ঢাকা মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

রংপুরে চার খুন

পুলিশের বয়ান নিয়ে প্রশ্নের মুখে তদন্ত, মামলার দায়িত্ব ডিবিতে

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫৩ এএম
ছবি: সংগৃহীত

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় পুলিশের প্রাথমিক বয়ান নিয়ে নানা প্রশ্ন, আন্দোলন ও অধিকতর তদন্তের দাবির মুখে মামলার তদন্তভার পরিবর্তন করা হয়েছে। কোতোয়ালি থানার পরিবর্তে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগকে (ডিবি)।

পুলিশ বলছে, অধিকতর স্বচ্ছ, পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত এবং দ্রুত চার্জশিট দেওয়ার লক্ষ্যেই তদন্ত সংস্থা পরিবর্তন করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী। তিনি জানান, মামলাটির নতুন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক জিন্নাত আলীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে মামলার আগের তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি ডিবি কার্যালয়ে গিয়ে মামলার নথিপত্র ও প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত নতুন তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করেন।

পরে পুরোনো ও নতুন দুই তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল নগরীর মাছুয়াপাড়ায় গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে যান। সেখানে মিলন চ্যাটার্জি ঘটনাস্থলের বিভিন্ন বিষয় নতুন তদন্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করেন।

ডিবির উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, রোববার গভীর রাত পর্যন্ত গ্রেপ্তার দুই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালত সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদের বক্তব্য পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা ঘটনার সঙ্গে মিল রয়েছে।

তিনি বলেন, আসামিরা পুলিশ কমিশনারের সংবাদ সম্মেলনে বর্ণিত ঘটনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। তবে জবানবন্দিতে তারা কিছু অতিরিক্ত তথ্যও যুক্ত করেছেন, যা আগে পুলিশকে জানাননি।

এর আগে রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ দাবি করেন, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার দুই তরুণ ইয়াবা সেবনের উদ্দেশ্যে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে উঠেছিলেন। সেখানে শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তী গেলে তাকে হত্যা করা হয়। পরে পরিবারের অন্য তিন সদস্যকেও হত্যা করা হয়।

তবে পুলিশের এই বক্তব্যের পর থেকেই হত্যাকাণ্ডের কারণ, ঘটনার ধারাবাহিকতা এবং প্রাথমিক তদন্ত নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। নিহত পরিবারের স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা, সচেতন নাগরিক, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পক্ষ অধিকতর তদন্তের দাবি জানায়। এ ঘটনায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশও করা হয়।

গ্রেপ্তার দুই তরুণের পরিবারও প্রশ্ন তুলেছে, মাত্র দুজন ব্যক্তি কীভাবে একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করলেন। ঘটনার পেছনে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

আন্দোলনকারীদের প্রশ্ন, গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির পাশের একটি ভবনের ছাদে তুলনামূলক নিরাপদ পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা কেন ঝুঁকি নিয়ে তার বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবন করতে গেলেন। ঘটনার সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়টিও তাদের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

এ ছাড়া ঘুমন্ত ১২ বছর বয়সী আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মকে কেন হত্যা করা হলো, হত্যার পর অভিযুক্তরা কেন দীর্ঘ সময় ঘটনাস্থলে অবস্থান করলেন এবং ঘটনার পেছনে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বা অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অবসরে যান। অবসরের পর তিনি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক হিসেবেও রোগী দেখতেন। প্রায় দুই থেকে তিন বছর ধরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজের নির্মিত দোতলা বাড়ির দোতলায় বসবাস করছিলেন তিনি।

গত শনিবার রাতে ওই বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন

পুলিশ জানিয়েছে, চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাছুয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের ছেলে মুগ্ধ দাস ও বিনয়চন্দ্র দাসের ছেলে সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিবির উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, নতুন তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনার প্রতিটি দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখবেন। প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ যাচাই শেষে তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
৪ লাখ টাকায় স্ত্রীকে বিক্রি করে দেন আশিকুর, অতঃপর...
স্ত্রীকে ৪ লাখ টাকায় ভারতে বিক্রি করে দেওয়ার চেষ্টাকালে সিলেটের পর্যটনকেন্দ্র জাফলং থেকে এক গৃহবধূকে উদ্ধার এবং মানব পাচারের চেষ্টার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে স্বামীসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
৪ লাখ টাকায় স্ত্রীকে বিক্রি করে দেন আশিকুর, অতঃপর...
প্রেমিকাকে হত্যার দায়ে যুবকের ফাঁসির আদেশ, বিচার মানতে নারাজ আইনজীবী
রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে প্রেমিকাকে হত্যার দায়ে মো. মাহিবুর কামাল মহিবুল্লাহ নামে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দন্ডিত করা হয়েছে। 
প্রেমিকাকে হত্যার দায়ে যুবকের ফাঁসির আদেশ, বিচার মানতে নারাজ আইনজীবী
দুই চোখ উপড়ে নেওয়ার পর যুবককে বিবস্ত্র করে রাস্তায় নিক্ষেপ
ভোলার বোরহানউদ্দিনে মো. রাজিব (২৮) নামে এক যুবককে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে দুই চোখ উপড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। পরে হাত-পা বেঁধে ও উলঙ্গ অবস্থায় তাকে রাস্তায় ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।  মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাজিবের পরিবার পুলিশের সহায়তায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠিয়েছে। গুরুতর আহত রাজিব বোরহানউদ্দিন উপজেলার সাচড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত ফারুক খানের ছেলে। এ ঘটনায় ইমন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্থানীয়রা জানান, সোমবার রাতে উপজেলার দেউলা এলাকা থেকে কয়েকজন ব্যক্তি রাজিবকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে ভোলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে নিয়ে দুই চোখ উপড়ে ফেলে হাত-পা বেঁধে রেখে যায় তারা। পথচারীরা হাত-পা বাঁধা অবস্থায় রাজিবকে পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে রাত আনুমানিক ২টার দিকে পুলিশ তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে রাজিবের পরিবার পুলিশের সহায়তায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠায়। বোরহানউদ্দিন থানার ওসি আস্রাব আলী বলেন, রাজিব নামে এক যুবককে আহত অবস্থায় পাওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। ইমন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কী কারণে রাজিবের ওপর এ হামলা চালানো হয়েছে, তা তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আরটিভি/ এসকেডি
দুই চোখ উপড়ে নেওয়ার পর যুবককে বিবস্ত্র করে রাস্তায় নিক্ষেপ
আজান দেওয়ার অপেক্ষা শেষ হলো না মুয়াজ্জিনের
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ফজরের আজান দেওয়ার অপেক্ষা করা অবস্থায় মসজিদেই হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মো. শাহজাহান মিস্ত্রি নামে এক মুয়াজ্জিনের মৃত্যু হয়েছে।
আজান দেওয়ার অপেক্ষা শেষ হলো না মুয়াজ্জিনের
পদ্মায় ধরা ১৭ কেজির পাঙাশ, দাম উঠল যত
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে প্রায় ১৭ কেজি ওজনের একটি পাঙাশ মাছ ধরা পড়েছে।
পদ্মায় ধরা ১৭ কেজির পাঙাশ, দাম উঠল যত
আরও পড়ুন
ধানক্ষেতে মিলল গলাকাটা মরদেহ
যুবককে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি, গ্রেপ্তার ৩
পুনঃখনন ও বনায়নে প্রাণ ফিরেছে ভারাড়দহ বিলে, বেড়েছে জীববৈচিত্র্য
মসজিদে জমি দানের সিদ্ধান্ত বৃদ্ধার, বেধড়ক পেটালেন দুই ছেলে-দুই নাতি