ঢাকা রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রভাষক সেজে এইচএসসির খাতা দেখছিলেন অফিস সহকারী, এরপর যা হলো

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:০১ পিএম
জয়ন্ত দত্ত। ছবি: সংগৃহীত

পদ কলেজের অফিস সহকারী। পরিচয় দেন প্রভাষক। তবে বৈধ পরীক্ষক হিসেবে চার বছর ধরে পাবলিক পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করে যাচ্ছেন। যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষক হিসেবে কাজ করার বিষয়টি ধরতে পেরে এখন ব্যবস্থা নিচ্ছে শিক্ষা বোর্ড।

ঘটনাটি সিলেট শহরের শিবগঞ্জ এলাকার গ্রিনহিল স্টেট কলেজের। কলেজটির অফিস সহকারী জয়ন্ত দত্ত চলতি বছর চতুর্থবারের মতো উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার পরীক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এবার বাংলা প্রথম পত্রের ৫৫৪ জন পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র মূল্যায়ন করে সিলেট শিক্ষা বোর্ডে জমা দিয়েছেন তিনি। তাকে পরীক্ষক হিসেবে সুপারিশ করায় মঙ্গলবার (৪ জুলাই) কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সীতেশ রঞ্জন বর্মনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে শিক্ষা বোর্ড।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর শেষ কর্মদিবস ছিল মঙ্গলবার। তিনি বলেন, পরীক্ষক হতে শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ নির্ধারিত সব শর্ত পূরণ করতে হয়। এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে তা গুরুতর অপরাধ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত গ্রিনহিল স্টেট কলেজে ২০১১ সালে পাঠদান শুরু হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই জয়ন্ত দত্ত অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত। তিনি সিলেটের মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজ থেকে স্নাতক পাস কোর্স শেষ করে ২০১৯ সালে বাংলা বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

পরীক্ষক হওয়ার বিষয়ে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনায় বলা আছে, যে শিক্ষক যে বিষয়ে পাঠদান করেন, কেবল সেই বিষয়েই পরীক্ষক হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। কলেজ পর্যায়ে পরীক্ষক হতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে।

কলেজটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জয়ন্ত দত্ত অফিস সহকারী পদেই আছেন। তিনি পাস কোর্সে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। অর্থাৎ নিয়ম অনুযায়ী প্রভাষক হওয়ারও সুযোগ নেই তার।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জয়ন্ত দত্ত বলেন, কলেজের শুরু থেকেই আছেন তিনি। ২০১৯ সালে বাংলায় স্নাতকোত্তর পাস করার পর কলেজে শিক্ষক প্রয়োজন হলে তিনি বাংলা বিষয়ে পড়ানো শুরু করেন। প্রভাষক হিসেবে নিয়োগপত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিয়োগপত্র কলেজের প্রয়াত অধ্যক্ষ প্রশান্ত কুমার সাহার কাছে রাখা ছিল। তিনি মারা যাওয়ায় এখন খুঁজে দেখতে হবে, কোথায় নিয়োগপত্রটি আছে। এর বাইরে তার কাছে ওই নিয়োগপত্রের কোনো অনুলিপি সংরক্ষিত নেই বলেও তিনি জানিয়েছেন।

শিক্ষক হিসেবে জয়ন্ত দত্তের নিয়োগপত্রের অনুলিপি নিজের কাছে নেই বলে জানান কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সীতেশ রঞ্জন বর্মন। এটি কলেজ পরিচালনা পর্ষদের কাছে আছে বলে জানান তিনি। তবে কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সমন্বয়ক দিগ্‌বিজয় চক্রবর্তী জানান, তার কাছে নেই। এটি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কাছে সংরক্ষিত আছে।

যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও জয়ন্ত দত্ত কীভাবে পরীক্ষক হলেন—এ প্রশ্নের উত্তরে একাধিক ব্যক্তি জানান, বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী জয়ন্ত দত্ত অনলাইনে আবেদন করেন এবং কলেজ কর্তৃপক্ষ সেটি অনুমোদন দিয়ে বোর্ডে পাঠায়। কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সমন্বয়ক ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রকৃত তথ্য গোপন করে তাকে পরীক্ষক হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

