
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় জনবল সংকটে খুঁড়িয়ে চলছে প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল। গুরুত্বপূর্ণ এ প্রতিষ্ঠানের ১১টি পদের মধ্যে ৮টিই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। মাত্র তিনজন জনবল দিয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম ও প্রাণীর চিকিৎসাসেবা চালিয়ে নিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।
প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে তথ্য মতে, মঠবাড়িয়া উপজেলায় ১১ ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় মোট খামার রয়েছে ৪৬৮টি। এগুলোর মধ্যে দুগ্ধ খামার ১১৪টি, ছাগলের খামার ৩০টি, ভেড়ার খামার ২টি, লেয়ার মুরগির খামার ৩০টি, ব্রয়লার মুরগির খামার ২৩২টি, হাঁসের খামার ১৭টি, কবুতরের খামার ৩৮টি, কোয়েলের খামার ৫টি
উপজেলার এসব খামারে গরু রয়েছে ৮২ হাজার ৫২০টি, মহিষ রয়েছে ৩৪০টি, ছাগল রয়েছে ৩১ হাজার ৭৫০টি, ভেড়া রয়েছে ২১০টি, মুরগি রয়েছে ১৩ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫০০ টাকা ও কবুতর রয়েছে ৩ লক্ষ ২১ হাজার ১১০টি, কোয়েল রয়েছে ৬ হাজার ৩০০টি।
প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে ১১ জন বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পদ থাকলেও শূন্য রয়েছে ৮টি। উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহা . নুর আলম, উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা দিলীপ কুমার নাথ, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মো. মাহমুদ-উল হাসান রাফি এই তিনজনকে দিয়ে পুরো উপজেলার প্রাণিসম্পদ দপ্তর ভেটেরিনারি হাসপাতাল পরিচালিত হচ্ছে। ফলে খামার মালিকরা যাচ্ছেন বেসরকারি চিকিৎসকের কাছে। এতে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা।
খামারিদের অভিযোগ, হাসপাতালে প্রয়োজনের সময় চিকিৎসক বা সংশ্লিষ্ট জনবল না পাওয়ায় অনেক সময় বেসরকারি চিকিৎসকের কাছে যেতে হয়। এতে সরকারি সেবার পাশাপাশি তাদের অতিরিক্ত অর্থও ব্যয় হচ্ছে।
আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের গোলবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, তার আটটি গবাদিপশু রয়েছে। বিভিন্ন সময় এসব গবাদিপশু অসুস্থ হলে চিকিৎসার জন্য তাকে বেসরকারি চিকিৎসকের কাছে ছুটতে হয়।
তিনি বলেন, হাসপাতালে গিয়ে অনেক সময় প্রয়োজনীয় চিকিৎসক বা জনবল পাওয়া যায় না। ফলে বাধ্য হয়ে অন্যত্র নিয়ে গিয়ে গবাদিপশুর চিকিৎসা করাতে হয়।
উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহা. নুর আলম বলেন, একটি বড় উপজেলা। এত বড় উপজেলায় অর্ধেকের কম জনবল নিয়ে সেবা দেওয়া খুবই কঠিন। মাঠ পর্যায়ে টিকা প্রদান, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প উঠান বৈঠক কার্যক্রমে গতি আসছে না। মাঠ পর্যায় থেকে চিকিৎসার জন্য যে খবরগুলো আসে দ্রুত সময়ের মধ্যেই চিকিৎসা দিতে সমস্যা হচ্ছে। তবে এখানে কোন ওষুধের সংকট নেই। তবুও আমরা নিয়মিত সেবা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।
আরটিভি/এমএম




