
গাজীপুর সাফারি পার্কের দর্শনার্থী বাসের সিটে ময়লা পরিষ্কারের কথা বলায় বন প্রহরীদের হামলায় নারী দর্শনার্থীসহ আটজন আহত হয়েছেন। এসময় দর্শনার্থীদের মোবাইল ফোন, টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পার্কের কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) হামলা ও মারধরের ঘটনায় এক দর্শনার্থী শ্রীপুর থানায় মামলা করেছেন। রবিবার (৩০ আগস্ট) সকালে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আহতরা হলেন রাজধানীর বারিধারা (নতুন বাজার) এলাকার সালমা হোসেন (৪৫), তার দুই ছেলে আহনাফ মাহিন (১৭) ও জারিফ (১৫) এবং তাদের গাড়িচালক রাসেল (২৫)। এ ছাড়া আব্দুল কাহারের ছেলে মানিক মিয়া (৩৭), ফরিদ উদ্দিনের ছেলে আরমান (৪৫), আফাজ উদ্দিনের ছেলে দোয়েল হক (৩৫) ও আশিক (৩৫) আহত হয়েছেন।
সন্ধ্যার পর ওই মারামারির ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীদের নজরে আসে। শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে পার্কের সহকারী বন সংরক্ষকের কার্যালয়ের একটি কক্ষে হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রহরী ফরহাদকে বরখাস্ত করেছে পার্ক কর্তৃপক্ষ।
দর্শনার্থী সালমা হোসেন জানান, ঘটনার দিন দুপুরে দুই ছেলে আহনাফ ও জারিফকে নিয়ে তিনি গাজীপুর সাফারি পার্কে যান। পার্কের কোর সাফারির দর্শনার্থীদের বাসে উঠে সিটে ময়লা থাকায় প্রহরী ফরহাদকে পরিষ্কার করতে বলেন। সিটের ময়লা পরিষ্কারের দায়িত্ব তার নয় বলে ওই নারী দর্শনার্থীর ছেলের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। পরে দর্শনার্থী বাসটি কোর সাফারি ঘুরে এসে তাদের নামিয়ে না দিয়ে চালক বাসটি নিয়ে সরাসরি সহকারী বন সংরক্ষকের কার্যালয়ের নিচে নিয়ে যান।
সেখানে গেলে প্রহরী ফরহাদসহ তার অন্যান্য সহকর্মীরা আমার দুই ছেলে ও ব্যক্তিগত গাড়িচালক রাসেলকে মারধর শুরু করেন। তিনি বাধা দিতে গেলে তাকেও ধাক্কা দেন ইউনিফর্ম পরিহিত পার্কের লোকজন। এ সময় ওই নারীর তিন ভরি ওজনের সোনার চেইন, তার ও ছেলের মুঠোফোন এবং নগদ ৮০ হাজার টাকা খোয়া যায়।
সাফারি পার্কের দায়িত্বে থাকা টুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন বলেন, দর্শনার্থী সালমা হোসেন কোর সাফারি বাসের দায়িত্বে থাকা প্রহরী ফরহাদকে বাসের সিটের ময়লা পরিষ্কার করতে বলেন। এ সময় প্রহরী ফরহাদ বলেন, সিট পরিষ্কার করা আমার দায়িত্ব নয়। আমার দায়িত্ব হলো বাসের সবগুলো সিট পূর্ণ হয়েছে কি না, তা দেখভাল করা। একপর্যায়ে উভয়েই তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় ওই নারীর ছেলের সঙ্গে প্রহরীর হাতাহাতি হয়।
দর্শনার্থী বাসটি কোর সাফারি ঘুরে আসার পর প্রহরী ফরহাদ তার অন্যান্য সহযোগীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলে চালককে দর্শনার্থীদের নিয়ে বাসটি সহকারী বন সংরক্ষকের কার্যালয়ের নিচে এসে দাঁড়াতে বলা হয়। তখন পার্কের দায়িত্বে থাকা অন্যান্য লোকজন ওই নারীকে পার্কের দোতলায় কার্যালয়ে উঠতে বলেন। কার্যালয়ে যাওয়ার কথা বলায় নারী বিষয়টি ভালোভাবে নেননি। ওই সময় পার্কের সব বন প্রহরী কার্যালয়ের নিচে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে বন প্রহরীদের সঙ্গে নারীর ছেলের তর্কাতর্কি হলে বন প্রহরীরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন।
গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান সাংবাদিকদের জানান, দর্শনার্থী বাসের সিটে থাকা ময়লা পরিষ্কার করা নিয়ে ওই বাসের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রহরী ফরহাদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হয়। এ সময় নারী দর্শনার্থীর ছেলের সঙ্গে প্রহরীর হাতাহাতি হয়। পরিদর্শন শেষে চালক দর্শনার্থী বাসটি পার্কের কার্যালয়ের নিচে নিয়ে আসেন। সেখানে পার্কের অন্যান্য লোকজনের সঙ্গে দর্শনার্থীদের মারধরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পার্কের দুজন কর্মচারী আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। তাদের স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম. কে. এম. ইকবাল হোছাইন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, মুমিন নামে আমাদের একজন স্টাফকে হামলা চালিয়ে আহত করা হয়েছে। তাকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আমাদের স্টাফকে আহত করার পর বাসে থাকা ওই পর্যটকদের পার্ক কার্যালয়ে আনা হয় আলোচনা করার জন্য। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। এ ঘটনায় বন বিভাগের স্টাফ ফরহাদকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, সাফারি পার্কে দর্শনার্থী ও পার্কের কর্মীদের মধ্যে মারধরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। দর্শনার্থীর পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। রাতে পার্ক কর্তৃপক্ষ একটি অভিযোগ দিয়েছে। তদন্তের পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
আরটিভি/টিআর