পরীক্ষকের আবেদন অনুমোদনের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সীতেশ রঞ্জন বর্মন বলেন, তিনি কোনো অনুমোদন দেননি। এটি করেছেন কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সমন্বয়ক দিগ্‌বিজয় চক্রবর্তী। আর দিগ্‌বিজয় চক্রবর্তী বলেন, অনুমোদন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষই দিয়েছেন।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সীমান্তে অজ্ঞাত শিশুর মরদেহ উদ্ধার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্তের শূন্যরেখায় অজ্ঞাত পরিচয়ের এক শিশুর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে।  শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর সীমান্তের ভারতীয় অংশের লংকা মোড়া এলাকায় মরদেহটি দেখতে পান স্থানীয়রা। স্থানীয়রা জানান, সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে শিশুটির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে তারা বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানান। তবে শিশুটির পরিচয় কিংবা কীভাবে সেখানে মরদেহটি এসেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম জানান, শিশুটির পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। পরিচয় শনাক্তের জন্য পুলিশের পাশাপাশি বিজিবিও চেষ্টা করছে। সরাইল ব্যাটালিয়ন (২৫ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল জাব্বার আহমেদ জানান, কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে রহস্য উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা চলছে। আরটিভি/টিআর
সীমান্তে অজ্ঞাত শিশুর মরদেহ উদ্ধার
মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে ককটেল বিস্ফোরণ
মানিকগঞ্জের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ওভারব্রিজের নিচে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে কেউ হতাহত না হলেও বাসস্ট্যান্ড এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে ককটেল বিস্ফোরণ
অপ্রতীমের জানাজা আগামীকাল সকাল ১০টায়
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে নিহত কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের জানাজার নামাজ আগামীকাল রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের মাঠে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম।
অপ্রতীমের জানাজা আগামীকাল সকাল ১০টায়
সীমান্তে হেরোইনসহ আটক ২
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯ গ্রাম হেরোইনসহ দুইজনকে আটক করেছে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটক দুজনকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোনামসজিদ বিওপির একটি বিশেষ টহল দল ডগ স্কোয়াডসহ এ অভিযান পরিচালনা করে। বিজিবি জানায়, সীমান্ত মেইন পিলার-১৮৪ থেকে আনুমানিক ৭ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট ইউনিয়নের কানসাট গ্রামের মধ্যবাজারের পাকা সড়কে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ৯ গ্রাম হেরোইনসহ মো. আতাউর রহমান (৫০) ও মো. নুরুল ইসলাম বাবু (৪২) নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তাদের বাড়ি শিবগঞ্জ উপজেলার রসুলপুর গ্রামে। আটকের পর তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যেককে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন। একই সঙ্গে জব্দ করা হেরোইন ধ্বংস করা হয়। মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, এসজিপি, বিএফএম, পিএসসি অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশের যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে কাজ করছে। পাশাপাশি সীমান্তে সব ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে। আরটিভি/টিআর
সীমান্তে হেরোইনসহ আটক ২
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ অভিযানে গোলাম মাওলা (৫০) নামে পৌর আওয়ামী লীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।  শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে পৌর এলাকার শাহপুর গ্রামে তার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার গোলাম মাওলা কসবা পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি শাহপুর গ্রামের মৃত আফিল উদ্দিনের ছেলে এবং কসবা পৌরসভার সাবেক মেয়র গোলাম হাক্কানীর ছোট ভাই। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দায়ের করা একটি মামলায় গোলাম মাওলা তালিকাভুক্ত আসামি। সরকার পতনের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। সম্প্রতি তিনি নিজ বাড়িতে ফিরেছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে শাহপুর গ্রামে তার বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। পরে সেখান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এর তালিকাভুক্ত কসবা পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মাওলাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে শনিবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। আরটিভি/টিআর
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার
আরও পড়ুন
বিজিবিতে বিশাল নিয়োগ, এইচএসসি পাশেই আবেদন
এসএসসি-এইচএসসি ২০২৭: ঢাকা বোর্ডের জরুরি নির্দেশনা
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে চাকরি, এইচএসসি পাসেও আবেদনের সুযোগ 
নেতাকে পরীক্ষার ফরম পূরণের টাকা দিল শিক্ষার্থী, অতঃপর...