ঢাকা শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

ঢেউয়ে মাতছে পদ্মাপাড়, মিলছে সমুদ্রের অনুভূতি

সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪২ এএম
পদ্মাপাড়। ছবি: আরটিভি

ছুটির দিন এলেই ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের শয়তানখালী এলাকায় পদ্মা নদীর পাড়ে বাড়তে থাকে দর্শনার্থীদের ভিড়। নদীর বিশাল জলরাশি, ঢেউয়ের মৃদু গর্জন, খোলা আকাশ ও নির্মল বাতাস উপভোগ করতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন নানা বয়সী মানুষ। পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব কিংবা দলবেঁধে এসে এখানে সময় কাটাচ্ছেন তারা।

শুক্রবারসহ বিভিন্ন ছুটির দিনে বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পদ্মাপাড়ে দেখা যায় দর্শনার্থীদের সরব উপস্থিতি। কেউ নদীর পাড়ে বসে আড্ডায় মেতে উঠছেন, কেউ ঢেউয়ের সঙ্গে ছবি তুলছেন, আবার কেউ শিশুদের নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। বিকেলের মিষ্টি রোদ আর নদীর ওপর বাতাসে দুলতে থাকা ঢেউ মিলে তৈরি করে মনোরম এক পরিবেশ।

বিশেষ করে বিকেলের দিকে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। বিস্তীর্ণ পদ্মার জলরাশি, ঢেউয়ের শব্দ ও চারপাশের খোলা প্রকৃতি অনেকের কাছেই সমুদ্রসৈকতের অনুভূতি তৈরি করে। ফলে স্থানীয়দের কাছে জায়গাটি ক্রমেই বিনোদনের জনপ্রিয় স্থান হয়ে উঠছে। দর্শনার্থীদের অনেকেই মুঠোফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সুন্দর মুহূর্তগুলো স্মৃতি হিসেবে ধরে রাখছেন।

দর্শনার্থীদের ঘিরে পদ্মার পাড়ে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি অস্থায়ী দোকান। এসব দোকানে চা, ঝালমুড়ি, ফুচকা, বিভিন্ন মুখরোচক খাবারসহ শিশুদের খেলনা ও নানা পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। ছুটির দিনের দর্শনার্থীদের ভিড়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় কিছু মানুষের বাড়তি আয়ের সুযোগও তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, শয়তানখালী এলাকায় পদ্মার পাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দিন দিন মানুষের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে ছুটির দিনে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানুষ এখানে ঘুরতে আসেন। পদ্মার বিশাল জলরাশি ও ঢেউ দেখে অনেকেই জায়গাটিকে ‘গরিবের সমুদ্র’ বলে অভিহিত করেন।

পরিবারসহ বেড়াতে আসা দর্শনার্থী বিশ্বজিৎ শীল (৪৫) বলেন, এখানে এসে মনে হচ্ছে যেন সমুদ্রের পাড়ে এসেছি। নদীর বিশালতা ও ঢেউ খুবই সুন্দর। পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর জন্য জায়গাটি বেশ ভালো।

আরেক দর্শনার্থী আবুল বাশার (৬০) বলেন, ছুটির দিনে পরিবার নিয়ে পদ্মার পাড়ে ঘুরতে এসে খুব ভালো লাগছে। নদীর বিশালতা, ঢেউ আর খোলা বাতাসে কিছু সময় কাটালে মনে হয় যেন সমুদ্রের পাড়ে আছি। তবে নদীভাঙনের কারণে এখানকার সৌন্দর্য দিন দিন নষ্ট হচ্ছে। ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলে শয়তানখালীর পদ্মাপাড়টি আরও সুন্দর ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।

তবে মনোরম এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝেও রয়েছে নদীভাঙনের আতঙ্ক। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিবছর পদ্মার ভাঙনে শয়তানখালী এলাকার নদীতীরের বিভিন্ন অংশ বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙনে একদিকে যেমন বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পদ্মাপাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।

আরও পড়ুন

নদীভাঙনের কারণে পাড়ের অনেক অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত ভাঙন রোধের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, বসার ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা, আলো ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হলে শয়তানখালীর পদ্মাপাড়টি একটি আকর্ষণীয় বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। এতে পর্যটনের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বাড়তি দামেও মিলছে না গ্যাস, খালি হাতে ফিরছেন ক্রেতা
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দামে ১২ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। আবার কোথাও কোথাও টাকা দিয়েও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে স্বল্প আয়ের পরিবারগুলো। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, ১২ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। তবে মঠবাড়িয়া পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাজার ঘুরে ১ হাজার ৯৫০ থেকে ২ হাজার টাকা বা তার বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি কয়েকটি কোম্পানির গ্যাসের সরবরাহেও ঘাটতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ক্রেতা ও বিক্রেতারা। ক্রেতাদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করে কিছু ব্যবসায়ী ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছেন। বাজার তদারকির ঘাটতির সুযোগে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এতে সংসারের ব্যয় বাড়ছে। আবার চাহিদামতো সিলিন্ডার না পেয়ে অনেককে একাধিক দোকানে ঘুরতে হচ্ছে। মঠবাড়িয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা গৃহিণী সালমা আক্তার বলেন, হঠাৎ এলপিজির দাম বেড়ে যাওয়ায় সংসারের খরচ সামলাতে কষ্ট হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দিয়ে তাকে ১২ কেজি ওজনের একটি সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে। ব্যবসায়ী রনি হোসেন বলেন, পাইকারি পর্যায়েই সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। ডিলাররা নির্ধারিত দামে গ্যাস সরবরাহ করলে তারাও কম দামে বিক্রি করতে পারতেন। স্থানীয় খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, গত দুই মাস ধরে তারা বসুন্ধরা গ্যাসের সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। অন্য একটি কোম্পানির সিলিন্ডারও স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ২০০ টাকা বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এ কারণে খুচরা পর্যায়ে দাম বেড়েছে বলে তাদের দাবি। এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতাউর রাব্বি বলেন, সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৮৩৭ টাকায় এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করতে অভিযান চালানো হচ্ছে। বাজার নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। কোথাও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নেওয়ার খবর পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরটিভি/টিআর
বাড়তি দামেও মিলছে না গ্যাস, খালি হাতে ফিরছেন ক্রেতা
তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে সেই অটোরিকশাচালকই, বিস্তারিত জানাল পুলিশ
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া।
তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে সেই অটোরিকশাচালকই, বিস্তারিত জানাল পুলিশ
বাসচাপায় একসঙ্গে প্রাণ গেল শাশুড়ি-পুত্রবধূর
জামালপুরের বকশীগঞ্জে বাসচাপায় শাশুড়ি ও পুত্রবধূর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) ৬টার দিকে ঢাকা-বকশীগঞ্জ মহাসড়কের নিলক্ষিয়া ঠাকুরপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বাসটি জব্দ ও এর হেলপারকে আটক করেছে পুলিশ। নিহতরা হলেন নিলক্ষিয়া ঠাকুরপাড়া গ্রামের উফেজা বেগম (৬৫) ও তার পুত্রবধূ ফরিদা বেগম (৪০)। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা শান্তি পরিবহন নামের একটি বাস বকশীগঞ্জ উপজেলার ঠাকুরপাড়া হয়ে রৌমারীর দিকে যাচ্ছিল। এ সময় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন শাশুড়ি উফেজা বেগম ও তার পুত্রবধূ ফরিদা বেগম। সকাল ৬টার দিকে বাসটি ঠাকুরপাড়া এলাকা অতিক্রম করার সময় তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর বাসের হেলপার মহিউদ্দিনকে আটক করা হয়। খবর পেয়ে বকশীগঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসটি জব্দ করে। শাশুড়ি ও পুত্রবধূর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মকবুল হোসেন জানান, বাসটি জব্দ ও এর হেলপার মহিউদ্দিনকে আটক করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আরটিভি/টিআর
সাতসকালে বাসচাপায় প্রাণ গেল শাশুড়ি-পুত্রবধূর
শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ মানুষ হতে হবে: খাদ্যমন্ত্রী
শিক্ষার্থীদের শুধু ভালো ফলাফল ও সনদ অর্জনের পেছনে ছুটলেই চলবে না; বরং নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ মানুষ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে মানিকগঞ্জের মুন্নু ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, শিক্ষার মূল লক্ষ্য শুধু জ্ঞান অর্জন নয়, বরং একজন যোগ্য ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা। শিক্ষার্থীদের মেধা, দক্ষতা ও মূল্যবোধ ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে। তাই পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করাই যথেষ্ট নয়; তোমাদের সৎ, দক্ষ, মানবিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। শিক্ষা যেন কেবল সনদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং তা যেন মানুষের চিন্তাশক্তি, বিবেক ও দায়িত্ববোধকে সমৃদ্ধ করে। তিনি আরও বলেন, আধুনিক বিশ্বে নিজেদের যোগ্য মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞানের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত দক্ষতা, সৃজনশীলতা, শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন করতে হবে। তোমাদের বড় স্বপ্ন দেখতে হবে এবং সততা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে যেতে হবে। ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিবেদিত মানসিকতাও গড়ে তুলতে হবে। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. জহিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. খাইরুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহররম আলী। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান সমন্বয়কারী রহমত আরা লস্করার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহমুদ হাসান, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির জেলা শাখার সাবেক সভাপতি মতিউর রহমান, প্রেসক্লাবের সহসভাপতি শাহজাহান বিশ্বাস, যুগ্ম সম্পাদক রিপন আনসারী এবং জেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী পরিদর্শক মিনহাজ মিয়া। প্রতিষ্ঠানের মিলনায়তনে আয়োজিত এ নবীনবরণ অনুষ্ঠানে নাচ, গান, ফ্যাশন শো ও আলোচনা পর্বের মাধ্যমে নতুন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়া হয়। এ সময় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/টিআর
শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ মানুষ হতে হবে: খাদ্যমন্ত্রী
অন্যের স্ত্রীকে ঘরে নিয়ে ৭ মাসের ‘সংসার’ মসজিদের ইমামের
বরিশালের বাকেরগঞ্জে এক বিবাহিত নারীকে সঙ্গে নিয়ে প্রায় সাত মাস ধরে বসবাসের অভিযোগ উঠেছে একটি মসজিদের ইমাম আব্দুল্লাহ তুহিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা ওই ইমাম ও নারীকে আটক করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নারীর পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করে। তবে কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ না পাওয়ায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। বুধবার (৭ অক্টোবর) বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ তুহিন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে তুহিনের সঙ্গে পাশের গ্রামের এক নারীর বিয়ে হয়। পরে পটুয়াখালীর মজিদপুর গ্রামের একটি মসজিদে ইমামতি করার সময় ওই মসজিদের পাশের বাড়ির এক বিবাহিত নারীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রথম স্ত্রীর বড় ভাইয়ের অভিযোগ, এর আগে মজিদপুর এলাকার একটি মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালন করার সময় তুহিন ওই মসজিদের পাশের বাড়ির বিবাহিত নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ওই নারী তার স্বামীর সংসার ছেড়ে তুহিনের সঙ্গে চলে যান বলে দাবি করেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে ওই নারীর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। পরে বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসে তুহিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে পরিবারের অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় সাত মাস আগে ওই নারীকে সঙ্গে নিয়ে তুহিন বাকেরগঞ্জের দাড়িয়াল ইউনিয়নে আসেন এবং এক মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব নেন। এরপর তারা স্থানীয় একটি ভাড়া বাসায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করছিলেন বলে জানা গেছে। বুধবার বিষয়টি জানাজানি হলে তুহিনের প্রথম স্ত্রীর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা ওই ভাড়া বাসায় গিয়ে দুজনকে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে দাড়িয়াল সরসী পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন। দাড়িয়াল সরসী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ আব্দুস সালাম জানান, স্থানীয়রা মসজিদের ইমাম ও এক নারীকে আটক করার পর পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। পরে কলাপাড়া থেকে আসা ওই নারীর পরিবারের সদস্যদের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হয়। উভয় পক্ষের কোনো লিখিত অভিযোগ না থাকায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল্লাহ তুহিন দাবি করেন, নারীর সঙ্গে তার মৌখিকভাবে বিয়ে হয়েছে। তবে এ সময় তিনি বিয়ের কোনো কাবিননামা বা নিবন্ধনসংক্রান্ত কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে একজন মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও আইনগত অবস্থান নিশ্চিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। আরটিভি/টিআর
অন্যের স্ত্রীকে ঘরে নিয়ে ৭ মাসের ‘সংসার’ মসজিদের ইমামের
আরও পড়ুন
পাশের দেশ নাখোশ হবে, তাই সমুদ্র থেকে গ্যাস তোলা হয়নি: আবদুস সালাম
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ঝড়ের শঙ্কা, দুই সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত
গভীর সমুদ্র থেকে ৮ জেলেকে জীবিত উদ্ধার
পানির ৩৩ ফুট গভীরেও বিদ্যুৎ উৎপাদনে সফল চীনা সোলার প্যানেল