
বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের গেটের সামনে রোগী নিতে আসা একটি অ্যাম্বুলেন্সের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে অ্যাম্বুলেন্সটির পাশে রাখা ৯টি মোটরসাইকেল পুড়ে গেছে। এ ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্সচালক ফরিদুল ইসলাম (৫৫) ও এক শিশু আহত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতালের পুরোনো ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে হঠাৎ বিকট শব্দে অ্যাম্বুলেন্সের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে মুহূর্তের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্সে আগুন ধরে যায়। আগুন দ্রুত চারপাশে ছড়িয়ে পড়লে পাশে থাকা মোটরসাইকেলগুলোতেও আগুন ধরে যায়। মোটরসাইকেলের জ্বালানি তেল থেকে আগুন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এতে একে একে পুড়ে যায় ৯টি মোটরসাইকেল। দগ্ধ অবস্থায় প্রাণ বাঁচাতে অ্যাম্বুলেন্সচালক ফরিদুল ইসলাম হাসপাতালের সামনের পুকুরে ঝাঁপ দেন। পরে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। আগুনের তীব্রতা ও কালো ধোঁয়ায় হাসপাতাল চত্বর ছেয়ে যায়। ধোঁয়া হাসপাতালের ভবনের ভেতরে ঢুকে পড়লে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম জাদু জানান, আগুনে তার দুটি মোটরসাইকেল পুড়ে গেছে। হঠাৎ করে অ্যাম্বুলেন্সে আগুন ধরে তা দ্রুত আশপাশে ছড়িয়ে পড়ায় মোটরসাইকেলগুলো সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক সাইদুজ্জামান জানান, অ্যাম্বুলেন্সের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আগুন যাতে হাসপাতালের মূল ভবনে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
রেড ক্রিসেন্টের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান টুটুল বলেন, হাসপাতাল এলাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। রোগী ও স্বজনদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে হাসপাতাল চত্বরের ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়মিত পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, পুরোনো ভবনের সামনে থাকা অ্যাম্বুলেন্সের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ধোঁয়া হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতাল পরিদর্শনে যান বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন এবং পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার।
ঘটনার পর হাসপাতাল প্রাঙ্গণে থাকা পুরোনো অ্যাম্বুলেন্স নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের গ্যারেজে রাখা চারটি পুরোনো অ্যাম্বুলেন্স জব্দ করে পুলিশ লাইনে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার জানান, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুরোনো অ্যাম্বুলেন্সগুলোর অবস্থা এবং সেগুলোর গ্যাস সিলিন্ডারের নিরাপত্তার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে।
এদিকে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন। তদন্তে অ্যাম্বুলেন্সটির যান্ত্রিক ত্রুটি, গ্যাস সিলিন্ডারের অবস্থা, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে।
বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য মনজুরুল হক রাহাদ বলেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে হাসপাতালের রোগী, স্বজন ও চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
আরটিভি/এমএইচজে




