ঢাকা শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

ঢেউয়ে মাতছে পদ্মাপাড়, মিলছে সমুদ্রের অনুভূতি

সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪২ এএম
পদ্মাপাড়। ছবি: আরটিভি

ছুটির দিন এলেই ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের শয়তানখালী এলাকায় পদ্মা নদীর পাড়ে বাড়তে থাকে দর্শনার্থীদের ভিড়। নদীর বিশাল জলরাশি, ঢেউয়ের মৃদু গর্জন, খোলা আকাশ ও নির্মল বাতাস উপভোগ করতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন নানা বয়সী মানুষ। পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব কিংবা দলবেঁধে এসে এখানে সময় কাটাচ্ছেন তারা।

শুক্রবারসহ বিভিন্ন ছুটির দিনে বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পদ্মাপাড়ে দেখা যায় দর্শনার্থীদের সরব উপস্থিতি। কেউ নদীর পাড়ে বসে আড্ডায় মেতে উঠছেন, কেউ ঢেউয়ের সঙ্গে ছবি তুলছেন, আবার কেউ শিশুদের নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। বিকেলের মিষ্টি রোদ আর নদীর ওপর বাতাসে দুলতে থাকা ঢেউ মিলে তৈরি করে মনোরম এক পরিবেশ।

বিশেষ করে বিকেলের দিকে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। বিস্তীর্ণ পদ্মার জলরাশি, ঢেউয়ের শব্দ ও চারপাশের খোলা প্রকৃতি অনেকের কাছেই সমুদ্রসৈকতের অনুভূতি তৈরি করে। ফলে স্থানীয়দের কাছে জায়গাটি ক্রমেই বিনোদনের জনপ্রিয় স্থান হয়ে উঠছে। দর্শনার্থীদের অনেকেই মুঠোফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সুন্দর মুহূর্তগুলো স্মৃতি হিসেবে ধরে রাখছেন।

দর্শনার্থীদের ঘিরে পদ্মার পাড়ে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি অস্থায়ী দোকান। এসব দোকানে চা, ঝালমুড়ি, ফুচকা, বিভিন্ন মুখরোচক খাবারসহ শিশুদের খেলনা ও নানা পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। ছুটির দিনের দর্শনার্থীদের ভিড়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় কিছু মানুষের বাড়তি আয়ের সুযোগও তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, শয়তানখালী এলাকায় পদ্মার পাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দিন দিন মানুষের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে ছুটির দিনে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানুষ এখানে ঘুরতে আসেন। পদ্মার বিশাল জলরাশি ও ঢেউ দেখে অনেকেই জায়গাটিকে ‘গরিবের সমুদ্র’ বলে অভিহিত করেন।

পরিবারসহ বেড়াতে আসা দর্শনার্থী বিশ্বজিৎ শীল (৪৫) বলেন, এখানে এসে মনে হচ্ছে যেন সমুদ্রের পাড়ে এসেছি। নদীর বিশালতা ও ঢেউ খুবই সুন্দর। পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর জন্য জায়গাটি বেশ ভালো।

আরেক দর্শনার্থী আবুল বাশার (৬০) বলেন, ছুটির দিনে পরিবার নিয়ে পদ্মার পাড়ে ঘুরতে এসে খুব ভালো লাগছে। নদীর বিশালতা, ঢেউ আর খোলা বাতাসে কিছু সময় কাটালে মনে হয় যেন সমুদ্রের পাড়ে আছি। তবে নদীভাঙনের কারণে এখানকার সৌন্দর্য দিন দিন নষ্ট হচ্ছে। ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলে শয়তানখালীর পদ্মাপাড়টি আরও সুন্দর ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।

তবে মনোরম এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝেও রয়েছে নদীভাঙনের আতঙ্ক। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিবছর পদ্মার ভাঙনে শয়তানখালী এলাকার নদীতীরের বিভিন্ন অংশ বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙনে একদিকে যেমন বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পদ্মাপাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।

