
ঘর থেকে স্পষ্ট দেখা যায় স্কুল, অথচ মাঝখানে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে উত্তাল সাঙ্গু নদী। বর্ষা মৌসুমে নদী পার হয়ে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ ও ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যেতে হচ্ছে বান্দরবানের রুমা উপজেলার সদর ইউনিয়নের লুকছড়ি পাড়ার শিশু শিক্ষার্থীদের। নদী পারাপার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় খুদে শিক্ষার্থীদের একা না ছেড়ে প্রতিদিন বাধ্য হয়েই সঙ্গে যাচ্ছেন অভিভাবকেরা।
স্থানীয় রুমা বাস স্টেশন সংলগ্ন বেথেল পাড়া ঘাটে এমনই কষ্টের কথা জানান শান্তি রানী ত্রিপুরা ও তেরেজা ত্রিপুরা। তারা জানান, নদীর এপারে তাদের ঘর আর ওপারে বেথেল পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। লুকছড়ি পাড়ার ত্রিপুরা ও মারমা সম্প্রদায়ের অন্তত ৮ থেকে ১০ জন শিশু ওই স্কুলে পড়ালেখা করে। তাদের নিরাপদে পৌঁছে দিতে পাড়ার অভিভাবকেরা পর্যায়ক্রমে (পালা করে) প্রতিদিন অন্তত দু'জন করে ঘাটে আসেন এবং শিশুদের স্কুলে নিয়ে যান ও নিয়ে আসেন।
তবে ঝুঁকি ছাড়াও এই পথচলায় যোগ হয়েছে বড় আর্থিক চাপ। শিশু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নৌকার ভাড়ার খরচ টানতে হিমশিম খাচ্ছেন নদীপারের পরিবারগুলো।
দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মা শান্তি রানী ত্রিপুরা জানান, নদী পার হতে মা-মেয়ের দৈনিক ৮০ টাকা খরচ হয়। আর বর্ষায় নদীতে পানি ও স্রোত বেশি থাকলে আসা-যাওয়ার ভাড়া ২০০ টাকা পর্যন্ত উঠে যায়। এতে মাসে শুধু খেয়া পারাপারেই দেড় থেকে তিন হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়।
সংসারের টানাটানি ও সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তেরেজা ত্রিপুরা বলেন, জুম চাষ ও বাগানের সামান্য আয়ে সংসার চলে। কিন্তু বর্ষায় নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় শিশুদের একা ছাড়ার কোনো উপায় নেই। তাই জীবনের ঝুঁকি আর খরচের চিন্তা না করে সন্তানদের সঙ্গেই স্কুলে যেতে হয়।
বেথেলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লাল লিয়ান ত্লোয়াং বম জানান, লুকছড়ি পাড়া থেকে বর্তমানে ১০-১১ জন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে ভর্তি রয়েছে। তবে সাঙ্গু নদী পারাপারের ঝামেলা ও ঝুঁকির কারণে বর্ষায় ওদের উপস্থিতি তুলনামূলক কমে যায়। অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে সবসময় অভিভাবকদের সাবধানে নৌকা পারাপারের পরামর্শ দেওয়া হয়।
আরটিভি/এসএস


