আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া গ্রেপ্তার 

আরটিভি নিউজ  

শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬ , ০৩:০৬ পিএম


আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া গ্রেপ্তার 
কনটেন্ট ক্রিয়েটর মো. রিপন মিয়া । ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর মো. রিপন মিয়াকে (৩৩) গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১৪।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত ১২টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মহিষারন এলাকার অচিন্তপুরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব জানায়, মামলা হওয়ার পর থেকেই রিপন মিয়া আত্মগোপনে ছিলেন। পরে গোয়েন্দা নজরদারি ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। এরপর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নিতে তাকে নেত্রকোনা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভুক্তভোগী কিশোরী ও রিপন একই এলাকার বাসিন্দা এবং প্রতিবেশী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে নিজের পরিচয় ব্যবহার করে রিপন দীর্ঘদিন ধরে কিশোরীকে ভিডিও বানানোর কথা বলে প্রলোভন দেখাতেন এবং বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দিতেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৩০ জুলাই রাত ৮টার দিকে জরুরি কথা বলার কথা বলে কিশোরীকে বাড়ির পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করেন রিপন।

আরও পড়ুন

এ ঘটনায় গত ৫ আগস্ট ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে নেত্রকোনা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান, র‍্যাব অভিযুক্ত রিপন মিয়াকে গ্রেফতার করেছে। তাকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

পেশায় কাঠমিস্ত্রি রিপন মিয়া ২০১৬ সাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও তৈরি করে পরিচিতি পান। ‘হাই আই এম রিপন ভিডিও’ এবং ‘আই লাভ ইউ, এটাই বাস্তব’ সংলাপের ভিডিও দিয়ে তিনি আলোচনায় আসেন। ২০১৯ সালে তিনি রিপন মিয়া নামে একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ চালু করেন, যেখানে বর্তমানে অনুসারীর সংখ্যা ১৯ লাখের বেশি।

ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার দিন রাতে কিশোরীর বাবা বাজারে এবং মা বাইরে কাজে ছিলেন। এ সুযোগে রিপন বাড়িতে গিয়ে কিশোরীকে জোর করে পাশের জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত পালিয়ে যান।

পরিবারের দাবি, ভিডিও বানানোর কথা বলে রিপন আগে থেকেই কিশোরীকে উত্যক্ত করতেন। লোকলজ্জার ভয়ে প্রথমে বিষয়টি প্রকাশ করা হয়নি। পরে ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় একটি বাজারে সালিশ বসে।

সালিশে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তির দাবি, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে রিপন অভিযোগ স্বীকার করে ক্ষমা চান। পরে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং এলাকা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission