ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

রেলের সেই ভারপ্রাপ্ত উচ্চমান সহকারীর বিরুদ্ধে ১৭ দপ্তরে নালিশ

আখাউড়া প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম
আখাউড়া দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উচ্চমান সহকারী মো. ইছরাইল মিয়া। ছবি: আরটিভি

বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের আখাউড়া ও শায়েস্তাগঞ্জের বিভিন্ন দপ্তরে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, জনবল ব্যবস্থাপনা, দায়িত্ব বণ্টন, কর্মচারীদের যোগদান এবং বেতন-ভাতা নিয়ে একের পর এক অভিযোগ উঠছে।

এর মধ্যে আখাউড়া দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উচ্চমান সহকারী মো. ইছরাইল মিয়ার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, ক্ষমতার অপব্যবহার, কর্মচারীদের হয়রানি, নিয়মবহির্ভূতভাবে দায়িত্ব পাওয়া এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার সম্পদের উৎস অনুসন্ধান এবং বিভাগীয় তদন্তের দাবিও জানানো হয়েছে।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, মো. ইছরাইল মিয়ার মূল পদ টাইমকিপার। তিনি আগে এসএসএই/ওয়ে/শ্রীমঙ্গল দপ্তরে টাইমকিপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরে আখাউড়া দপ্তরে অফিস সহকারী (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর পুনরায় তাকে উচ্চমান সহকারী (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

তবে একজন টাইমকিপারকে কীভাবে একের পর এক ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দিয়ে উচ্চমান সহকারীর দায়িত্ব দেওয়া হলো, এ দায়িত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরাদেশ, প্রশাসনিক অনুমোদন ও বিধিগত ভিত্তি কী, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।

অভিযোগকারীরা বলেন, কমন পদ বিধিমালা, ২০১৯ অনুযায়ী টাইমকিপার থেকে উচ্চমান সহকারী হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। একই সঙ্গে তারা উল্লেখ করেন, উচ্চমান সহকারী পদে পদোন্নতি পাওয়ার যোগ্যদের একটি খসড়া তালিকা বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত রয়েছে। ওই তালিকায় বাংলাদেশ রেলওয়ের কোনো টাইমকিপারের নাম উল্লেখ নেই। বাংলাদেশ রেলওয়ের যেসব দপ্তরে উচ্চমান সহকারী (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাদের সবাই অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক।

অভিযোগকারীরা আরও উল্লেখ করেছেন, বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ অর্থাৎ ঢাকার নিয়ন্ত্রণাধীন তিনজন উচ্চমান সহকারী এবং ১০ জন অফিস সহকারী থাকা সত্ত্বেও কেন একজন টাইমকিপারকেই উচ্চমান সহকারীর দায়িত্ব দেওয়া হলো, এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাদের দাবি, এখানে অবৈধ আর্থিক লেনদেনের সম্ভাবনা রয়েছে।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে কর্মচারীদের বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজ নিয়ে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, সার্ভিস বুক সংরক্ষণ, পে-ফিক্সেশন, উচ্চতর গ্রেড নির্ধারণ, বদলি, টিএ বিল, ছুটি, অবসর ও পারিবারিক পেনশনের ফাইল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নিয়মিত ঘুষ দাবি করা হতো।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ সালের ২৭ মার্চ এবং ১১ নভেম্বর নবনিয়োগপ্রাপ্ত ওয়েম্যানদের সার্ভিস বুক সংরক্ষণের জন্য ফাইল ক্রয়ের নামে জনপ্রতি ৫০০ টাকা এবং পে-ফিক্সেশনের জন্য জনপ্রতি ৩ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ২০১৪ সালে নিয়োগ পাওয়া ওয়েম্যানদের চাকরির ১০ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেডের বেতন নির্ধারণের জন্য জনপ্রতি ৫ হাজার টাকা দাবি করার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, অধিকাংশ কর্মচারী অর্থ দেওয়ার পর তাদের বেতন নির্ধারণ করা হলেও যারা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, তাদের ফাইল দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখা হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, এসএসএই/ওয়ে/শায়েস্তাগঞ্জ এবং আখাউড়া সেকশনের কর্মচারীদের টিএ বিল থেকে মোট প্রাপ্য অর্থের ৫০ শতাংশ অগ্রিম নেওয়ার পর বিল পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন

চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের টিএ বিল পাসের ক্ষেত্রেও ৩০ শতাংশ কমিশন নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কমিশন দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্ন অজুহাতে বিল ফেরত দেওয়া হতো।

অন্যদিকে, অনুপস্থিত কর্মচারীদের এলএপি ছুটি অনুমোদনের ক্ষেত্রেও প্রাপ্ত অর্থের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

হেমারম্যান মো. তাজুল ইসলাম তার লিখিত অভিযোগে দাবি করেছেন, এলএপি ছুটি অনুমোদনের জন্য প্রকল্প গেটম্যান মো. সোনা মিয়ার মাধ্যমে তার কাছে ৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করার পর তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

মো. তাজুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, খালাসী পদ থেকে পদোন্নতি পেয়ে হেমারম্যান হিসেবে যোগদানের প্রায় আড়াই বছর পার হলেও তার বেতন ফিক্সেশন এখনো সম্পন্ন হয়নি।

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক পার্সোনেল-৩ শাখার ২০২৩ সালের ১২ ডিসেম্বরের অফিস আদেশে তিনি ২০তম গ্রেডের খালাসী পদ থেকে ১৮তম গ্রেডের হেমারম্যান পদে পদোন্নতি পান।

পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আদেশ অনুযায়ী তিনি আখাউড়া দপ্তরে হেমারম্যান হিসেবে যোগদান করেন।

কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও ফিক্সেশন শিট প্রস্তুত বা হালনাগাদ না হওয়ায় তিনি এখনো ১৮তম গ্রেডের পরিবর্তে আগের ২০তম গ্রেড অনুযায়ী বেতন পাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

তার দাবি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র একাধিকবার জমা দেওয়ার পরও টাইমকিপার (ভারপ্রাপ্ত উচ্চমান সহকারী) মো. ইছরাইল মিয়ার অসহযোগিতার কারণে ফিক্সেশন প্রক্রিয়া ঝুলে আছে।

এ কারণে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন। একই সঙ্গে চিত্তবিনোদন ছুটিও নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক বছর পর ভোগ করতে হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

এদিকে, বাদল মিয়া নামে একজন ভারপ্রাপ্ত কার্পেন্টার হেলপারকে যোগদানের বিষয়েও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই কর্মচারী ছয় মাস ২০ দিন অনুপস্থিত থাকার পর রেলওয়ে ডাক্তারের সনদপত্র ছাড়াই তার যোগদানের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ৭ জুন ২০২৬ তারিখে বাদল মিয়া অফিসের বাইরে মো. ইছরাইল মিয়ার সঙ্গে দেখা করে যান এবং ৮ জুন ২০২৬ তারিখে ওই কর্মচারীর যোগদান হয়ে যায়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ওয়েম্যান মো. মাহবুব আহমেদের কাছ থেকে চাকরি ছাড়ার সময় ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানালেও নানা ধরনের হয়রানির পর ওই অর্থ দিয়ে অব্যাহতি নিতে বাধ্য হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অবসরপ্রাপ্ত এবং মৃত কর্মচারীদের পারিবারিক পেনশনের কাগজপত্র প্রস্তুত ও নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থ দাবি করার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে সংশ্লিষ্ট কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হতো।

শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রম নয়, মো. ইছরাইল মিয়ার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগও আনা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, চাকরির আয়-ব্যয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে তিনি আখাউড়া এলাকায় জমি কিনেছেন, বাড়ি নির্মাণ বা পাকা করেছেন এবং স্থানীয় বাজারে জমি কিনে দোকানঘর নির্মাণ করেছেন।

