ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

মসজিদ কমিটির দ্বন্দ্বে বাড়িতে ঢুকে যুবদল কর্মীকে কুপিয়ে জখম, মা-বোন-স্ত্রীকে বেধড়ক মারধর

সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৭ পিএম
হামলার পর রক্তমাখা ঘরের চিত্র। ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে মসজিদ কমিটি নিয়ে বিরোধের জের ধরে মোহাম্মদ হোসেন নামের এক যুবদল কর্মী ও তার পরিবারের মা, বোন ও স্ত্রীকে বেধড়ক কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। এসময় তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর, লুটপাট করে। হামলার সময় ৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণেরও ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বস্তল উত্তরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত মোহাম্মদ হোসেনকে মূমূর্ষ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়াও স্ত্রী, মা ও বোনকে পিটিয়ে আহত করা হয়। এঘটনায় সোনারগাঁও থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। খবর পেয়ে পুলিশ রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বস্তল উত্তরপাড়া জামে মসজিদের বর্তমান সভাপতি পদে যুবদল কর্মী মোহাম্মদ হোসেনের শশুর বিএনপি নেতা মো. আমানউল্লাহ মিয়া রয়েছেন। কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কমিটির সভাপতি পরিবর্তন করতে চান একই এলাকার জালালউদ্দিনের ছেলে বিএনপি কর্মী মাসুদ মিয়া, তার ভাই রোকন উদ্দিন ও মামুন মিয়া।

এ নিয়ে গত শুক্রবার জুমা নামাজ শেষে রোকন উদ্দিনের সঙ্গে দাইয়ানের ছেলে মোহাম্মদ হোসেনের কথা কাটাকাটি হয়। এসময় মোহাম্মদ হোসেন রোকন উদ্দিনকে থাপ্পড় দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় রোকনউদ্দিনের নেতৃত্বে বস্তল এলাকার মাসুদ মিয়া, মামুন মিয়া, শেখ সাদি, আরিফ হোসেন বহিরাগত সন্ত্রাসী আলী হোসেনের নেতৃত্বে আগ্নেয়াস্ত্র, রাম দা, হসিস্টিক, লোহার রড নিয়ে মোহাম্মদ হোসেনের বাড়িতে হামলা করে। এসময় তিন রাউন্ড গুলি ছোড়ে আতংঙ্ক সৃষ্টি করে হামলাকারীরা। ঘরে ঢুকে ফ্রিজ, টিভি, আলমারী, আসবাবপত্রসহ তিনটি কক্ষে ব্যাপক ভাংচুর করা হয়। এসময় মোহাম্মদ হোসেনকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে জখম করে তারা। এছাড়াও স্ত্রী তুলি আক্তার, মা নূর বানু ও বোন ইয়াসমিনকে পিটিয়ে আহত করে। আহতদের স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

যুবদল কর্মী মোহাম্মদ হোসেনের বোন আহত ইয়াসমিন জানান, সন্ত্রাসীরা তাদের বাড়িতে এসে গুলি করে আতংঙ্ক সৃষ্টি করে। ঘরে ঢুকে তার ভাই মোহাম্মদ হোসেনকে কুপিয়ে পেটের নারী ভূরি বের করে ফেলে। তাদের ওপরও হামলা করে পিটিয়ে আহত করে। এক পর্যায়ে হামলাকারীরা ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর ও বাড়িতে থাকা নগদ ৫ লাখ লাখ টাকা ও আনুমানিক ১০ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়।

তালতলা বাজার তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সেলিম মিয়া জানান, হামলা ও গুলি বর্ষণের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। হামলাকারীরা ঘরে ব্যাপক ভাংচুর করেছেন। এক যুবদল কর্মীকে কুপিয়েছে। মূমূর্ষ অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তালতলা তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক জসিমউদ্দীন জানান, হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। তবে ভূক্তভোগী পরিবার গুলি বর্ষণের কথা বলেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

সোনারগাঁও থানার ওসি আব্দুল বারিক বলেন, হামলা ভাংচুরের ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। হামলার সঙ্গে জড়িতদের পুলিশ গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
কামালের নামে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা করে ফেঁসে গেলেন নারী 
নেত্রকোনায় মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করে এক ব্যক্তিকে কারাভোগে বাধ্য করার দায়ে লিপি আক্তার (৩৯) নামের এক নারীকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে নেত্রকোনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ কে এম এমদাদুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নুরুল কবির রুবেল রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত লিপি আক্তার আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি জেলার বারহাট্টা উপজেলার বিক্রমশ্রী গ্রামের বাসিন্দা। আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে একই গ্রামের কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন লিপি আক্তার। মামলায় নিজেকে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা দাবি করলে পুলিশ কামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। পরে প্রায় দুই মাস কারাগারে থাকতে হয় তাকে। লিপি আক্তারের সন্তান জন্মের পর শিশুটির পিতৃত্ব নির্ধারণে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে কামাল উদ্দিনকে শিশুটির জৈবিক পিতা হিসেবে শনাক্ত করা হয়নি। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৯ সালে আদালত ধর্ষণের অভিযোগ থেকে কামাল উদ্দিনকে খালাস দেন। এরপর মিথ্যা অভিযোগে মামলা করে তাকে কারাভোগে বাধ্য করার প্রতিকার চেয়ে ২০২০ সালে লিপি আক্তারের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন কামাল উদ্দিন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত লিপি আক্তারকে দোষী সাব্যস্ত করে এ দণ্ডাদেশ দেন। আরটিভি/এসকে
কামালের নামে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা করে ফেঁসে গেলেন নারী 
চার মাস ধরে ছাত্রকে বলাৎকার, প্রধান শিক্ষককে বেধড়ক পিটুনি
সিলেটের গোলাপগঞ্জে এক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
চার মাস ধরে ছাত্রকে বলাৎকার, প্রধান শিক্ষককে বেধড়ক পিটুনি
চুল কাটতে বলায় পরীক্ষার হলে কলম দিয়ে শিক্ষককে রক্তাক্ত করল ছাত্র
চট্টগ্রামের রাউজানে পরীক্ষার হলে চুল লম্বা রাখার কারণ জানতে চেয়ে শাসন করায় এক শিক্ষককে কলম দিয়ে একাধিক আঘাত করে রক্তাক্ত করেছে নবম শ্রেণির এক ছাত্র। আহত শিক্ষককে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁর মাথায় সেলাই দিতে হয়।
চুল কাটতে বলায় পরীক্ষার হলে কলম দিয়ে শিক্ষককে রক্তাক্ত করল ছাত্র
বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধ, প্রাণ গেল একজনের
নওগাঁর মান্দায় বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে শহিদুল ইসলাম (৪২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম ও স্ত্রী সাথী আক্তার আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সাইফুল ইসলামের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে জানা গেছে।
বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধ, প্রাণ গেল একজনের
সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়, কে এই ‘বাংলার কৃষ’
দিনে জীবিকার তাগিদে কাজ করেন এসএস পাইপ মিস্ত্রি হিসেবে। আর অবসর পেলেই মেতে ওঠেন সুপারহিরো হওয়ার স্বপ্ন পূরণের সাধনায়। বোনের পুরোনো বোরকাকে কৃষের পোশাকে রূপ দিয়ে নানা কসরত ও স্টান্ট দেখানোর চেষ্টা করেন তিনি।
সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়, কে এই ‘বাংলার কৃষ’
আরও পড়ুন
বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য জহুরুলের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক
বাড়িতে হামলা চালিয়ে বিএনপি কর্মীকে হত্যা
রাজধানীতে বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা
বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার পর হাত কেটে নিলো কারা?