন্স ভিতর মারা যান লাশ কালিগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মর্গে রাখা হয়েছে। আরটিভি/এসকে
ঝিনাইদহে ট্রেন কাটা পড়ে দুই পা বিচ্ছিন্ন সেই নারীর মৃত্যু
আরও পড়ুন
বান্দরবানে কমছে জুমের আবাদ, বাড়ছে মিশ্র ফলের চাষ
রুমা ও রোয়াংছড়িতে উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্ধোধন করলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মাম্যাচিং
প্রায় দুই বছর পর মাতৃভূমিতে ফিরলেন ১৮ বম সদস্য
কিশোরীকে গর্ভপাত করানোর পর মিলল ‘ভয়ংকর সত্য’