
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন এখনো বেশ দূরে। তবে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বিন্নাটি ইউনিয়নে আগেভাগেই শুরু হয়েছে নির্বাচনি আমেজ। আর সেই আবহে ব্যতিক্রমী প্রচারণা চালিয়ে আলোচনায় এসেছেন সেলুন ব্যবসায়ী ফেরদৌস মিয়া।
মাইক কিংবা মোটরসাইকেলের বহর নয়, চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছার কথা জানাতে ফেরদৌস মিয়া বেছে নিয়েছেন হাতি। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে হাতির পিঠে চড়ে, সঙ্গে ব্যান্ড পার্টি ও ঢাকঢোল নিয়ে বিন্নাটি চৌরাস্তা মোড়ে হাজির হন তিনি।
কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে ফেরদৌস মিয়ার এই ব্যতিক্রমী ‘হাতিযাত্রা’ দেখতে থমকে দাঁড়ান পথচারীরা। কেউ বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকেন, কেউ আবার মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে হাতির পিঠে চড়ে প্রচারণার দৃশ্য। বাজারের আড্ডা থেকে চায়ের দোকান সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন তিনি।
বিন্নাটি বাজারে দীর্ঘদিন ধরে সেলুন ব্যবসা করছেন ফেরদৌস মিয়া। এই পেশার সুবাদে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তার পরিচয় ও যোগাযোগ গড়ে উঠেছে। সেই পরিচিতির জায়গা থেকেই এবার বিন্নাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
ফেরদৌস মিয়া বলেন, আমার মা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই ইচ্ছা পূরণ হওয়ার আগেই তিনি মারা যান। মায়ের সেই ইচ্ছাকেই আমি নিজের জীবনের লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছি। অনেকদিন ধরে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করছি এবং তাদের বিপদে-আপদে পাশে থাকার চেষ্টা করছি। এখন মানুষের দোয়া ও সমর্থন নিয়েই সামনে এগোতে চাই।
হাতির পিঠে চড়ে প্রচারণার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি একটু ব্যতিক্রমীভাবে মানুষের কাছে যেতে চেয়েছি। সবাই যেন জানতে পারে, আমি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে চাই। মানুষের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।
বাবার স্বপ্নপূরণে পাশে রয়েছেন ফেরদৌস মিয়ার ছেলেরাও। তার ছেলে তোফাজ্জল মিয়া বলেন, আমার দাদির ইচ্ছা ছিল বাবা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবেন। দাদি মারা গেছেন। তার সেই ইচ্ছা পূরণ করতে আমরাও বাবাকে সমর্থন করছি। আমাদের যেটুকু সামর্থ্য আছে, তা দিয়ে চেষ্টা করব। সাধারণ মানুষও বাবাকে আশ্বাস দিয়েছে।
নির্বাচনের সময় এখনো অনেক দূরে হলেও হাতির পিঠে চড়ে ফেরদৌস মিয়ার এই ব্যতিক্রমী প্রচারণা ইতোমধ্যেই বিন্নাটি ইউনিয়নজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা তৈরি করেছে।
আরটিভি/এসকে




