
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ইঁদুর ও উইপোকার আক্রমণে নষ্ট হওয়া কৃষক তোফাজ্জল হোসেনের কষ্টার্জিত ২ লাখ টাকা প্রবাসীর সহায়তায় ফেরত পেলেন তিনি। বিভিন্ন টেলিভিশন, পত্রিকা ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটি প্রকাশের পর ক্ষতিগ্রস্ত এই কৃষকের পাশে দাঁড়িয়েছেন সৌদি আরবপ্রবাসী আলহাজ মিজানুর রহমান সুমন।
বুধবার(২৬ আগস্ট) বিকেলে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের উত্তর ধুমাইটারী গ্রামে তোফাজ্জল হোসেনের বাড়িতে গিয়ে তার হাতে নগদ ২ লাখ টাকা তুলে দেন মিজানুর রহমান সুমনের ছোট ভাই হাবিবুর রহমান জনি।
জানা যায়, গত ৯ আগস্ট সকালে জমি বন্ধক নেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে জমানো টাকা বের করতে গিয়ে তোফাজ্জল হোসেন দেখেন, টাকার বান্ডিলগুলো ইঁদুর ও উইপোকায় কেটে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। চোখের সামনে কষ্টার্জিত সঞ্চয় নষ্ট হতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন প্রান্তিক এই কৃষক।
পরে ঘটনাটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হলে বিষয়টি সৌদি আরবপ্রবাসী ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক আলহাজ মিজানুর রহমান সুমনের নজরে আসে। কৃষক পরিবারের অসহায়ত্বের কথা জানতে পেরে তিনি দ্রুত তাদের আর্থিক সহায়তা করার সিদ্ধান্ত নেন এবং ছোট ভাই হাবিবুর রহমান জনিকে তোফাজ্জল হোসেনের বাড়িতে পাঠান।
হাবিবুর রহমান জনি বলেন, সংবাদমাধ্যমে তোফাজ্জল হোসেনের কষ্টের সঞ্চিত টাকা ইঁদুর ও উইপোকায় নষ্ট হওয়ার খবর দেখে আমার বড় ভাই অত্যন্ত ব্যথিত হন। তিনি সৌদি আরবে ব্যবসা করেন এবং নিয়মিত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। ভাইয়ের নির্দেশেই আমি এখানে এসে তার পক্ষ থেকে কৃষক তোফাজ্জল হোসেনের হাতে নগদ ২ লাখ টাকা তুলে দিয়েছি।
সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত তোফাজ্জল হোসেন বলেন, আমি ঢাকায় রিকশা চালিয়ে এবং আমার স্ত্রী মানুষের বাড়িতে রান্নার কাজ করে খুব কষ্টে এই ২ লাখ টাকা জমিয়েছিলাম। বাড়িতে এসে টাকাগুলো একটি বাক্সের ভেতরে রেখেছিলাম। কিন্তু ইঁদুর ও উইপোকা সব টাকা কেটে নষ্ট করে দেয়। এরপর কীভাবে চলব, সেই চিন্তায় দিন কাটছিল।
তিনি আরও বলেন, আমাদের দুর্দশার খবর বিভিন্ন টিভি, পত্রিকা ও অনলাইনে প্রচারের পর মিজানুর রহমান সুমন ভাইয়ের নজরে আসে। পরে তার ছোট ভাই এসে আমার হাতে ২ লাখ টাকা তুলে দিয়েছেন। এই সহায়তা পেয়ে আমার সব চিন্তা দূর হয়েছে। আমি খুব খুশি। মহান আল্লাহ তায়ালা তাকে দীর্ঘায়ু ও উত্তম প্রতিদান দান করুন।
দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত সঞ্চয় হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়া কৃষক তোফাজ্জল হোসেন প্রবাসীর এই মানবিক সহায়তায় নতুন করে জীবনসংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার আশা দেখছেন।
আরটিভি/এসকে




