ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

মাদক কারবারির বাড়িতে পুলিশের দেহ তল্লাশি, যা জানা গেল

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম
সম্প্রতি এক মাদক কারবারির বাড়িতে অভিযানকালে পুলিশ সদস্যদের দেহ তল্লাশির একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ছবি: সংগৃহীত

মেহেরপুরের গাংনীতে এক মাদক কারবারির বাড়িতে অভিযানকালে পুলিশ সদস্যদের দেহ তল্লাশির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে ইতোমধ্যে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি গত ৪ আগস্ট বিকেলে গাংনী উপজেলার কাজীপুর ইউনিয়নে পরিচালিত মাদকবিরোধী যৌথ অভিযানের। ভিডিওতে দেখা যায়, মাদক কারবারির বাড়িতে ঢোকার আগে উপস্থিত এক গণমাধ্যমকর্মীকে দিয়ে পুলিশ সদস্যদের দেহ তল্লাশি করা হচ্ছে। এরপর পুলিশ সদস্যরা অভিযানের অংশ হিসেবে ওই বাড়িতে প্রবেশ করেন। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

তীব্র বিতর্কের মুখে ঘটনা প্রসঙ্গে গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই অভিযানের আগে পুলিশ সদস্যদের দেহ তল্লাশি করা হয়। যাতে পরবর্তীতে কেউ অভিযোগ করতে না পারে যে পুলিশ নিজেরা কোনো আলামত নিয়ে গিয়ে উদ্ধার দেখিয়েছে বা কাউকে ফাঁসিয়েছে।

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, পুলিশ রেজুলেশনস অব বেঙ্গল (পিআরবি)-এর ২৮০ বিধির ‘ডি’ উপবিধি অনুযায়ী, তল্লাশি শুরুর আগে তল্লাশি পরিচালনাকারী পুলিশ কর্মকর্তা, উপস্থিত সাক্ষী এবং সংবাদদাতার দেহ তল্লাশি করার বিধান রয়েছে। এই তল্লাশি সাক্ষীদের পাশাপাশি যার বাড়ি বা স্থানে তল্লাশি চালানো হবে, তার বা তার প্রতিনিধির উপস্থিতিতেই সম্পন্ন করতে হয়। গাংনীর অভিযানে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি ওই বিধি অনুসরণেরই অংশ।

মেহেরপুরের পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায় বলেন, নিয়ম মেনেই মাদকবিরোধী অভিযানের আগে পুলিশ সদস্যদের দেহ তল্লাশি করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো, অভিযান নিয়ে যেন কোনো ধরনের প্রশ্ন বা সন্দেহের অবকাশ না থাকে। মাদক নির্মূলে জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট বিকেলে গাংনী উপজেলার সীমান্তবর্তী কাজীপুর ইউনিয়নের পাঁচটি স্থানে ঘণ্টাব্যাপী যৌথ অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে প্রায় ৫ কেজি গাঁজা, ২১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং একটি নম্বরবিহীন মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এ সময় নারীসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন গাংনী উপজেলার কাজীপুর বর্ডারপাড়ার বজলুর রহমানের ছেলে শিপন হোসেন (৪৫), ফজল আলীর স্ত্রী তানজিলা খাতুন (৪৭), ইয়াদ আলীর ছেলে ফজল আলী (৬৫), দুলাল হোসেনের ছেলে রানা হোসেন (২২) এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার নাটনাপাড়া গ্রামের তাজ উদ্দিনের ছেলে জাহিদ হোসেন (২৮), হাবিবুল ইসলাম (৩৬) ও শাহিন আলম (৫০)।

এ ঘটনায় গাংনী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে গ্রেপ্তারদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
গাজীপুরে পুলিশের ৩ গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, সাংবাদিক ও বিজিবি সদস্য আহত
শ্রমিক আন্দোলনে আজও উত্তপ্ত গাজীপুরের দুই মহাসড়ক। ইতোমধ্যে ছুটি দেওয়া হয়েছে দেড় শতাধিক কারখানা। এসব কারখানার শ্রমিকরা মহাসড়কে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করছেন। 
গাজীপুরে পুলিশের ৩ গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, সাংবাদিক ও বিজিবি সদস্য আহত
৪৭ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করলেন আমিনুল, এবার আইন বিষয়ে পড়ার স্বপ্ন
গাজীপুরের শ্রীপুরে ৪৭ বছর বয়সে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মো. আমিনুল ইসলাম। ১৯৯৯ সালে এসএসসি পাসের পর দীর্ঘ ২৭ বছর পড়াশোনার বাইরে ছিলেন তিনি।
৪৭ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করলেন আমিনুল, এবার আইন বিষয়ে পড়ার স্বপ্ন
এবার পোশাক শ্রমিকদের ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক অবরোধ
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক অবরোধ করেছেন কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এতে সড়কটিতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
এবার পোশাক শ্রমিকদের ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক অবরোধ
শ্রমিক অসন্তোষে বন্ধ ৬৭০ পোশাক কারখানা: বিজিএমইএ
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের পুনর্নিয়োগ এবং আন্দোলনরত শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্তি বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে দেশের প্রধান তিনটি শিল্পাঞ্চলে।
শ্রমিক অসন্তোষে বন্ধ ৬৭০ পোশাক কারখানা: বিজিএমইএ
ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার পর সড়ক ছাড়লেন আশুলিয়ার শ্রমিকরা, স্বাভাবিক হচ্ছে যান চলাচল
কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, সংঘর্ষ ও উত্তেজনার পর সাভারের আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে যাওয়ায় এলাকায় যান চলাচলও স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে আশুলিয়ার বেশ কয়েকটি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল থেকে আশুলিয়া ও নরসিংপুর এলাকার বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষের জেরে শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে রাস্তায় নেমে আসেন। এ সময় আশপাশের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকদেরও বাইরে বের করে আনার চেষ্টা করেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে শ্রমিকদের কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় হামীম গ্রুপের একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। তবে দুপুরের পর শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে গেলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসে। বর্তমানে ওই এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, আশুলিয়া এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি ও যান চলাচল বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। দুপুরের পর থেকেই শ্রমিকরা সড়ক ছেড়ে চলে গেছেন। তিনি আরও জানান, নরসিংপুর, কাঠগড়া ও আশুলিয়া এলাকার বেশ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে রাস্তায় নেমে আসেন। এ সময় তারা সড়কে ব্যারিকেড সৃষ্টি ও আগুন জ্বালানোর চেষ্টা করেন। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং কারখানায় যেকোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে পুলিশ ও যৌথ বাহিনী কাজ করছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। আরটিভি/এসকে
ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার পর সড়ক ছাড়লেন আশুলিয়ার শ্রমিকরা, স্বাভাবিক হচ্ছে যান চলাচল
আরও পড়ুন
মিরপুরে ফের সড়কে নামার চেষ্টা পোশাক শ্রমিকদের, পুলিশের টিয়ারশেল নিক্ষেপ
আশুলিয়ায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের পর কন্টেইনারবাহী গাড়িতে আগুন
পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার স্বীকারোক্তি, ফেসবুক পোস্টকারী রাজিব আটক
হঠাৎ ৩৫৭ কর্মকর্তার তথ্য চেয়েছে পুলিশ সদরদপ্তর