আরও পড়ুন

নদীভাঙনের কারণে পাড়ের অনেক অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত ভাঙন রোধের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, বসার ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা, আলো ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হলে শয়তানখালীর পদ্মাপাড়টি একটি আকর্ষণীয় বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। এতে পর্যটনের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সাজেকে দু’পক্ষের তীব্র গোলাগুলি, আতঙ্কে বাসিন্দারা
রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে জেএসএস ও ইউপিডিএফের সশস্ত্র কর্মীদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে এ সংঘর্ষ চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে কলাবুনিয়া এলাকার দুর্গম পাহাড়ে এ গোলাগুলি শুরু হয়। এতে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর জেরেই শনিবার দুপুরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। উভয়পক্ষের মধ্যে থেমে থেমে গুলিবিনিময় হয়। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন বলেন, শনিবার দুপুর ১টা থেকে সাজেকের কলাবুনিয়ার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় জেএসএস ও ইউপিডিএফের মধ্যে গোলাগুলি হয়। এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ও যৌথ নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এদিকে গোলাগুলির ঘটনায় আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত গোলাগুলিতে হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আরটিভি/এসআর
সাজেকে দু’পক্ষের তীব্র গোলাগুলি, আতঙ্কে বাসিন্দারা
লোনাপানি কেন্দ্রের গবেষণা কার্যক্রম পরিদর্শন করলেন মহাপরিচালক
খুলনার পাইকগাছায় বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) লোনাপানি কেন্দ্রের চলমান গবেষণা কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক ড. মো. লতিফুল ইসলাম। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে তিনি কেন্দ্রের বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্প ও চলমান কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। এ সময় গবেষণার অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। পরিদর্শনকালে মহাপরিচালক ড. মো. লতিফুল ইসলাম বলেন, লোনাপানি কেন্দ্রের চলমান গবেষণাগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে অদূর ভবিষ্যতে দেশের মৎস্য চাষে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। মৎস্যসম্পদের টেকসই উন্নয়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং চাষিদের জন্য নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে গবেষণার বিকল্প নেই। এ জন্য গবেষণার মান ও গতি বাড়ানোর পাশাপাশি উদ্ভাবিত প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি গবেষণা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ করতে বিজ্ঞানীদের বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে চলমান গবেষণার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং নতুন নতুন গবেষণার মাধ্যমে দেশের মৎস্য খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় মহাপরিচালকের সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) ড. মো. আমিরুল ইসলাম। আরও উপস্থিত ছিলেন লোনাপানি কেন্দ্রের কেন্দ্রপ্রধান ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আজহার আলী, ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. দেবাশীষ কুমার মণ্ডল, ড. গোলাম সাজেদ রিয়ার ও ড. নূর-এ-রওশন। এ ছাড়া বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা, সায়মা সুলতানা সোনিয়া, মাসুদুর রহমান ও ফাল্গুনী বিশ্বাস, কম্পিউটার অপারেটর রাশেদুল হাসান, ক্ষেত্র সহকারী আব্দুল মতিন, খন্দকার সাকির হোসেন, মুশফিকুর রহমান ও সুকেশ বিশ্বাস, হিসাবরক্ষক শাহিনুর রহমান এবং কেয়ারটেকার হাশেম আলী উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, মহাপরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণের পর ড. মো. লতিফুল ইসলামের এটি লোনাপানি কেন্দ্রের প্রথম পরিদর্শন। তবে এ কেন্দ্রের সঙ্গে তার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার আগে তিনি এ কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি এ কেন্দ্রের গবেষণা কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও গবেষণায় অবদানের মাধ্যমে কেন্দ্রটির গবেষণা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। দীর্ঘদিনের কর্মস্থল লোনাপানি কেন্দ্রে মহাপরিচালক হিসেবে তার এ সফরকে কেন্দ্রের গবেষণা কার্যক্রমের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, তার দিকনির্দেশনা ও অভিজ্ঞতার আলোকে ভবিষ্যতে এ কেন্দ্রের গবেষণা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং দেশের মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। আরটিভি/এমএইচজে
লোনাপানি কেন্দ্রের গবেষণা কার্যক্রম পরিদর্শন করলেন মহাপরিচালক
এইচএসসিতে কুড়িগ্রামের ৯ কলেজে পাস করেননি কেউ
কুড়িগ্রামে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। জেলার ৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৭০ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেও অকৃতকার্য হয়েছেন সবাই। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আট জেলার মধ্যে একক জেলা হিসেবে কুড়িগ্রামেই সবচেয়ে বেশি ৯টি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল করার ঘটনা ঘটেছে।
এইচএসসিতে কুড়িগ্রামের ৯ কলেজে পাস করেননি কেউ
মাইকে ঘোষণা দিয়ে ব্যাঙের মোড়ে দুই গ্রামবাসীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
শেরপুর সদরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে তিন পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। 
মাইকে ঘোষণা দিয়ে ব্যাঙের মোড়ে দুই গ্রামবাসীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
কর্ণফুলীর উপর দেশের প্রথম ক্যাবল-স্টেইড সেতু নির্মাণের উদ্যোগ
খরস্রোতা কর্ণফুলী নদীর উপর নির্মিত হতে যাচ্ছে দেশের প্রথম চার লেনের ‘ক্যাবল-স্টেইড’ সেতু। উঁচু পাইলন বা স্তম্ভ থেকে টানা ইস্পাতের তারের সাহায্যে সেতুর মূল কাঠামো ধরে রাখা হবে। দেখতে অনেকটা বীণার তারের মতো এই আধুনিক সেতু বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ।
কর্ণফুলীর উপর দেশের প্রথম ক্যাবল-স্টেইড সেতু নির্মাণের উদ্যোগ
আরও পড়ুন
ট্যাংকার থেকে তেল ছড়িয়ে পড়ায় সমুদ্রসৈকত বন্ধ ঘোষণা আরব আমিরাতের
বঙ্গোপসাগরে প্রবল হচ্ছে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা, চার সমুদ্র বন্দরে সতর্কতা
কক্সবাজার সৈকত বেলাভূমিতে ৫০ ফুটের প্লাস্টিক দানব
পাশের দেশ নাখোশ হবে, তাই সমুদ্র থেকে গ্যাস তোলা হয়নি: আবদুস সালাম