
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পূর্বশত্রুতার জেরে এক কারাবন্দি কৃষকের পরিবারের দুই বিঘা জমির ফলন্ত লাউক্ষেত কেটে নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এতে পরিবারটির কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং তারা বর্তমানে আরও ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কায় ভুগছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ গণকপাড়া গ্রামের ফসলি জমির মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী কৃষক শাহানুর মিয়া দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশীদের সঙ্গে চলা মামলা ও বিরোধের জেরে প্রায় এক মাস ধরে কারাবন্দি রয়েছেন। তার অনুপস্থিতিতে পরিবারটি যখন চরম দুর্দিন পার করছে, ঠিক তখনই তাদের বিস্তীর্ণ ফসলের ক্ষেত নষ্ট করা হলো।
ক্ষতিগ্রস্ত লাউক্ষেতে দাঁড়িয়ে হাউমাউ করে কেঁদে কৃষানি লাবনী বেগম (৩০) বলেন, আমার স্বামী প্রতিপক্ষের করা মিথ্যা মামলায় এক মাস যাবৎ জেলে। অনেক কষ্ট ও স্বপ্ন নিয়ে দুই বিঘা জমিতে আমরা লাউ চাষ করেছিলাম। প্রতি সপ্তাহে পাঁচ শতাধিক লাউ মিলছিল। আজ ভোরে প্রতিপক্ষরা আমাদের স্বপ্নের লাউক্ষেত উপড়ে ফেলেছে। ফলে পরিবার নিয়ে আমি সর্বস্বান্ত। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।
লাবনীর ১০ বছর বয়সী ছেলে, স্থানীয় বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র হাবিব হাসান জানায়, সকালে মায়ের সাথে সে জমিতে লাউ তুলতে যায়। সে সময় প্রতিপক্ষ সুখটু, আসমা, বেলাল, তারা ও রফিকুলকে কাস্তে হাতে লাউগাছের সুতা ও গাছ কাটতে দেখে সে। তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
জানা গেছে, ভুক্তভোগী কৃষক শাহানুর মিয়ার পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী রফিকুল গংদের প্রায় ২০ বছর ধরে জমিজমা-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এর জেরে বিভিন্ন সময় মামলা-মোকদ্দমা ও জেল-জুলুমের শিকার হতে হয়েছে তাদের। বর্তমানে প্রতিবেশীদের করা মিথ্যা মামলায় শাহানুর মিয়া প্রায় দেড় মাস ধরে জেলহাজতে রয়েছেন বলে দাবি তাদের। তার অবর্তমানে দুই বিঘা জমির লাউগাছ কেটে নষ্ট করার ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও অমানবিক উল্লেখ করেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন সোহল জানান, তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন করবেন। পাশাপাশি ভুক্তভোগী কৃষক পরিবারকে সম্ভাব্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
ভুক্তভোগী পরিবারটি জানিয়েছে, এ ঘটনায় থানায় মামলা বা অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানানোর পাশাপাশি পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ সহযোগিতা কামনা করেছে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।
আরটিভি/এমএইচজে