অভিযোগকারীরা তার সম্পদের উৎস অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ঐক্য পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখার পক্ষ থেকে রেলপথ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক, পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক, প্রধান প্রকৌশলী, প্রধান সংস্থাপন কর্মকর্তা, দুর্নীতি দমন কমিশন, জেলা প্রশাসন, বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপকসহ মোট ১৭টি দপ্তরে অভিযোগের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগে মো. ইছরাইল মিয়ার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত, সম্পদের উৎস অনুসন্ধান এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, একই দপ্তরে টাইমকিপার মো. ইছরাইল মিয়াকে ‘উচ্চমান সহকারী (ভারপ্রাপ্ত)’ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়েও পৃথক লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

আখাউড়া দপ্তরের ওয়েম্যান মো. জুনায়েদ মিয়া ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া অভিযোগে বলেন, অফিস সহকারী হিসেবে দক্ষ জনবল থাকা সত্ত্বেও তাদের পরিবর্তে একজন টাইমকিপারকে উচ্চমান সহকারীর দায়িত্ব দেওয়ায় দাপ্তরিক কাজ, ফাইল এবং কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত কার্যক্রমে বিলম্ব ও হয়রানির সৃষ্টি হচ্ছে।

এ ছাড়া ২০২০ সালের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট যথাযথভাবে অনুমোদিত হওয়ার পাশাপাশি ইনক্রিমেন্ট স্লিপ ও সার্ভিস বইয়ে এন্ট্রি থাকার পরও তা আইবাসে হালনাগাদ না করার অভিযোগও করা হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীর আরও দাবি, শায়েস্তাগঞ্জ ও আখাউড়া এসএসএই/ওয়ে দপ্তরে টাইমকিপারের সংকট রয়েছে। ওয়েম্যান দিয়ে মৌখিক নির্দেশে কাজ করানো হচ্ছে। অথচ টাইমকিপারকে অন্য দায়িত্বে রাখায় জনবল ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে এবং কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ পড়ছে।

তবে ভারপ্রাপ্ত উচ্চমান সহকারীর দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী, আখাউড়া মো. আবু হানিফ পাশা জানান, মো. ইছরাইল মিয়াকে কীভাবে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানেন না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ সংক্রান্ত দপ্তরাদেশ বিভাগীয় প্রকৌশলী-২, ঢাকা, আহসান হাবিব জারি করেছেন।

বিভাগীয় প্রকৌশলী-২, ঢাকা, আহসান হাবিব বলেন, টাইমকিপার ব্লক পদ না। আমরা তাকে পদোন্নতি দিইনি। আমরা তাকে যেটা দিয়েছি, নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে উচ্চমান সহকারীর দায়িত্ব পালন করবে। এর জন্য কোনো প্রকার আর্থিক সহযোগিতা সে পাবে না।

