
নামের বানান ও ঠিকানার আংশিক মিলের কারণে দিনাজপুরের কাহারোলে চেক জালিয়াতি মামলার আসামি ভেবে মাহবুর রহমান (৫৬) নামে এক স্কুলকর্মীকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। গভীর রাতে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তারের পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে আদালত থেকে জামিন নিয়ে বাড়ি ফেরেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত দুইটার দিকে কাহারোল উপজেলার পৌরিয়া গ্রামের বাড়ি থেকে মাহবুরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মাহবুর বীরগঞ্জ উপজেলার জগদল উচ্চবিদ্যালয়ের অফিস সহকারী।
পুলিশের দাবি, পরোয়ানায় থাকা প্রকৃত আসামি মাহাবুর রহমানের নাম, বাবার নাম ও ঠিকানার সঙ্গে তার তথ্যের মিল থাকায় এ ভুল হয়েছে।
কাহারোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিমুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রকৃত আসামির নাম, পিতার নাম ও ঠিকানার সঙ্গে মিল থাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। ওয়ারেন্টের কাগজে মায়ের নাম কিংবা কোনো ধরনের ফোন নম্বর থাকে না। এ কারণে অধিকতর যাচাই-বাছাই সম্ভব হয়নি।’
ভুক্তভোগীর ছেলে নাঈম ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, মামলার প্রকৃত আসামির নাম মাহাবুর রহমান, আর তার বাবার নামও মাহবুর রহমান। প্রকৃত আসামির বয়স ৩২ বছর হলেও তার বাবার বয়স ৫৬ বছর।
তিনি বলেন, ‘শুধু নাম, পিতার নাম ও আংশিক ঠিকানা মিলে যাওয়ার কারণে একজন নির্দোষ মানুষকে রাতের আঁধারে ধরে নিয়ে যাওয়া হলো। পুলিশ চাইলে আরও যাচাই করে নিশ্চিত হতে পারত।’
মামলার বাদী সেলিম মঞ্জুর জানান, প্রকৃত আসামি মাহাবুর রহমান তার পূর্বপরিচিত। গত বছর তার কাছ থেকে সাত লাখ টাকা ধার নিয়ে ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন মাহাবুর। টাকা পরিশোধ না করায় গত ১ এপ্রিল দিনাজপুর আদালতে চেক জালিয়াতির মামলা করেন তিনি। পরে মাহাবুরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।
ভুল গ্রেপ্তারের ঘটনায় সামাজিকভাবে হয়রানি ও সম্মানহানির অভিযোগ করে নাঈম জানান, এ বিষয়ে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করবেন তারা।
আরটিভি/এমএইচজে




