
নির্মাণের প্রায় ৪ বছরেও চালু হয়নি বান্দরবানের মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস)। যার ফলে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ভবনের অনেক কক্ষ এবং সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীরা।
তিন একর জায়গাজুড়ে গড়ে তোলা এই ক্যাম্পাসে রয়েছে ৮টি ভবন। পার্বত্য এলাকায় শিক্ষার মানোন্নয়নে এখানে রয়েছে স্টাফ কোয়ার্টার, শিক্ষক ডরমেটরি, ছাত্র-ছাত্রীদের আবাসন ব্যবস্থাসহ নানা সুযোগ সুবিধা। তবে প্রশাসনিক নানা জটিলতায় এখনও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করে কর্তৃপক্ষ ম্যাটসের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। অভ্যন্তরীণ অভ্যন্তরীন সড়ক ও এলাকাগুলো পরিণত হয়েছে জঙ্গলে। ভেতরে ও বাইরে ভরে গেছে ময়লা আবর্জনায়। বিদ্যুতের বাতি বসানোর জায়গায় বেঁধেছে পাখির বাসা। তবে এসব ভবনে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পদচারণায় প্রাণবন্ত থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে নির্জন ক্যাম্পাসের সবকটি ভবনই পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে এবং গরু-ছাগল ও লাকড়ী সংগ্রহকারীদের পদচারণা দেখা গেছে। ফলে জনমানবশূন্য ক্যাম্পাসটিতে তৈরি হয়েছে অনেকটা ভুতুড়ে পরিবেশ। কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে নষ্ট হচ্ছে সরকারের এই বিশাল সম্পদ।
২০২১ সালে বান্দরবানের রেইচা এলাকায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ৩০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০২৩ সালে নির্মাণকাজ শেষ হলেও চালু হয়নি প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম। তবে সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্জন ক্যাম্পাসের সবকটি ভবন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ক্যাম্পাসে নাইটগার্ড হিসেবে একজন বৃদ্ধ রয়েছে। পাশাপাশি গরু-ছাগল ও কিছু লাকড়ী সংগ্রহকারী মানুষের পদচারণা দেখা গেছে। এর বাইরে কোনো মানুষ চোখে পড়েনি। জনমানবশূন্য ক্যাম্পাসটিতে বিদ্যুতের আলো না থাকায় অনেকটা ভুতুড়ে পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কোনো ভবনেই আসবাব দেখা যায়নি।
বৃদ্ধ নাইটগার্ড জানান, তিনি ৩ বছর ধরে ভবনটিতে কর্মরত রয়েছে। কার্যক্রম না চলায় ভবনের অনেকগুলো কক্ষ এবং সরকারি সম্পদ এভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের মতে, ম্যাটসটি নির্মিত হলেও এখনো কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। তবে ট্রেনিং স্কুল প্রতিষ্ঠানটি চালু হলে পাহাড়ের শিক্ষার্থীরা নিজ এলাকায় ৪ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা কোর্সের সুযোগ পাবে।
তাদের মতে, এই এলাকার অনেক ছেলে মেয়ে এখানে পড়ালেখার সুযোগ পেলে এবং দেশের স্বাস্থ্য সেবায় বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি চালুর জন্য দাবি জানান ছাত্র-ছাত্রীরা।
অভিভাবকদের মতে, ম্যাটসটি নির্মিত হলেও এখনো কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। পাহাড়ের ছেলে-মেয়েরা অনেক আশা নিয়ে আছে নিজ জেলায় কর্মমুখী শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে। তবে যারা খুব কাছে থেকে মেডিকেলে পড়াশোনা করবেন তারা আজ সেই সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দীর্ঘ ৪ বছরের প্রতিষ্ঠানটি চালু না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা চরম হতাশায় ভুগছেন। তবে ম্যাটসের বর্তমানে কোনো গুরুত্ব নেই। যদি এটি মেডিকেল কলেজ হিসেবে চালু করা হয়, তাহলে তা অধিক কার্যকর হবে মনে করেন স্থানীয় অভিভাবকরা।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান অংসাহ্লা মারমার মতে, তিন বছর আগেই কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু এখনো প্রতিষ্ঠানটি চালু করা হয়নি। ফলে পাহাড়ি এলাকার ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষা ক্ষেত্রে পিছিয়ে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত চালু হলে পাহাড়ের ছাত্র-ছাত্রীদের বাহিরে গিয়ে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন হবে না। তাই দ্রুত প্রতিষ্ঠানটি চালুর দাবি জানান স্থানীয় এই জনপ্রতিনিধি।
অপরদিকে কক্সবাজার স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের উপসহকারী জাকিয়া নাসরিন মুঠোফোনে জানান, ২০২১ সালে ম্যাটসের অবকাঠামো নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। ২০২৩ সালে নির্মাণকাজ শেষ হলেও জনবল নিয়োগ ও আসবাবপত্র না থাকায় হস্তান্তর হয়নি।
বান্দরবানে কর্মরত স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. আব্দুল রউফ জানান, ম্যাটস নির্মাণের বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।
আরটিভি/এমএইচজে