অন্যদিকে, মো. ইছরাইল মিয়ার বিরুদ্ধে আনা ঘুষ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অন্যান্য অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সড়কের পাশে পড়েছিল স্কুলছাত্রী, পরে জানা গেল ‘আসল ঘটনা’
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে (১৪) পাঁচ দিন আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে ওই শিক্ষার্থীর বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে কমলগঞ্জ থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমর উদ্দিন গ্রেপ্তাররা হলেন— মো. জাহেদ আহমেদ (২৪), রাজু আহমেদ (২২) ও জুবেল মিয়া (৩০)। এ মামলার আরেক আসামি কবির (৩০) পলাতক। এজাহারের বরাতে মামলার আইও (তদন্ত কর্মকর্তা) রুহুল আমীন বলেন, ১২ সেপ্টেম্বর ওই শিক্ষার্থীকে বাড়ি থেকে নিয়ে যান প্রধান অভিযুক্ত জাহেদ। পরে তাকে আসামি জুবেলের বাসায় নেওয়া হয়। সেখানে কিশোরীকে ধর্ষণ করেন আসামিরা। পরবর্তীতে ১৩ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাহেদের বাড়িতে আটকে রেখে তাকে নির্যাতন করা হয়। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে কিশোরীকে কমলগঞ্জের রহিমপুর ইউনিয়নের একটি সড়কের পাশে ফেলে পালিয়ে যান আসামিরা। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমর উদ্দিন বলেন, মৌলভীবাজারের সদর উপজেলার কলিমাবাদ, গিয়াস নগর ও রাজনগরের গাঙপার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়। পলাতক আসামি কবিরকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানান তিনি। আরটিভি/এসএস
সড়কের পাশে পড়েছিল স্কুলছাত্রী, পরে জানা গেল ‘আসল ঘটনা’
নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের এ কী হাল
নাটোরকে বলা হয় উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার। আর নাটোর জেলা শহর থেকে উত্তরবঙ্গে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের নাটোর অংশে একাধিক স্থানে সড়ক ধসে পড়েছে। একই সঙ্গে সড়কের বেশ কিছু অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে।  জেলার সিংড়া উপজেলার চৌগ্রাম এলাকায় গেলে সড়কের এমন বেহাল অবস্থা চোখে পড়ে। এতে মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহন ও যাত্রীদের মধ্যে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে বগুড়া, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, কুড়িগ্রাম, পঞ্চগড়, রাজশাহী, নওগাঁসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার হাজার হাজার যানবাহন প্রতিদিন চলাচল করে। সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের সিংড়া উপজেলার চৌগ্রাম এলাকার প্রায় ১৫টি স্থানে সড়কের কিনারায় ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও বালুর বস্তা ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কোনো কোনো স্থানে সড়কের পোল উল্টে পড়ে আছে। এই অবস্থায় যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। সড়ক ও জনপদ বিভাগ জানায়, ২০২১-২২ অর্থ বছরে নাটোর থেকে বগুড়া মহাসড়কের প্রশস্তকরণের কাজ শুরু করে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। এরই অংশ হিসেবে সিংড়া উপজেলার শেরকোল থেকে চৌগ্রাম পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার রাস্তা ফোরলেনের কাজ এ বছরই শেষ করে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। তবে নিংগইন ও হাইটেক পার্ক এলাকায় এখনো ২টি ব্রিজের কাজ চলমান রয়েছে। কয়েকটি প্যাকেজে সাজানো হয়েছে কাজগুলো। রাস্তার দু’ধারে মাটি ফেলা, সড়ক প্রশস্ত, ব্রিজ নির্মাণ এসব প্যাকেজে ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, দায়সারা কাজ ও অনিয়মের কারণে নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের উন্নয়নকাজ শেষ হওয়ার পরপরই চৌগ্রাম এলাকার কয়েকটি স্থানে সড়কের পাশে ধস দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও পিচের স্তর ভেঙে মাটি ও পাথর সরে গেছে। দ্রুত এ বিষয়ে তদন্তের পাশাপাশি সড়কের সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। নাটোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আজহারুল ইসলাম জানান, নাটোরে দায়িত্ব পেয়েছি অল্প কিছুদিন হলো। সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো দ্রুত পরিদর্শন করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আরটিভি/এসএস
নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের এ কী হাল
অতিষ্ঠ হয়ে ছেলেকে জেলে পাঠালেন বাবা
নওগাঁর পোরশায় মাদক সেবন ও নিয়মিত পরিবারের ওপর অত্যাচার চালানোর অভিযোগে কাওছার হাবিব (২৫) নামে এক যুবককে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত সন্তানের অমানবিক অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে শেষমেষ তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেন তার নিজ বাবা।
অতিষ্ঠ হয়ে ছেলেকে জেলে পাঠালেন বাবা
ঝিনাইদহে ৪ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
ঝিনাইদহ শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চারটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। 
ঝিনাইদহে ৪ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
নিখোঁজের দুইদিন পর ঝোঁপে মিলল শিশুর অর্ধগলিত মরদেহ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে নিখোঁজের দুইদিন পর মীম (৭) নামে এক শিশুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিখোঁজের দুইদিন পর ঝোঁপে মিলল শিশুর অর্ধগলিত মরদেহ
আরও পড়ুন
পুকুর পাহারায় ছেলে, পুত্রবধূর ঘরে ঢুকে পড়েন শ্বশুর
কেল্লা বাবার মাজারের দানবাক্সে মিলল ১ কোটি ৩ লাখ টাকা
৭ বার কান ধরে ওঠবস করিয়ে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপার চেষ্টা, অতঃপর...
কসবা পৌরসভার ক্যাশিয়ারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