
নাটোরকে বলা হয় উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার। আর নাটোর জেলা শহর থেকে উত্তরবঙ্গে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের নাটোর অংশে একাধিক স্থানে সড়ক ধসে পড়েছে। একই সঙ্গে সড়কের বেশ কিছু অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে।
জেলার সিংড়া উপজেলার চৌগ্রাম এলাকায় গেলে সড়কের এমন বেহাল অবস্থা চোখে পড়ে। এতে মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহন ও যাত্রীদের মধ্যে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে বগুড়া, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, কুড়িগ্রাম, পঞ্চগড়, রাজশাহী, নওগাঁসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার হাজার হাজার যানবাহন প্রতিদিন চলাচল করে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের সিংড়া উপজেলার চৌগ্রাম এলাকার প্রায় ১৫টি স্থানে সড়কের কিনারায় ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও বালুর বস্তা ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কোনো কোনো স্থানে সড়কের পোল উল্টে পড়ে আছে। এই অবস্থায় যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
সড়ক ও জনপদ বিভাগ জানায়, ২০২১-২২ অর্থ বছরে নাটোর থেকে বগুড়া মহাসড়কের প্রশস্তকরণের কাজ শুরু করে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। এরই অংশ হিসেবে সিংড়া উপজেলার শেরকোল থেকে চৌগ্রাম পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার রাস্তা ফোরলেনের কাজ এ বছরই শেষ করে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। তবে নিংগইন ও হাইটেক পার্ক এলাকায় এখনো ২টি ব্রিজের কাজ চলমান রয়েছে। কয়েকটি প্যাকেজে সাজানো হয়েছে কাজগুলো। রাস্তার দু’ধারে মাটি ফেলা, সড়ক প্রশস্ত, ব্রিজ নির্মাণ এসব প্যাকেজে ছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দায়সারা কাজ ও অনিয়মের কারণে নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের উন্নয়নকাজ শেষ হওয়ার পরপরই চৌগ্রাম এলাকার কয়েকটি স্থানে সড়কের পাশে ধস দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও পিচের স্তর ভেঙে মাটি ও পাথর সরে গেছে। দ্রুত এ বিষয়ে তদন্তের পাশাপাশি সড়কের সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
নাটোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আজহারুল ইসলাম জানান, নাটোরে দায়িত্ব পেয়েছি অল্প কিছুদিন হলো। সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো দ্রুত পরিদর্শন করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরটিভি/এসএস




