পাবনায় কাঁচামরিচের দাম আকাশছোঁয়া

পাবনা (উত্তর) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬ , ০৩:১৩ পিএম


পাবনায় কাঁচামরিচের দাম আকাশছোঁয়া
ছবি: আরটিভি

বর্ষাকালের টানা বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে পাবনার কাঁচাবাজারে। সরবরাহ কম থাকায় বেড়েছে বেশির ভাগ সবজির দাম। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচামরিচের দাম আকাশছোঁয়া পর্যায়ে পৌঁছেছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকায়। কাঁচামরিচের অস্বাভাবিক দামে বিপাকে পড়েছেন সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। তবে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা। এছাড়া বেগুন, পটল, পটোলা (স্থানীয়ভাবে পোল্লা), ঝিঙে, করলা, শশাসহ অধিকাংশ সবজির দামও বেড়েছে। এ অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে কাঁচামরিচের দাম নিয়ন্ত্রণে বিদেশ থেকে আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

পাবনার বড়বাজার, মাসুম বাজার, দাশুড়িয়া বাজার, বেড়া সিঅ্যান্ডবি চত্বর বাজার, সাঁথিয়া বাজার ও কাশীনাথপুর বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সব ধরনের সবজির দামই বেড়েছে। এসব বাজারে কাঁচামরিচ ২৮০-৩৫০ টাকা, পেঁয়াজ ৫০-৫৫ টাকা, শশা ৫০-৬০ টাকা, আলু ২৫-৩০ টাকা, বেগুন ৮০-১০০ টাকা, পটল ৬০-৭০ টাকা, করলা ৮০-১০০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০-৭০ টাকা, ঝিঙে ৬০-৭০ টাকা, মুখিকচু ৬০-৭০ টাকা, মুলা ৬০-৮০ টাকা, টমেটো ১২০-১৫০ টাকা এবং আগাম জাতের শিম ২৫০-৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লাউ প্রতিটি ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৬০ টাকা এবং চালকুমড়া প্রতিটি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে আলু, পেঁপে ও পোল্লার দাম তুলনামূলক কম থাকায় কিছুটা স্বস্তি রয়েছে ক্রেতাদের মধ্যে।

জানা গেছে, আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসের ভারী বর্ষণে পাবনার অধিকাংশ আবাদি জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে কৃষিপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির পানিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় বেগুন, মরিচ, পটলসহ বিভিন্ন সবজির গাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারে।

দাশুড়িয়া এলাকার ফটোস্ট্যাট ও স্টুডিও ব্যবসায়ী তুহিন বলেন, মরিচসহ অন্যান্য তরকারির দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে। এক হাজার টাকা নিয়ে বাজারে গেলেও চার থেকে পাঁচ সদস্যের পরিবারের এক সপ্তাহের কাঁচাবাজার (সয়াবিন তেলসহ) হয় না। এভাবে চলতে থাকলে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে।

আতাইকুলা এলাকার কৃষক ইকবাল হোসেন বলেন, বাজার করতে গিয়ে কাঁচা তরিতরকারির দাম দেখে হতবাক হয়ে গেছি। কাঁচামরিচ না কিনেই ফিরে এসেছি। এভাবে চলতে থাকলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।

আরও পড়ুন

নাকালিয়া নয়নপুর এলাকার গৃহবধূ জেসমিন আক্তার বলেন, আমরা নিম্ন আয়ের মানুষ। দিনমজুরির আয়ে সংসার চলে। ৭০-৮০ টাকার এক পোয়া কাঁচামরিচ কেনার সামর্থ্য আমাদের নেই। বাধ্য হয়ে মরিচ ছাড়া তরকারি রান্না করে খাচ্ছি।

পাবনার মাসুম বাজারের এক কাঁচামাল ব্যবসায়ী বলেন, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে। দাম বাড়ায় ক্রেতার সংখ্যাও কমে গেছে। আমরা অন্য এলাকা থেকে পণ্য কিনে এনে বিক্রি করি। বিক্রি কম হওয়ায় অনেক কাঁচামাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্কুলশিক্ষক বলেন, আমাদের সীমিত বেতনের চাকরি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের স্বার্থে দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

পাবনা জেলার বিভিন্ন এলাকার সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, বৈরী আবহাওয়া, টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা এবং কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর অতিরিক্ত মুনাফার প্রবণতার কারণে সবজির বাজারে ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নিয়মিত বাজার তদারকি জোরদার করা জরুরি।

এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, পাবনার সহকারী পরিচালক মাহমুদ হাসান রনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও সবজির বাজারদর নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত বাজার তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এ কাজে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission